নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জে হামলা, রাজধানীতে সমাবেশ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নিজের ওপর হামলাকারীদের সাত দিনের মধ্যে কোনো ব্যবস্থা না নেয়া হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) হামলার ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

আগেরদিন ১৯ অক্টোবর বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকারের জন্মদিন ও বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য কামনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে।

তৈমূর আলম খন্দকারের সহকারী আলাল জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের রোগমুক্তি কামনা, তৈমূর আলম খন্দকারের জন্মদিন উপলক্ষ্যে রূপসী খন্দকার বাড়িতে দোয়ার আয়োজন করা হয়। বিকেল ৩টার মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত হন মাহমুদুর রহমান মান্না, তৈমূর আলম খন্দকার, তার মেয়ে মার-ই-য়াম সহ অনেকেই। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার দেড় ঘণ্টা পর রূপগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল শিকদারের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন রামদা, হকিস্টিক, লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। উপস্থিত লোকজনদের একের পর এক মারধর করতে থাকে। মাহমুদুর রহমান মান্না, তৈমূর আলম ও তাঁর মেয়ে মার-ই-য়ামকে মঞ্চ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। মঞ্চে থাকা চেয়ার টেবিল, সাউন্ড সিস্টেম ভাঙচুর করা হয়। এছাড়াও রামদায়ের আঘাতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এছাড়াও হামলাকারীরা অনুষ্ঠান মঞ্চের বাইরে থাকা কয়েকটি গাড়ি ও মটরসাইকেল ভাঙচুর করে। আকস্মিক এ হামলায় লোকজন আতংকিত হয়ে পড়ে।

তৈমূর আলম খন্দকার জানান, ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল শিকদারের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। মাহমুদর রহমান মান্নাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে।

রূপগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল শিকদার বলেন, ‘আমরা কোন হামলা করিনি। ওই এলাকার ছাত্রলীগ যুবলীগ সহ অন্যান্য সংগঠনের যারা আছে তারা তাদের জিজ্ঞাসা করতে সেখানে যায়। যে কি অনুষ্ঠান চলছে। তখনও তাদের অনুষ্ঠান চলছিল। পরবর্তীতে তারা অনুষ্ঠান বাতিল করে। হামলার অভিযোগ মিথ্যা।’

এর প্রতিবাদে রাজধানীতে প্রতিবাদ সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আজ দেশের সাধারণ মানুষের জীবন বিপদগ্রস্ত। মাফিয়ারা সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। সব জায়গায় অনাচার শুরু হয়েছে। এ মাফিয়ারা একদিন নিজের ঘরেও আগুন দেবে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মান্নার ওপর ছাত্রলীগ, যুবলীগ হামলা করেছে। আজ দেশের একজন মানুষও বিশ্বাস করে না, দেশে আইনকানুন বলে কোনো কিছু আছে। স্কুলের বাচ্চা থেকে শুরু করে কারোরই জীবনের নিরাপত্তা নেই।

নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নারায়ণগঞ্জে বক্তব্য দেওয়ার সময় তার ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আগামী সাত দিনের মধ্যে কোনো ব্যবস্থা না নিলে ঢাকা মহানগরের সব জায়গায় অবরোধ করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের রামদার ভয় দেখাবেন না। জেলের ভয় দেখাবেন না। মামলার ভয় দেখাবেন না। পান্তা ভাতের মধ্যে কাঁচা মরিচ দিয়ে যেভাবে খায়, ওইভাবে হামলা-মামলা এত বছর ধরে খেয়ে এসেছি। আমরা যখন ধরবো, তখন কিন্তু পালাবার পথ পাবেন না। এক মাঘে শীত যায় না। চুরি করে রক্ষা পাবেন না।

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, অনেক সমস্যার একটাই সমাধান- এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে। মাহমুদুর রহমান মান্নার ওপর হামলার বিষয়ে যদি আমরা কথা না বলি, আগামীতে কেউ রক্ষা পাবো না। সুতরাং যারা কথা বলছে, আন্দোলন-সংগ্রাম করছে, তাদের প্রত্যেকের পাশেই আমাদের দাঁড়াতে হবে। বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিসহ অন্যরা।

সূত্রঃ নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin