নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে জান্নাত আরা ঝর্ণার মেডিক্যাল টেস্ট সম্পন্ন

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েলর পর জান্নাত আর ঝর্ণার মেডিক্যাল টেস্ট করা হয়েছে। ৩০ এপ্রিল শুক্রবার সকালে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে তাঁর মেডিক্যাল টেস্ট করা হয়।

এর আগে প্রলোভনে ধর্ষণ, প্রতারণা, নির্যাতনের অভিযোগ এনে ৩০ এপ্রিল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় মামলাটি করেন জান্নাত আরা ঝর্ণা। মামুনুল হক দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করলেও মামলায় জান্নাত নিজেকে মামুনুল হকের স্ত্রী বলেননি।

মামলা হওয়ার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জান্নাতকে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নিয়ে যায় সোনারগাঁ থানা পুলিশ। সেখান থেকে তাঁকে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জান্নাত আরা ঝর্ণা শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) সাংবাদিকদের বলেন, “আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে মামুনুল হক আমার সাথে অন্যায় করেছে ও প্রতারণা করেছে। আমি রাষ্ট্রের কাছে বিচার চাই।”

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আমীর খসরু বলেন, সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে বাদীর সঙ্গে মামুনুল হক প্রতারণা করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইচ্ছের বিরুদ্ধে সম্পর্ক করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ৩০। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে করা মামলাটি তদন্ত করবেন সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম।

মামলার লিখিত অভিযোগে ওই নারী জানান, ‘আমার সাবেক স্বামী শহিদুল ইসলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে ২০০৫ সালে মামুনুলের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তবে মামুনুল হকের সঙ্গে পরিচয়ের আগে আমাদের দাম্পত্য জীবন অত্যন্ত সুখে শান্তিতে কাটছিল। এর মধ্যে আমাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘স্বামীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে আমাদের বাসায় মামুনুল হকের অবাধ যাতায়াত থাকায় সে আমার উপর কুদৃষ্টি দেয়। এতে করে আমাদের সংসারে বিভেদ তৈরি হয়। যার পরিবর্তে সে সু কৌশলে আমাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করতে থাকে। মামুনুল হকের কুপরামর্শে আমাদের দাম্পত্য জীবন চরমভাবে বিষিয়ে উঠে। যার প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে ১০ আগস্ট আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।’

‘বিবাহ বিচ্ছেদের পর আমি পারিবারিক, সামাজি ও অর্থনৈতিকভাবে অসহায় হয়ে পড়ি। আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মামুনুল হক আমাকে সহযোগিতার নাম করে কৌশলে ঢাকায় আসার জন্য প্ররোচনা দিতে থাকে। আমি একজন আলেমকে ভরসা করে তার সঙ্গে ঢাকায় চলে আসি। কিন্তু ঢাকা আসার পর শুরুতে পরিচিত বিভিন্ন অনুসারীদের বাসায় আমাকে রাখে এবং নানাভাবে আকার ইঙ্গিতে আমাকে খারাপ প্রস্তাব দিতে থাকে। এক পর্যায়ে আমার পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে তার প্রলোভনে পা দিতে বাধ্য হই। এর ধারাবাহিকতায় তার পরামর্শে আমি ২৩/৩ নর্থ সার্কুলার রোড উত্তর ধানমন্ডি তৃতীয় তলা সাবলেট হিসাবে ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকি এবং তার ঠিক করে দেওয়া একটি বিউটি পার্লারে কাজ শিখতে থাকি। আমার বাসা ভাড়া ও আনুষাঙ্গিক খরচ সে দিতে থাকে।

‘‘এক পর্যায়ে সে আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। গত দুই বছর বিভিন্ন সময় ঢাকা ও ঢাকার আশে পাশের এলাকায় ঘোরাঘুরির নামে নিয়ে গেলে বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে রাত্রীযাপন ও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এক পর্যায়ে আমি বিয়ের কথা বললে সে আমাকে বিয়ে করবে, করছি বলে সময়ক্ষেপন করতে থাকে।’’

‘‘সব শেষ গত ৩ এপ্রিল আমাকে ঘোরাঘুরির কথা বলে বিকেল সোয়া ৩টায় সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টের ৫ম তলার ৫০১ নম্বর কক্ষে নিয়ে আসে। সেখানে আমাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণ করে। ওইসময় জনগন আমাদের রিসোর্টে আকস্মিক আটক করে এবং আমাদের পরিচয় জানতে চায়। আমরা কোন সদুত্তর দিতে না পারায় জনতার রোষানলে পড়ি। পরবর্তীতে মামুনুল হক ও তার অনুসারীরা রিসোর্ট থেকে আমাদের নিয়ে যায়। এ ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়। পরে মামুনুল হক আমাকে আমার ভাড়া বাসায় যেতে না দিয়ে তার পরিচিত একজনের বাসায় আটকে রাখে। আমার পরিবার, সন্তান ও আত্মীয় স্বজন কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। পরে কৌশলে আমার বড় ছেলেকে উদ্ধারের জন্য আইনের আশ্রয় নিতে বলি। গত ২৭ এপ্রিল ডিবি পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে। পরে জানতে পারি ২৬ এপ্রিল আমার বাবা কলাবাগান থানায় একটি ডায়েরী করেন।’’

জান্নাত বলেন, পরে কৌশলে আমি আমার বড় ছেলেকে আমার দুরবস্থার সব কথা জানাই এবং আমাকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধারের জন্য আইনের আশ্রয় নিতে বলি। পরে ডিবি পুলিশ আমাকে উদ্ধার করলে জানতে পারি, আমার বাবা রাজধানীর কলাবাগান থানায় আমাকের উদ্ধারের জন্য একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পুলিশ আমাকে উদ্ধারের পর বাবার জিম্মায় দেয়। সেখানে আমি আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করায় অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়।’

জান্নাত আরা ঝর্ণার বাবা ওলিয়ার রহমানকে গত ২৪ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ। আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর থেকে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর ২৬ এপ্রিল মেয়েকে উদ্ধারে পুলিশের সহায়তায় চেয়ে কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন তিনি। পরদিন মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে ঝর্নাকে উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। ঝর্না উদ্ধার হওয়ার তিন দিনের মাথায় এই মামলা করলেন।

সূত্র: নিউজ নারায়াণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin