নগরীর উকিলপাড়া মসজিদে ফজরের পর ঈদের জামাত

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

গত কয়েক বছর ধরে নগরীর উকিলপাড়া জামে মসজিদে ফজর নামাজের পরপরই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই আয়োজন এই মসজিদের একটা বিশেষত্ব। এবারও এই মসজিদে ফজরের নামাজ শেষে পবিত্র ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এই জামাতে মুসল্লিদের উপস্থিতি থাকে উপচেপড়া। মসজিদ ছাপিয়ে সড়কেও জামাতে শরিক হন দূর দূরান্ত থেকে আসা লোকজন। অনেকে বিষয়টা ব্যতিক্রমভাবে দেখলেও উকিলপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহতেশামুল হকের কাছে বিষয়টা স্বাভাবিক। তার মতে, এটাই হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ফজরের নামাজ ফরজ আর ঈদের নামাজ ওয়াজিব। দেখা যায়, ঈদের নামাজে হাজার হাজার মুসল্লি হয়। কিন্তু ফরজ নামাজ বিশেষ করে ফজর নামাজে মসজিদে হাতেগোনা মুসল্লি উপস্থিত হন। কিন্তু ঈদের জামাতে এর কয়েকগুণ বেশি মুসল্লি উপস্থিত থাকেন। তারা শুধু ওয়াজিব নামাজের সওয়াব পান। বঞ্চিত থাকেন বাধ্যতামূলক ফরজ নামাজের সওয়াব থেকে। আমাদের চেষ্টা, মুসলমানদের ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের দিকে ধাবিত করা। হয়তো মহান আল্লাহপাক একদিন আমাদের সেই মাকসাত পূর্ণ করবেন। তবে এখন পর্যন্ত ঈদের জামাতের উসিলায় মুসলমানদের অন্তত এক ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করাতে পারছি, তাতেই আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া।

জানা গেছে, গত ৬ বছর যাবত উকিলপাড়া জামে মসিজদে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ ফজর নামাজের শেষে সূর্যোদয়ের পরপরই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জে প্রথম এর প্রচলন শুরু করেন এই মসজিদের পেশ ইমাম এহতেশামুল হক। তার প্রচেষ্টা এবং মসজিদ কমিটির সার্বিক পরিকল্পনায় সূর্য ওঠার পরপরই উকিলপাড়া জামে মসজিদে ঈদের জামাত স¤পন্ন হয়।

এর দেখাদেখি এবার নগরীর বিভিন্ন মসজিদেও ফজরের ওয়াক্ত শেষে ঈদের জামাতের আয়োজন করা হবে বলে জানা গেছে। উকিলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম এহতেশামুল হক বলেন, মূলত ঈদের জামাত মাঠে বা খোলা ময়দানে পড়াই হলো নবীজীর সুন্নত। এখন স্বাভাবিকভাবেই লোকসংখ্যা দেশে বা বিশ্বে সর্বত্র বেড়ে যাওয়াতেই একই মাঠে একই খোলা ময়দানে মুসল্লিগণ চাইলেও একত্রে এক জায়গায় নামাজ পড়া সম্ভব হয় না বিধায় নিতান্তই অপারগতা বা বাধ্য হয়ে সব মসজিদেই প্রায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। যেহেতু ঈদের দিন সকালে ঈদের জামাত মসজিদে হয়, আর মুসল্লিদের ফজরের নামাজ জামাতে পড়াটা একান্তই কর্তব্য। তাই আমরা চিন্তা করলাম, যাতে ফজরের নামাজটাও সুন্দর হয় এবং সমস্ত মুসলমান ফজর নামাজেও শরিক হতে পারেন। তাই ফজরের নামাজের প্রস্তুতি নিয়েই যদি ঈদের দিন ভোরে সকলে মসজিদে আসে আর সূর্যোদয়ের পরপরই ঈদের জামাতটা পড়া হয়ে যায়, তাহলেই এক সাথে ফজরের নামাজ যেমন ফরজ ছিলো, আর সকালে ঈদের নামাজ পড়াটা ওয়াজিব ছিলো। ওয়াজিবের জায়গায় ফজরের গুরুত্ব যেমন বেশি হয়, পাশাপাশি সৌন্দর্য বজায় রেখে ঈদের নামাজ আদায় করা যায়। এসব সুবিধা চিন্তা করে মুসলমানদের ভিতের একটা উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা দেওয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের এই মসজিদে গত কয়েক বছর ধরে এভাবেই ধারাবাহিকভাবে ঈদের জামাত ফজরের পরপরই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। উকিলপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সদস্য শেখ মাগফুর ইসলাম পাপন বলেন, এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আমার দাদি মরহুমা জাহানারা ইসলাম। ১৯৭৫ সালে মসজিদের জন্য তিনি এই জায়গা দান করেন। এলাকাবাসীর সহায়তায় ও মসজিদ কমিটির অক্লান্ত পরিশ্রমে ধীরে ধীরে মসজিদটি এখন তিনতলা। এই মসজিদে একসাথে তিন শতাধিক মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ২০১৫ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জে সর্বপ্রথম উকিলপাড়া জামে মসজিদে ফজর নামাজের পরপরই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে ব্যাপক মুসল্লি উপস্থিত হন। আশপাশের এলাকা ও মহল্লা থেকে অনেক মানুষ ফজর নামাজের পরপরই ঈদের জামাতে শরিক হতে এই মসজিদে ছুটে আসেন। অনেকে ফোন করে জানতে চান কয়টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এভাবে ঈদের জামাত আয়োজন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

সূত্র: নিউজ নারায়াণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin