দেওভোগবাসীর আতংকের নাম বৃষ্টি

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

দেওভোগ নারায়ণগঞ্জের অন্যতম একটি বানিজ্যিক এলাকা। শহরের খুব নিকটবর্তী হওয়ায় দ্রুত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ ঘটেছে এই এলাকায়। অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় এলাকাটি ধীরে ধীরে এক জনবহুল জনপদে পরিনত হচ্ছে। আবাসিক এবং বানিজ্যিক এলাকার পাশাপাশি দেওভোগ মাদ্রাসা আর ডায়াবেটিস হাসপাতালের জন্যও এলাকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


এই এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম পথ হলো পানির ট্যাংকি থেকে দেওভোগ সড়ক। মুল শহরের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই সড়কের গুরুত্ব অনেক। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়।যানজট এই রাস্তার নিয়মিত সমস্যা হলেও গত কয়েক বছর ধরে যুক্ত হয়েছে জলাবদ্ধতার সমস্যা। অল্প বৃষ্টিতেই এই রাস্তায় পানি জমে যায়।
পানির ট্যাংকি থেকে নাগবাড়ী পর্যন্ত কোন কোন সময় এই জলাবদ্ধতার বিস্তার লক্ষ্য করা যায়। অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তা রূপ নেয় যেন এক উন্মুক্ত জলাশয়ে।


মাঝে মাঝে হাটু পানি পর্যন্ত পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে যেতে হয় এলাকার বাসিন্দাদের। অল্পতেই তলিয়ে যায় রাস্তা সংলগ্ন বাড়ি আর দোকান। বৃষ্টির পানি আর ড্রেনের পানি মিশে এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্ঠি হয় এই এলাকায়। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এলাকার ক্ষদ্র ব্যবসায়ীরা। পানির জন্য অনেক কারখানার কাজ বন্ধ রাখতে হয়। এছাড়া যাতায়াতের সমস্যা তো রয়েছেই স্কুলগামী শিক্ষার্থী কিংবা চাকুরীজীবি মানুষেরাও স্বীকার হন চরম ভোগান্তির। ডায়াবেটিক হাসপাতাল থাকায় অসংখ্য রোগী পড়েন বিপাকে। পানি শুকানোর সময় ও দোওভোগবাসীদের পড়তে হয় অন্য রকম বিড়ম্বনায়।

ময়লার স্তুপ আর জায়গায় জায়গায় ময়লা পানি জমে থাকার ফলে মশার উৎপাত বেড়ে যায়। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান নিয়মিত এই রাস্তার সংস্কার করা হলেও স্থায়ী কোন সমাধান তারা পাচ্ছেন না। কিছুদিনের জন্য পরিস্থিতির উন্নতি হলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এই রাস্তার জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান এখন এলাকাবাসীর প্রানের দাবী এলাকাবাসী এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।


জলাবদ্ধতার এই সমস্যা নিয়ে নাসিক ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাস্তাটি সংস্কার করা হলেও সরু ড্রেনের কারণে পানি নিষ্কাশন যথাযথভাবে হচ্ছে না। আগের তুলনায় এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরু ড্রেন দিয়ে পানি ঠিকভাবে নামতে পারছে না। তাছাড়া প্লাস্টিকসহ নানা অপচনশীল বর্জ্য পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্ঠি করছে। তিনি আরো জানান, এ বছরের শেষের দিকে এই ড্রেনের সংস্কার কাজ শুরু হবার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্কারের পর হয়তো নাগরিকদের জলাবদ্ধতার ভোগান্তি অনেকাংশেই কমে আসবে বলে
জানান এই ওয়ার্ড কাউন্সিলর। তিনি তার ওয়ার্ডের নাগরিকদের ড্রেনের পানির প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য
পলিথিন, প্লাস্টিক সহ অপচনশীল বর্জ্য ড্রেনের পানিতে না ফেলতে
অনুরোধ জানান।।

খুব দ্রুতই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক এটাই এখন এলাকাবাসীর এক মাত্র চাওয়া। আর ড্রেনের প্রশস্ততা বৃদ্ধির আগ পর্যন্ত নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রেখে পানির প্রবাহ ঠিক রাখার দাবি এলকার ভুক্তভোগী জনসাধারণের।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin