দলে হাইব্রিডের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে দিপু

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একজন প্রভাবশালী আইনজীবী হলেন জেলা আইনজীবী সমিতির অনেকবারের নির্বাচিত সভাপতি আনিসুর রহমান দিপু। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে তার পরিচিতিও রয়েছে। একই সাথে তিনি সবসময় দলের হাইব্রিডদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে থাকেন। কখনও তিনি হাইব্রিডদের নেতৃত্ব মেনে নিতে পারেন না।

কারও কারও ভাষ্যমতে হাইব্রিড বিরুদ্ধে শ্রক্ত অবস্থানের কারণেই হয়তো আনিসুর রহমান বর্তমান আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পদবীর বাইরে রয়েছেন। তারপরেও তিনি তার অবস্থান থেকে সরে আসছেন না। সামাজিক যোগাযোগ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক ওয়ালে গেলে দেখা মিলবে হাইব্রিড বিরুদ্ধে তার শক্ত অবস্থান।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গনে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি রয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপুর। আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের একজন অভিভাবকও বটে তিনি। বারবার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সেই সাথে জেলা আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাও তিনি।

কিন্তু এত প্রভাবশালী একজন আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু প্রায় সবসময় দলীয় পদ পদবীর বাইরে থেকে যাচ্ছেন। তাকে পদ পদবীর ক্ষেত্রে তেমন একটা মূল্যায়ন করা হয়নি। তারপরেও দলের ক্ষেত্রে তার কখনও ত্যাগ কমে যায়নি। সবসময় তিনি ত্যাগী নেতা হিসেবেই পরিচয় দিয়ে আসছেন।

দলীয় সূত্র বলছে, ছাত্রজীবন থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের সাথে রাজনীতি করে আসছেন আনিসুর রহমান দিপু। সেই ছাত্রজীবন থেকেই তিনি শামীম ওসমানের পাশে থেকে নারায়ণগঞ্জের রাজপথ দাবিয়ে রাখতেন। হামলা মামলা সহ নানা প্রতিবন্ধকতা কোনো কিছুতেই তিনি কখনও পিছু হটেননি। শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট বন্ধু হিসেবে দলের জন্য বিরামহীনভাবে কাজ করে গেছেন। যদিও বর্তমানে শামীম ওসমানের সাথে তার সম্পর্কের কিছুটা অবনতি ঘটেছে। তবে যখনই দলীয় প্রয়োজনে শামীম ওসমান তাকে ডাক দেন তখনই ছুটে যান আনিসুর রহমান দিপু।

ছাত্রলীগ থেকে আনিসুর রহমান দিপু যোগ দেন আইন পেশায়। আইন পেশায় যোগ দিয়ে ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনেন। সেই সাথে অনেকদিন সেই আদালতপাড়ায় আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ব বহাল রাখেন তিনি। এরপর নেতৃত্ব বিলিয়ে দেন তার জুনিয়রদের কাছে। বর্তমানে তাদের জুনিয়ররাই নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির পর এরপর আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয়নি আনিসুর রহমান দিপুকে। তারপরেও তিনি ত্যাগী নেতা হিসেবেই কাজ করে যাচ্ছেন।

তবে কোনো সময়ই অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু দলের হাইব্রিড নেতাদেরকে তিনি মেনে নিতে পারেন না। বিভিন্ন সভা সমাবেশে সুযোগ পেলেই তিনি হাইব্রিডদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিয়ে থাকেন। সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও তিনি হাইব্রিডদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন। দলীয় পদ পদবী থাকুক বা না থাকুক এতে তিনি ভ্রুক্ষেপ করেন না।

পদ পদবী সম্পর্কে তার বক্তব্য হচ্ছে, দল যেখানে যাকে ভাল মনে করলে সেখানেই দায়িত্ব দিবে। কাজ করলে একদিন মূল্যায়ণ হবেই। হয়তো সময় লাগবে। কিন্তু মূল্যায়ণ ঠিকই হবে।

জানা যায়, তরুণ বয়সে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছিলেন অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু। তিনি একাধিকবার আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে ছিলেন। নারায়ণগঞ্জে দুই দশকের প্রায় সকলেই জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ পদে অধিষ্ট হয়েছেন। অনেকেই পেয়েছেন সম্পাদকীয় পদ। কিন্তু মহানগর আওয়ামীলীগে নামে মাত্র সদস্য পদে দিপুকে রাখা হলেও তাকে শীর্ষ পদে রাখা হয়নি। যদিও আনিসুর রহমান দিপুকে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নির্বাহী পরিষদের সদস্য করা হয়েছে।

জেলা আওয়ামীলীগের তিন সদস্যের কমিটি গঠনের পূর্বে আনিসুর রহমান দিপু সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে কেন্দ্রীয়ভাবে লবিং করেছিলেন। ওই সময় থেকে আনিসুর রহমান দিপুর সঙ্গে শামীম ওসমানের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। শেষতক জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ট হন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল। আনিসুর রহমান দিপু ও শহীদ বাদল দুজনই এখানকার এমপি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সহযোদ্ধা পরামর্শক। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ট না হলেও পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন আনিসুর রহমান দিপু।

মহানগর আওয়ামীলীগের এক নম্বর সদস্য পদে একেএম শামীম ওসমান ও দ্বিতীয় সদস্য পদে আনিসুর রহমান দিপু। একই কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলমকে জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে। কিন্তু জেলা আওয়ামীলীগে পদ মিলেনি আনিসুর রহমান দিপুর। মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটিতেও আনিসুর রহমান দিপুর চেয়ে জুনিয়র ও কম জনপ্রিয় নেতাও শীর্ষ পদে এসেছেন। জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও অনেক হাইব্রীড নেতাদের শীর্ষ পদে রাখা হয় বলে অভিযোগ ছিল। যদিও নেতাকর্মীদের ধারণা ছিল সাধারণ সম্পাদক পদে রাখা না হলেও আনিসুর রহমান দিপুকে অন্তত সহ-সভাপতি পদে রাখা হতে পারে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও যখন তার নাম আসেনি। তারপরেও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু আওয়ামী লীগের একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। দল থেকে তিনি কখনও পিছু হটেননি।

সূত্রঃনিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin