দেশের চাহিদা মিটিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানির উপায়ও দেখালেন কৃষিবিজ্ঞানী

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

এক ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় দেশে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতার মধ্যে দেশের একমাত্র মসলা গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বিজ্ঞানী বললেন, সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানিও সম্ভব।

দেশে রান্নায় অপরিহার্য উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হয় পেঁয়াজ। গত সোমবার ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিলে বাংলাদেশে চড়তে থাকে এই নিত্যপণ্যের দাম।

গত বছরও এমনটা হয়েছিল। এবারও দুদিনই বাজারে দাম দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারি বিভিন্ন সংস্থা মাঠে নেমেছে, অন্য দেশ থেকে আমদানির তৎপরতাও শুরু হয়েছে।

পেঁয়াজ নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে বুধবার বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার উত্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মসলা গবেষণা কেন্দ্রের কৃষিবিজ্ঞানী ড. হামিম রেজার সঙ্গে কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

গ্রীষ্মকালীন উচ্চ ফলনশীল বারি-৫ জাতের পেঁয়াজের জাত উদ্ভাবক এ প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা দেশে পেঁয়াজের চাষ, চাহিদা, উৎপাদন বাড়ানোর নানা দিক নিয়ে কথা বলেন তিনি।

সরকারের তরফে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ৩০ লাখ টনের মতো। এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় ১৮ লাখ টনের মতো। চাহিদার বাকিটা মেটাতে ৫০০-৬০০ কোটি টাকার পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়, যা মূলত আসে ভারত থেকে।

গত বছর ভারতে রপ্তানি বন্ধ করে দিলে ৩০ টাকা কেজির পেঁয়াজ ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পরে চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিয়ানমার থেকে আমদানি করতে হয়েছিল।

বাংলাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদনের হিসাবেগড়বড় দেখছেন ড. হামিম।

২০২০ সালের কৃষি তথ্যর কৃষি ডায়েরিতে দেশে দুই লাখ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “যদি তাই হয়, তাহলে গড়ে হেক্টর প্রতি ২০ মেট্রিক টন হিসাবে দেশে ৪০ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এছাড়া বাড়ির আঙিনার হিসাবও রয়েছে।”

উৎপাদিত পেঁয়াজের ৩৫ শতাংশ নষ্ট হওয়ার পরও কৃষি বিভাগের হিসাব ঠিক হলে চাহিদার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়ার কথা বলে মনে করেন তিনি।

কৃষি বিভাগের এক তথ্য বলছে, জলবায়ুর পরিবর্তন, বৈরী আবহাওয়া, মানসম্পন্ন বীজ না পাওয়া এবং বিভিন্ন রোগ ও পোকার আক্রমণ ইত্যাদির কারণে বাংলাদেশে পেঁয়াজের গড় ফলন (৯.৭৩ টন/হেক্টর) বিশ্বব্যাপী গড় ফলন (১৭.২৭ টন/হেক্টর) অপেক্ষা কম।

ড. হামিম রেজা বলছেন, বর্তমানে দেশে বার্ষিক ৩০ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। সেখানে দেশে উৎপাদন হচ্ছে ২৩ লাখ মেট্রিক টন।

এই ঘাটতি দেশেই মেটানো সম্ভব বলে দাবি করছেন তিনি।

কীভাবে- উত্তরে তিনি বলেন, প্রচলিত শীতকালীন পেঁয়াজের পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল গ্রীষ্মকালীন বারি-৫ জাতের পেঁয়াজ চাষের মাধ্যমে।

অগাস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে বারি-৫ জাতের পেঁয়াজের বীজ বপন করা হয়। নভেম্বরে চারা লাগানো হয়। ওই সময় আগাম সবজি, আখসহ অন্যান্য ফসল লাগানো হয়।

সে সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী এ জাতের পেঁয়াজ চাষ করলে ওই সব ফসলের উৎপাদনেও বিরূপ প্রভাব পড়বে না মনে করেন ড. হামিম।

সূত্রঃ বিডি নিউজ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin