দুলাভাই শ্যালিকাকে ধর্ষণের বর্ননা দিলেন আদালতে

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

দুলাভাইকে অনেকেই দেখে থাকেন বড় ভাইয়ের মতো। অনেক সময় অশ্লীল কথাবার্তা এবং অঙ্গভঙ্গী করলেও, কেউ কোন প্রকার সন্দেহ করতো না। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে একাধীকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছেন ১৪ বছরের শালীর সাথে। হুমকি প্রদান করে বলেছেন, বিষয়টি কাউকে না জানানোর। এতেই থেমে যায়নি দুলা ভাই। রাতে প্রকৃতির ডাকে রুম থেকে বের হয়ে যখন টয়লেটে যাচ্ছিলেন ১৪ বছরের শালী তখন গোয়াল ঘরে নিয়ে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করেন দুলাভাই।

এতক্ষণ যে দুলাভাইয়ের কথা বলা হচ্ছিলো তিনি হলেন আরফান ওরফে সাগর (২৫)। সাগর জামালপুর জেলার নামা হরিপুর এলাকার ইদ্রীস আলীর ছেলে। সোনারগাঁও থানার আলগীর চর এলাকায় শ্বশুর বাড়ীতে বিগত ৩ বছর ধরে ঘর জামাই থেকে রাজ মিস্ত্রির কাজ করে আসছিলেন তিনি।

দুলাভাইয়ের দ্বারা নির্যাতিত কিশোরী ঘটনার বিস্তারিত বাবা-মাকে অবহিত করলে, শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে বাবা বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত দুলাভাইকে আটক করে।

এ ঘটনায় রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে দুলা ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন ওই কিশোরী। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালত এ জবানবন্দি রেকর্ড করে। এসময় গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেয় বিজ্ঞ আদালত।

বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমি একজন কাপড় ব্যবসায়ী। ঢাকা থেকে সালোয়ার কামিজসহ অন্যান্য মালামাল এনে বিভিন্ন জেলায় বিক্রয় করি। আমার দুইজন মেয়ে সন্তান আছে। বড় মেয়ে মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে ও ছোট মেয়ে বাড়ীর পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ে। বিবাদী আরফান ওরফে সাগর আমার জেঠাত ভাই জলিল ফকির এর ছোট মেয়ে মোসা. মরিয়ম এর স্বামী।

বিবাদী তার শ্বশুর বাড়ীতে ঘর জামাই থাকিয়া রাজ মিস্ত্রীর কাজ করে। বিগত প্রায় তিন বৎসর যাবত উক্ত স্থানে বসবাস করে আসছে। বিবাদী পরনারী লোভী, সে আমার বড় মেয়েকে খারাপ চোখে দেখত এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গী করত। বিবাদী আমার ভাতিজী জামাই ও সম্পর্কে আমার মেয়ের দুলা ভাই হওয়ায়, উক্ত বিষয়ে কেউ কোন প্রকার সন্দেহ করতনা। এই সুযোগে বিবাদী ইতিপূর্বে আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে আমার মেয়ের সাথে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং এই বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকী প্রদান করে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১১ ঘটিকার সময় আমার মেয়ে প্রকৃতির ডাকে ঘুম থেকে জেগে রুমের দরজা খুলে ঘরের পাশেই টয়লেটে যায়। টয়লেট শেষে সে রুমে ফেরার পথে বিবাদী আমার মেয়েকে ডেকে ফুসলিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আমার ঘরের পাশে আমার চাচাতো ভাই জলিল ফকির এর গোয়াল ‘ঘরের ভিতর নিয়া আমার মেয়েকে মাটিতে শুয়িয়ে মুখ চেপে ধরে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে এবং উক্ত ঘটনা কাউকে বলতে নিষেধ করে।

পরবর্তীতে আমার মেয়ে আমার স্ত্রীর নিকট ধর্ষণ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানায়। তারপরে আমি আমার ব্যবসায়িক কাজে রংপুর থাকায় এবং আত্নীয় স্বজনদের সাথে আলোচনা করে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করি।

এবিষয়ে কোর্ট পুলিশের এসআই ইসমাইল হোসেন বলেন, সোনারগাঁও থানার দায়েরকৃত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় ভিকটিম আজ বিজ্ঞ আদালতে ২২ ধারা জবানবন্দি প্রদান করেন। সে সময় বিজ্ঞ আদালত ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ড করেন ও গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।   

সূত্রঃলাইভ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin