নারায়ণগঞ্জের কিছু জানা- অজানা বিষয়

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
নারায়ণগঞ্জের কিছু জানা- অজানা বিষয়
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে কিংবা বাংলাদেশে জন্ম নেয়ার আগে থেকেই বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ যে অঞ্চল গুলো ছিল তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ অন্যতম। সাম্প্রতিক কালে বিশেষ করে এই ২০২০ সালে পুরো দেশ বা বিশ্ববাসী করোনার কারণে নারায়াণগঞ্জের নাম আবার নতুন করে শুনলেও নারায়ণগঞ্জ বিশ্ব দরবারে শত শত বছর আগের থেকেই পরিচিত ছিল, হোক সেটা মোঘল শাসন কিংবা ব্রিটিশ। তাই আজকে আলোচনা করবো নারায়ণগঞ্জের কিছু জানা – অজানা বিষয় নিয়ে এর বেশির ভাগই হয়তো আপনারা জানেন, তাও নতুন করে মনে করিয়ে দেয়া…

ছবিঃ ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত

বাংলাদেশ এর জন্মপূর্ববর্তী ঐতিহ্যঃ নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশ জন্মের শত শত বছর পূর্বের থেকেই অর্থনীতি ও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় গড়ে উঠেছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী। মোঘল শাসন আমলে বিশেষ করে সম্রাট আকবরের সময়ে ভারত বর্ষের যে অল্প কিছু অঞ্চলকে ভাগে আনতে সম্রাটকে বেগ পেতে হয়েছিল তাঁর মধ্যে ছিল ঈশা খাঁ এবং বার ভূঁইয়াদের এই অঞ্চল । যা পরিচালনা করা হতো নারায়ণগঞ্জ থেকে। আকবরের তৎকালীন সবচেয়ে চৌকশ রাজপুত সেনাপতি মান সিং কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করে ব্যর্থ হন।

তারপর যখন ইংরেজদের শাসন শুরু হয় তখন বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ছিল এই নারায়ণগঞ্জ । শীতলক্ষ্যার পাড়ে গড়ে উঠতে থাকে একের পর এক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ইংরেজরা এই অঞ্চলকে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছিল যে , সেই আঠারো শতকে নারায়ণগঞ্জের কদমরসূল , বন্দর , মদনপুরের প্রায় ৪.৫ বর্গমাইল জায়গা নিয়ে পৌরসভা ঘোষণা করা হয়েছিল। শীতলক্ষ্যার দুই পাড়ে গড়ে উঠেছিল ইংরেজদের বাণিজ্যিক অঞ্চল। পৃথিবীতে লন্ডনের টেমস নদীর পরে শীতলক্ষ্যাই একমাত্র নদী যার দুই পাশে এত হারবার ছিল। তাছাড়া তৎকালীন সময়ে আসাম , কলকাতা সহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন এলাকার সাথে নৌ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর ছিল অন্যতম বিরতিস্থল।

নামকরণ এর ইতিহাসঃ নারায়ণগঞ্জ জেলা ৫টি উপজেলায় বিভক্তঃ নারায়ণগঞ্জ , ফতুল্লা , বন্দর , সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার। এই নামকরণ গুলোর ক্ষেত্রে যতটা জানা যায় তা হচ্ছেঃ

নারায়ণগঞ্জ
বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ শহর যে এলাকাটিতে অবস্থিত এর পূর্বের নাম ছিল খিজিরপুর। ইংরেজরা বাংলাদেশে আসার পর বিখন লাল ঠাকুর , যিনি লক্ষী নারায়ণ নামে পরিচিত ছিলেন তিনি ইংরেজদের অধীনস্থ নবাব মোজাফফর জং এর থেকে একটি দলিলের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা পাড়ের এই অঞ্চলের ভোগসত্ব দলিল করে নেন। তারপর থেকে আঠারো শতকের শেষের দিকে এই অঞ্চল নারায়ণগঞ্জ নামে পরিচিত হতে থাকে।

ফতুল্লা
সুদূর বাগদাদ নগরী থেকে আধ্যাত্নিক সাধু শাহ ফতেহউল্লাহ্ ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে আসেন এবং বসবাস শুরু করেন, তিনি আমৃত্যু এখানেই ছিলেন। মৃত্যুর পর তাঁকে এখানেই সমাধিস্থ করা হয়। তার নাম থেকেই বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে এক সময় পরগনা নামে পরিচিত এই এলাকার একটি অঞ্চল ফতেহউল্লাহ্ বা ফতুল্লা নামকরণ করা হয়।

সোনারগাঁ
সোনারগাঁ নামের উৎপত্তি মূলত প্রাচীন নগর সুবর্ণগ্রাম থেকে।

আড়াইহাজার
আড়াইহাজার অঞ্চলটি নারায়ণগঞ্জের একদম শুরুতে অবস্থিত । এর পাশের উপজেলা হচ্ছে সোনারগাঁ । যেখান থেকে ঈশা খাঁ তার প্রশাসনিক ব্যবস্থা পরিচালনা করতেন। কথিত আছে ঈশা খাঁ মুঘল আক্রমণ এর আশংকায় এবং প্রতিহত করার লক্ষ্যে মেঘনা পাড়ের এই অঞ্চলে আড়াইহাজার সৈন্যের একটি দল দীর্ঘ সময়ের জন্য মতোয়ান করে রেখেছিলেন, যার থেকে এর নামকরণ করা হয় আড়াইহাজার।

সবচেয়ে ছোট কিন্তু অর্থনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণঃ বাংলাদেশের জেলা গুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ আয়তনে সবচেয়ে ক্ষুদ্র । কিন্তু ব্যবসা বানিজ্যে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারায়ণগঞ্জের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের রাজস্ব আয়ের সিংহ ভাগের জোগান দেয় এই নারায়ণগঞ্জ জেলা।

পৃথিবীর বৃহত্তম পাটকলঃ বাংলাদেশের সোনালী আঁশ ছিল পাট। এই পাট ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র ছিল নারায়ণগঞ্জ । তাই নারায়ণগঞ্জকে বলা হতো “প্রাচ্যের ড্যান্ডি” । এখানে গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন নামিদামী পাটকল ( Jute mils ) । এর মধ্যে আদমজী জুট মিল ছিল বিশ্বের সবচেয় বড় পাটজাত পণ্যের কারখানা। তবে বর্তমানে প্লাস্টিক এবং পলিথিনের বহুল ব্যবহারের কারণে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার কমে যাওয়া এবং পাটশিল্পে ভাটা পরায় আদমজী জুট মিল এখন পরিণত হয়েছে আদমজী ইপিজেড এ।

জামদানী এবং মসলিনঃ পৃথিবী বিখ্যাত ঢাকাইয়া মসলিন মূলত উৎপাদিত হতো নারায়ণগঞ্জে । বিপনণ ঢাকা থেকে হওয়ায় ঢাকাইয়া মসলিন নামে পরিচিতি পায়। কথিত আছে মিশরে প্রাচীন মমির গায়ে যে মসলিনের কাপড় পেঁচানো পাওয়া যায় তা এই অঞ্চলের। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের জামদানি প্রাচীণ কাল থেকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত। মসলিন সময়ের সাথে বিলুপ্ত হলেও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এবং আড়াইহাজার এখনো তাঁতের এবং জামদানির ঐতিহ্য রক্ষাকরে চলছে।

আজ এ পর্যন্তই , আরেকদিন হয়তো নারায়াণগঞ্জের জানা-অজানা আরো কোন ছোট ছোট বিষয় তুলে ধরবো নতুন কোন লেখায়। ধন্যবাদ।

ছবিঃ ইন্টারনেট

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin