না.গঞ্জে প্রশাসনের ছোবলে হাজী সেলিমের অবৈধ সাম্রাজ্য নীল

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

একজন সংসদ সদস্যের নারায়ণগঞ্জের সাম্রাজ্য ক্রমশ তছনছ হয়ে যাচ্ছে। অবৈধভাবে দখলকৃত এসব সম্পত্তি উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে একটি বিশাল আকৃতির সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় এক নিরীহ ব্যক্তি ভূমি অফিসে মামলা করে তার সম্পত্তি ফিরে পেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ওই সাংসদের ছেলে কারাবন্দী হওয়ার পরেই টনক নড়ে সর্বত্র। সে কারণেই প্রশাসন কঠোর হয়ে উঠে। আর প্রতিকার পেতে শুরু করেছে ভুক্তভোগীরা। ওই সাংসদের নাম হাজী সেলিম। তিনি রাজধানীর ঢাকা-৭ আসনের এমপি।

হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম নৌ বাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর থেকেই হাজি সেলিমের দখলের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। এর পর থেকেই তার দখলে থাকা বিভিন্ন সরকারী ও মালিকানাধথীন বিভিন্ন সম্পত্তি উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়।

জানা গেছে, সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের সোনারগাঁয়ের শিল্প নগরী মেঘনা ঘাটে অবৈধভাবে দখলের অভিযোগে মদিনা গ্রুপের টাইগার সিমেন্ট কোম্পানি অভ্যন্তরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসন।

১ নভেম্বর বিকেলে পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা ঘাটে সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। ওই সময়ে পিরোজপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আতাউর রহমানসহ বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, মদিনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজি সেলিমের মালিকানাধীন মদিনা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান করার জন্য মেঘনাঘাট এলাকায় চর রমজান সোনাউল্লাহ মৌজায় দিয়ারা ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৭৪১০, ৭৪১২, ৭৪১৪, ৭৬২৮, ৭৬৩৫, ৭৬৩৬, ৭৬৪৪, ৭৬৪৫, ৭৬৫৩ ও ৭৬৫৭ দাগে ১ দশমিক ০৮৪৪ একর এবং ৯৬০১ দাগে ২ দশমিক ৩৩২০ একর ভূমি অবৈধভাবে বালু ফেলে দখল করে নিয়েছেন। দখল করা সম্পত্তি স্থায়ী বন্দোবস্তের জন্য ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট মদিনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার কোম্পানির প্যাডে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের বরাবর আবেদন করেন। ওই আবেদনের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় তাকে সম্পত্তি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেননি। পরবর্তীতে এ সম্পত্তিগুলো সংসদ সদস্যের প্রভাব খাটিয়ে তিনি দেয়াল নির্মাণ করে দখলে নিয়ে নেন। ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে মদিনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজি সেলিমকে সরকারী সম্পত্তি ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ করা হয়।

সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-মামুন জানান, মদিনা গ্রুপের দখলে থাকা প্রায় ১৪ বিঘা সরকারী সম্পত্তি চিহ্নিত করেছি। কিছু অংশ উচ্ছেদ করা হয়েছে। সময় স্বল্পতার কারনে সব উচ্ছেদ সম্ভব হয়নি। মদিনা গ্রুপ কর্তৃপক্ষকে তিনদিনের সময় বেধে দিয়ে নোটিশ করেছি। এ সময়ের মধ্যে দখল ছেড়ে না দিলে আমার উচ্ছেদ পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবো।

এদিকে নিউজ বাংলার সংবাদে উল্লেখ করা হয়, ফতুল্লার পিলকুনি এলাকায় চার বছর ধরে এক পরিবারকে পানিবন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে।

১৯৮৯ সালে পিলকুনি এলাকায় ১৫ শতাংশ জমি কিনেছিলেন ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন। তার অভিযোগ, এর মধ্যে সাড়ে ৫ শতাংশ জমি হাজী সেলিম তার নামে খতিয়ানভুক্ত করে নেন টাকার জোরে। পরে তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা ভূমি অফিসে মামলা করেন তিনি।৪ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে বৃদ্ধ সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষে রায় দিয়েছে ভূমি অফিস। তবে পানিবন্দি দশা থেকে মুক্তি পাননি সাখাওয়াতের পরিবার।

ফতুল্লা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজুর রহমান জানান, ‘মিস কেস মামলাটি কয়েক বছর ধরে চলে। সাংসদ হাজী সেলিমকে অনেকবার সময় দেয়া হয়। আমরা মামলাটি পর্যালোচনাসহ নথি যাচাই-বাছাই করে সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষে রায় দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালের ৩১ মার্চ ফতুল্লা ভূমি অফিসে হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে বিবিধ মোকদ্দমা করেন সাখাওয়াত হোসেন। সেই মোকদ্দমায় হাজী সেলিমকে কয়েকবার হাজির হতে নোটিশ দেয়া হয়।

‘তবে তিনি হাজির হননি, লোক পাঠিয়েছেন। মঙ্গলবার ওই বিবিধ মোকাদ্দমা নিষ্পত্তির শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানিতে হাজী সেলিমের লোকজন এসেছিলেন। তারা আবার সময় বাড়ানোর আবেদন করলেও গ্রহণ করা হয়নি।’

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘হাজী সেলিম আমার ৩ থেকে ৪ বছর পর পাশের একটা জায়গা কিনছে। এরপর তার লোকজন দিয়া আমার বাড়ি ঘেরাও কইরা দখল করতে চাইছে। কিন্তু এলাকার মানুষের জন্য পারে নাই। পরে সে আমার চারদিক বন্ধ কইরা দিছে। বালুর বাঁধ দিয়া আমাগো পানিবন্দি কইরা রাখছে। পরে হাজী সেলিম আমার সাড়ে ১৫ শতাংশ জায়গা থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ জায়গা মিউটেশন (খতিয়ানভুক্ত) করাই নিয়া গেছে জোর কইরা।’

পাগলা বাজার এলাকার এক সময়কার এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, ‘হাজী সেলিম লোকজন দিয়া পয়সার জোরে এসব করছে। এরপর আমি ওর নামে ফতুল্লা ভূমি সহকারি কমিশনারের অফিসে মিস কেস (নামজারি আংশিক সংশোধন)করছি। সাড়ে চার বছর ধইরা এই কেস চলছে। হাজী সেলিম টাকা দিয়া সব কিনে নিতে চায়। তাই এত বছরে কোনো সমাধান পাই নাই।’

সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী রিনা বেগম বলেন, ‘হাজী সেলিম আমাগো পানি দিয়া বন্দি করা রাখছে। অসুস্থ স্বামীরে নিয়া এই পানির মধ্যে আছি। হাজী সেলিম আমাগো জায়গা নিতে চায়। সে অনেক কথা বলছে আমাগো। আমরা কী করমো? তাই স্বামী-স্ত্রী পানির মাঝখানেই থাকি। ওর বিচার আল্লায় করবো।’

এ প্রসঙ্গে ফতুল্লা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজুর রহমান বলেন, ‘তাদের পানিবন্দি করে রাখার বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেকে জানাবো।’

জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন জানান, ‘ওই বৃদ্ধ সহযোগিতা চাইলে আমরা তাকে পানিবন্দি অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে সহযোগিতা করবো।’

সূত্রঃ নিউজ নারায়াণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin