না.গঞ্জে এখনো গুরুত্বপূর্ণ ” কিংমেকার” মোহাম্মদ আলী

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

এক সময়ে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ছিলেন মোহাম্মদ আলী। স্থানীয় যে কোন নির্বাচনে তাঁর ছোঁয়া থাকতো। নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিআই এর নির্বাচনেও ছিল তাঁর কদর। প্যানেল গঠনের ক্ষেত্রে মোহাম্মদ আলীর হস্তক্ষেপ ছাড়া জয় অসম্ভব মনে করতেন নেতারা। তিনি নিজেও ছিলেন এর সহ সভাপতি। স্বল্পভাষী এ নেতা নারায়ণগঞ্জের সংসদ নির্বাচনগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতেন। তবে কয়েক বছর ধরেই তিনি এসব থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে শুরু করেন। কিন্তু এখনো জনপ্রিয়তা কমেনি।

কেউ কেউ তাকে ডাকেন কিং মেকার। পর্দার আড়াল থেকে তিনি নেতা বানান। তাঁর দরবারে সকল শ্রেণির মানুষের পদচারণা। বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি সবদলের লোকজনদের অনেকেই মোহাম্মদ আলীকে অভিভাবক মানেন। অনেকেই তাকে ডাকেন পীর সাহেব হিসেবে।

গত ১৫ জুন তিনি ব্রেন স্ট্রোক করেন। এখন ভর্তি হাসপাতালে। তার জন্য দোয়া প্রার্থনার অনুষ্ঠানগুলো সকলকে নাড়া দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্নস্থানে বিভিন্ন ব্যক্তি সংগঠন আয়োজন করছেন এসব দোয়ার। তাদের কথা একটাই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে মোহাম্মদ আলী বিরল। সকলের সঙ্গে এভাবে সুসম্পর্ক রেখে অভিভাবক বনে যাওয়াটা রীতিমত অবাক হওয়ার বিষয়।


১৫ জুন দুপুর দেড়টার দিকে তিনি হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ্যতা বোধ করলে তাৎক্ষনিকভাবে তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর সিটিস্ক্যান করে তার ব্রেন স্টোকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর পর তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক তাকে ‘এমআরআই’ পরীক্ষা করান। এখন তিনি হাত পা নড়াতে পারছেন। কথা বলছেন।

১৬ জুন বিকেলে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কমান্ডের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা ও সহকর্মীর অসুস্থতায় সেলিম ওসমান বক্তব্য রাখতে গিয়ে বার বার আবেগতাড়িত হয়ে পড়ছিলেন। তার বক্তব্যে কাঁদো কাঁদো ভাব প্রকাশ পাচ্ছিল। কষ্ট হয়ে যাচ্ছিল নিজেকে কন্ট্রোল রাখতে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিম ওসমান বলেন, আপনারা সকলেই মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর জন্য দোয়া করবেন। আশা করি তিনি অতিদ্রুত তিনি আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। আবারও আমাদের সাথে সেই আড্ডায় মেতে উঠবেন। খাওয়া ধাওয়া করবেন। আজ আমরা কাচ্চি বিরানী খেতে পারলাম না। মোহাম্মদ আলী ফিরে আসলে সকলেই একসাথে মিলে কাচ্চি বিরানী খাবো।

মোহাম্মদ আলী এক সময়ে বিএনপির সদস্য ছিলেন। তিনি দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সহসভাপতি, ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে নির্বাচনে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধরগঞ্জ) আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত একটি নাম হলো মোহাম্মদ আলী। তিনি যে পক্ষেই যান সে পক্ষেরই কপাল খুলে। অনেক রাজনীতিককে নেতা বানানো, উত্থানের পেছনে কাজ করা এ ব্যক্তি দেশের গুরুত্বপূর্ণদের একজন। সাম্প্রতিক অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জের প্রায় প্রত্যেকটি নির্বাচনেই মোহাম্মদ আলীর কেরামতি রয়েছে। আর তার এই কেরামতি প্রকাশ পেয়েছে ওসমানের পরিবারের সদস্যদেরকে ঘিরেই। নির্বাচন সহ নানা ইস্যুতে ওসমান পরিবারের সদস্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে দেখা গেছে তাকে।

জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনে ওসমান পরিবারের সদস্য সেলিম ওসমানের পক্ষে সরাসরি মাঠে নামেন মোহাম্মদ আলী এবং বিএনপির ভোটারদের ও নেতাকর্মীদেরকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বিএনপির এই সাবেক সাংসদ কাজ করে গেছেন। একই সাথে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন সেলিম ওসমান।

পরর্বীতের ২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মোহাম্মদ আলী ফের আলোচনায় আসেন। কারণ ক্লাবের বর্তমান সভাপতি ও ভোটে নির্বাচিত সভাপতি প্রার্থী তানভীর আহমেদ টিটু এমপি শামীম ওসমানের শ্যালক। তাঁর পক্ষে কাজ করেন সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান। তবে এ দুইভাইকে এবার অনেকটাই ব্যাকফুটে রেখে সামনে ও আড়ালে থেকে পুরো কারিশমা দেখান মোহাম্মদ আলী। সরাসরি মাঠে নামেন টিটুর পক্ষে। বিনিময়ে জিতেছেন তিনি নিজে।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ওসমান পরিবারের দুই সদস্য যথাক্রমে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের পক্ষে মাঠে নামেন মোহাম্মদ আলী। অনেকটা আড়ালে থেকেই ওসমান পরিবারের এই দুই সংসদকে জয়ী করার পক্ষে কাজ করেন তিনি। কখনও কখনও প্রত্যক্ষভাবেও কাজ করেছেন। ফলশ্রুতিতে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে জয়ী হয় তাদের।

নারায়ণগঞ্জে বিগত দিনে অনেক রাজনীতিকের উত্থান এ মোহাম্মদ আলীর হাত ধরে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই এর নির্বাচনেও কুশীলব হিসেবে কাজ করেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারীর বিতর্কিত নির্বাচনেও তিনি ছিলেন এমপি। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে ভোটের
মনোনয়ন নিশ্চিত করে আলোচনার চূড়ায় উঠেন মোহাম্মদ আলী। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় লোকজন ও নেতাকর্মীদের রয়েছে সু সম্পর্ক।

সূত্রঃ নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin