নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অপরাজিত তোলারামের মুনা

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

সারাদেশে সংঘটিত ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও নিপীড়নের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে লাগাতার সকাল-সন্ধ্যা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে কলেজছাত্রী ফারহানা মানিক মুনা। শুরুতে চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একা অবস্থান নিলেও এখন সে একা নয়। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে মুনার প্রতিবাদে সঙ্গী হয়েছেন অনেকেই। সাধারণ শিক্ষার্থী, কবি, সামাজিক, সংস্কৃতি কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ তার সঙ্গে অবস্থান নিচ্ছেন। জোরালে কণ্ঠে আওয়াজ তুলছেন ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে। মুখে কালো কাপড় বেঁধে, প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তারা।

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় তখন সারাদেশে নিন্দার ঝড় বইছিল। এমন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করেবর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিও। ঘটনার ৩২ দিন পর গত ৪ অক্টোবর এই ঘটনা প্রকাশ্যে এলে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পরদিন ৫ অক্টোবর সকালে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেয় সরকারি তোলারাম কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহানা মানিক মুনা। ওইদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তার এই আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন মুনা।

টানা ছয়দিন অবস্থান কর্মসূচির পর গতকাল অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এই কলেজ ছাত্রী। কথা বলতে পারছিলেন না তিনি। খুদে বার্তার মাধ্যমে ফারহানা মানিক বলেন, দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন, হত্যা সংগঠিত হচ্ছে। একের পর এক ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এর কোন বিচার হচ্ছে না। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মাত্রা বাড়ছে। একজন শিক্ষার্থী এবং নারী হিসেবে এইসব অপরাধের বিচারের দাবিতে অবস্থান নিতে সবাইকে আহ্বান জানাই। আমি জানতাম এই দাবি আমার একার নয়। একই দাবি, একই চাওয়া, একই অভিযোগ আমাদের সবার। শুরুতে একা শুরু করলেও প্রতিদিন বিভিন্নজন সংহতি জানিয়ে প্রতিবাদ করছেন। কেউ গানে, কেউ কবিতায়, কেউবা স্লোগানে তার দাবি জানাচ্ছেন। ছোটবেলায় শ্রেণীকক্ষে একজন শিক্ষার্থী যখন সাহস করে দাঁড়িয়ে যেত, তখন পরপর সব শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে যেত। আমার এই কর্মসূচিতেও আমি তাই উপলব্ধি করছি। সর্বোপরি আমাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা আমাদেরই গড়তে হবে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়ে এই কলেজছাত্রী বলেন, ধর্ষণের সর্বোচ্চ আইন মৃত্যুদ-ের চেয়েও জরুরি যেসব ঘটনা এখনও বিচারাধীন আছে সেগুলো নিষ্পত্তি করা। আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং দোষীদের অতি দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা থাকলে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা এত বৃদ্ধি পেতো না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা শুরু করতে হবে। প্রতিটি জেলাশহরে ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টার স্থাপনের দাবিও জানান ফারহানা মানিক। তিনি বলেন, কোন নারী নির্যাতনের শিকার হলে সে যেন অতি দ্রুত আইনের সহায়তা পেতে পারেন তা রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে।

ফারহানা মানিক মুনার এই আন্দোলনের সঙ্গে শুরুর দিন থেকে রয়েছেন কবি আরিফ বুলবুল। তিনি বলেন, মানুষের ভেতরে অনেক কথা, কষ্ট, প্রশ্ন, অভিযোগ, প্রতিবাদ জমা হয়ে আছে। কিন্তু সংগঠিত না থাকার কারণে এই প্রতিবাদ তার ভাষা পায় না। ফারহানা মানিক সেই প্রতিবাদকে ভাষা দিয়েছে। একা দাঁড়ালেও কিন্তু একা নেই সে। একা মাঠে নামার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই প্রতিবাদের ভাষা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া চাই।

সূত্রঃপ্রেস নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin