না’গঞ্জে ক্রিকেট বোর্ডের বিতরনকৃত চাল অধিকাংশ পোকা খাওয়া

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহত ৩৮ পরিবারের মাঝে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিতরণকৃত খাদ্যে নিম্নমানের চাল দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চালগুলো পোকায় খাওয়া বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারগুলো।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পশ্চিম তল্লার স্থানীয় একটি ক্লাবের সামনে হতাহত ৩৮ পরিবারের প্রত্যেক পরিবারের মাঝে ৩ প্যাকেট করে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণের সময় বিসিবির সহকারী ব্যবস্থাপক (মিডিয়া) আকবর হোসেন ভূইয়া জানান, প্রতি প্যাকেটে খাদ্য সামগ্রী হিসেবে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি লবণ ও ২টি সাবান রয়েছে।

তবে বিতরণকৃত চাল নিম্ন মানের বলে অভিযোগ করেছেন মসজিদ বিস্ফোরণে হতাহতের কয়েকটি পরিবার। তারা বলছেন, বিতরণকৃত চাল ও ডাল নিম্ন মানের। চালগুলো পোকায় খাওয়া এবং নষ্ট। চালগুলো খাওয়ার অযোগ্য বলে জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবি, বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল তারা খাদ্য সহায়তার মাধ্যমে আমাদের পাশে থাকবে। কিন্তু সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আমাদের প্রখর রোদে বসিয়ে রেখে নিম্নমানের চাল দেওয়ার কোন মানে হয় না।

মসজিদ বিস্ফোরণের ঘটনায় মারা গেছেন কলেজ ছাত্র রিফাত। তারা বাবা রিকশাচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তিন প্যাকেট চাল দিছে। তার মধ্যে দুই প্যাকেট মোটা লাল চাল। আরেক প্যাকেটে সাদা চাল। সাদা চালগুলোতে কেরি পড়ে গেছে (পোকায় খাওয়া)। চালগুলোতে সাদা সাদা ছাতকুরা (নষ্ট) পইড়া গেছে। কোনোভাবে খাওয়া যাই কিনা দেখি।’

একই কথা বললেন মসজিদ বিস্ফোরণে নিহত ইমামের ছোট ছেলে ফাহিমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘চালগুলো নিম্ন মানের। কিছু কিছু চাল কেরি পড়া এবং নষ্ট।’

তবে নিহত সহোদর সাব্বির ও জুবায়েরের মা পারুল বিবি জানান, আমি মোট ৬ প্যাকেট খাদ্য সহায়তা পেয়েছি। যার মধ্যে একটি প্যাকেট খুলে আমি দুপুরে রান্নাও করেছি। সে চাল ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু বাকি পাঁচটি প্যাকেট আমি খুলিনি। তাই বাকি প্যাকেটের চালের মান সম্পর্কে বলতে পারছি না।

চাল কিংবা ডালের নিম্নমান শুধু নয় বিসিবির খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের মতে, বিসিবির মতো একটি স্বনামধন্য ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠান বিস্ফোরণে হতাহত পরিবারগুলোর পাশে দাড়ানোর কথা বলে স্বল্প পরিমাণ খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গ্রাউন্ডস ও ফ্যাসিলিটিস বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেন বলেন, ‘আমরা এর আগেও হাজার হাজার লোককে প্যাকেটগুলো দিয়েছি। আমার পক্ষে তো আর প্রতিটি প্যাকেট খুলে চেক করা সম্ভব ছিল না। যতটুকু সম্ভব চেক করেই দিয়েছি। আমি নিজেও এখন বুঝতে পারছি না কেন এমন হলো। তারপরেও এ বিষয়ে আমরা খতিয়ে দেখছি।’

সূত্রঃপ্রেস নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin