নবাব পরিচয়ে না.গঞ্জে এস্টেটের সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

জন্মনিবন্ধন সনদে ‘নবাব’ ও ‘খাজা’ শব্দ দুটি যোগ করে নবাব বনে যান আলী হাসান আসকারী। হয়ে যান ‘নবাব খাজা আলী হাসান আসকারী’। একইভাবে স্ত্রী মেরিনা আক্তার হয়ে যান সায়েবা হেনা আসকারী। জন্মসনদের বিপরীতে এই দম্পতি বাগিয়ে নেয় পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র। এরপর নবাব এস্টেটের সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করেছিলেন এই ভুয়া নবাব।

৩১ অক্টোবর রিমান্ড শেষে আদালতের কাছে দেওয়া জাবানবন্দীতে এ তথ্য জানান নিজেই। পোল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর নামে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়েছেন আসকারী। সম্প্রতি প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার করা হলে একের এক বেড়িয়ে আসছে তার প্রতারণার তথ্য।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলী হাসান আসকারী ২০১৪ সালে ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে নিজের নামে নবাব খাজা আলী হাসান আসকারী নামে একটি জন্মনিবন্ধন নিয়েছেন। সেই জন্মনিবন্ধনের ভিত্তিতে তিনি নবাবের বংশধর হিসেবে পরিচয় দেওয়া শুরু করেন। ২০১৫ সালে তিনি ঢাকার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে একটি পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। তার পাসপোর্টের নথিপত্র ঘেঁটে সেখানে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কোনো নথি পাওয়া যায়নি। স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে সেখানে উত্তরার মাসকট প্লাজা লেখা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো অসাধু চক্রের মাধ্যমে তিনি পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট হাতে পান। জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্ট দিয়ে তিনি ২০১৭ সালে আবেদন করে নবাব খাজা আলী হাসান আসকারী নামে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেন।

এরপর নারায়ণগঞ্জে নবাব সলিমুল্লাহ খানের এস্টেটের কিছু সম্পত্তির মোতাওয়াল্লি হওয়ার জন্য তিনটি মিসকেস (৬৬৬/২০২০, ৬৬৭/২০২০, ৬৬৮/২০২০) করেছেন তিনি। বর্তমানে এসব সম্পত্তি ভূমি সংস্কার বোর্ডের অধীনে কোর্ট অব ওয়ার্ডসের মাধ্যমে দেখভাল করা হয়।

নবাব পরিবারের বংশধর না হওয়া সত্ত্বেও এসব মিসকেস করার কারণ জানতে চাইলে হাসান আলী আসকারী জানান, অনেকেই ভুয়া বংশধর সেজে নওয়াব এস্টেটের বিভিন্ন সম্পত্তির মোতাওয়াল্লি হয়েছেন। তিনিও সেই উদ্দেশ্যে এসব কেস করেছেন। কিন্তু এগুলোর কোনো কিছুতেই তিনি সফল হতে পারেননি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আলী হাসান আসকারী এক ভয়ংকর প্রতারক। প্রতিদিনই তার নতুন নতুন প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে আমরা জানতে পারছি এবং রীতিমতো অবাক হচ্ছি। তিন দিনের রিমান্ড শেষে তিনি কারাগারে আছেন। তার ব্লাড প্রেসার ও হৃদরোগের জটিলতা আছে তাই জিজ্ঞাসাবাদে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে তার কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

সূত্রঃলাইভ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin