নারায়াণগঞ্জের রাস্তায় বেড়েছে ক্ষুধার্ত মানুষ

শেয়ার করুণ

দু’বেলা দু’মুঠো অন্নের সন্ধানে ছুটছে মানুষ। পেটে ক্ষুধার জ্বালা। শহরে ভোটার না হওয়ায় এসব অসহায় দুর্ভাগাদের অনেকের কপালেই জুটছে না কোনো ত্রাণ। আতঙ্ক আর দীর্ঘশ্বাসে কাটছে তাদের করোনা কাল।

হ্যাঁ, নারায়াণগঞ্জে মোটেও ভালো নেই কর্মহীন নিম্ন আয়ের অসহায় মানুষ। কাজ নেই, রোজগার নেই, তাই ঘরে খাবারও নেই।

এ অবস্থায় ক্ষুধার যন্ত্রণায় ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসছেন তারা।নগরীর বিভিন্ন সড়কে সকাল-সন্ধ্যা তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করছেন ত্রাণের আশায়।তীব্র তাপদাহ,বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তারা খাদ্য সহায়তা পেতে অপেক্ষা করছেন।

বস্তিবাসী বৃদ্ধ, অসুস্থ মানুষ আর নারীদের সঙ্গে শিশুরাও নেমে এসেছে রাস্তায়। সারাদিন অপেক্ষা করেও অনেকের ভাগ্যে খাবার জুটছে না।

অধিকাংশই হতদরিদ্র রিকশা-ভ্যান চালক, দিনমজুর, হকার, পরিবহন শ্রমিক, , রাজমিস্ত্রি, সবজি বিক্রেতা, দোকানদার। করোনার কারণে তাদের দৈনিক আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকের ঘরেই চাল-ডাল শেষ।

একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভীষণ ক্ষুধার্ত তারা। ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন। দু’বেলা দু’মুঠো খাবার কেউ দিলে তা শিশুদের খাওয়ানো হচ্ছে । বড়দের সেই না খেয়েই থাকতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন নগরীর ভাসমান মানুষেরা।

অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের কোনো কাজ নেই। তাই ঘরেও খাবার নেই। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন থেকে কোনো সাহায্য পাননি তারা।

বুধবার (৭ জুলাই) সকালে চাষাড়া মোড় এলাকায় হতদরিদ্র রমিজ বলেন, আগে বাসে হেল্পারি কাম করতাম। এহন করতে পারি না। বুড়া মানুষ। আমাগে কেউ খোঁজ নেয় না। হুনছি বিভিন্ন পাড়ায় ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিচ্ছে। আমরা এহনো কোনো ধরনের সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ পাইনি। আমরা কেমন আছি, কীভাবে আছি কোনো নেতা খোঁজও নেয়নি। চানমারির বাসিন্দা দিন মজুর জামিল মিয়া বলেন, আমি দিন মজুরি কাজ করি। এখন কাজকর্ম নাই। খাওয়া-দাওয়া নাই বললেই চলে। ঘরে বসে ছিলাম। ত্রাণ সামগ্রী কিছু না পেলে করোনা আসার আগেই আমরা ক্ষুধায় মইরে যাব।

রেল স্টেশন এলাকায় ষাটোর্ধ্ব জোশনা আকুতি মিনতি করে বলেন, আমাকে একটু সাহায্য করেন। আমি মেলা অসুস্থ। আমাকে একটু দান করেন। সব সময় নামাজ পড়ে দোয়া করবো। আমি কোথাও খাবার পাচ্ছি না।

তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অপর এক নারী জানান, তিনি স্টেশনে আগে চা বিক্রি করতেন। এখন পুলিশ চা বেচতে দেয় না। ঘরে চাল ডাল কিছুই নাই। আজকে রান্না হয়নি। একজনে কিছু খাবার দিয়েছেন তাই খেয়েছেন। তার ঘরে একটি প্রতিবন্ধী মেয়ে আছে। তার দুটো সন্তান রেখে স্বামী স্ট্রোক করে মরে গেছেন। বড় বিপদে আছেন। কেউ সহযোগিতা করেনি।

নিউজটি শেয়ার করুণ