নগরীর ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা

শেয়ার করুণ

নারায়ণগঞ্জের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের (ভিক্টোরিয়া) ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর বিছানা আছে ২০টি। সেই ২০টি বিছানার বিপরীতে আজ শনিবার সকাল আটটা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এ ছাড়া আজ পর্যন্ত বহির্বিভাগে ডায়রিয়ার সমস্যায় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছে প্রায় ৩ শতাধিক রোগী। হাসপাতালে বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়ে সাড়ে ছয় গুণ রোগী ভর্তি হয়েছেন।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীরাই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাড়তি খরচের চিন্তায় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলেও ঔষধ কেনায় ব্যয় হচ্ছে ব্যাপক অর্থ।

হাসপাতালে রোগীদের স্যালাইন দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় ঔষধ ফার্মেসী থেকে ক্রয়ের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতলের ডায়রিয়া ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ভিতরে ও বাহিরে রোগীর সিরিয়াল কমছেই না। একজন বেড থেকে উঠতেই আরেকজন রোগীর চিকিৎসা হচ্ছে।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ভিতরে জায়গা না হওয়ায় ওয়ার্ডের বাহিরের বেডে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বন্দরের বাসিন্ধা আশিক। তার স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিতে এসেছেন। ওয়ার্ডের ভিতরে কোন বেড না পেয়ে বাহিরের বেডে তার স্ত্রীর চিকিৎসা করাচ্ছেন। হাতে ঔষধের প্রেসক্রিপশন।

তার সাথে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি প্রেসকিপশন দেখিয়ে বলেন, নার্সেরা একটা স্যালাইন দিছে আর স্যালাইন সহ এই ঔষধগুলো বাহির থেকে কিনে আনতে বলছে। চারশ টাকার ঔষধ আনছি। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাটাই দেয়, ঔষধ সব ফার্মেসি থেকেই কিনে আনা লাগে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডায়রিয়া বিভাগের একজন নার্স এ বিষয়ে বলেন, তীব্র গরমের কারণে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমরা হাসপাতাল থেকে রোগীকে একটা আই বি স্যালাইন দিচ্ছি। কিন্তু ওরস্যালাইন কিংবা অন্য ইনজেকশন বা ঔষধ প্রয়োজন হলে তা বাহির থেকে কিনে আনতে হবে।

কারণ দেখিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এসব ঔষধের সাপ্লাই আছে কিন্তু কম। একজন গরিব রোগীকে ঔষধ দিলে আরো দশ জন রোগী চাইবে। তখন না দিতে পারলে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরী হবে। এজন্য অতিরিক্ত স্যালাইন বা ঔষধ প্রয়োজন হলে প্রেসক্রিপশন করে দেওয়া হয়।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে শনিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৮ থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত ১৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ৮ এপ্রিল সারাদিনে রোগী ভর্তি হয় ২৩৮ জন, ৭ এপ্রিল ছিল ২৪৪ জন, ৬ এপ্রিল ২১১ জন, ৫ এপ্রিল ১৯১ জন, ৪ এপ্রিল ১৯৬ জন, ৩ এপ্রিল ১৯০ জন, ২ এপ্রিল ২০১ জন, ১ এপ্রিল ১২৯ জন রোগী ভর্তি ছিলেন।

১ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল বিকাল পর্যন্ত মোট ভর্তি হন ১৭৩০ জন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিওে গেছেন। তবে রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে রোগীকে মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রে (আইসিডিডিআরবি) পাঠানো হয়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এস কে ফরহাদ হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে বলেন, সদ্য শীতকালীন আবহাওয়া শেষ হয়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাপমাত্রা দিন দিন বাড়ছে। অধিক তাপমাত্রায় খাবারে দ্রুত জীবাণু জন্ম নেয়।

সূত্রঃ নারায়ণগঞ্জ টাইমস

নিউজটি শেয়ার করুণ