তুমি রেপ নিয়ে কোন প্রতিবাদ করতেসো না যে?

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

লেখকঃসাবরিনা কাজী নিশিতা

যারা নিজের ঘরে যে কোন ধরনের অন্যায় নিয়ে প্রতিবাদ করে উপযুক্ত বিচার পায় না, তাদের বাইরে প্রতিবাদ করাটা মানায় না , এটা হাস্যকর, লজ্জাজনক। নিজের কাছেই মনে হয় উপরে ফিটফাট, ভিতরে সদরঘাট টাইপ,লজ্জাজনক।

সরকারের কাছে শাস্তি চাই ঠিক আছে তবে তারচাইতেও আমার কাছে বেশি জরুরি মনে হয় স্কুল থেকে একটু একটু করে শেখানো, প্যারেন্টিং। এদিকে সোশাল মিডিয়ায় কার আচরণ কেমন সেটাও লক্ষ্য করে স্টেপ নেয়া যেতে পারে। আর অবশ্যই “ঘর”। ঘরটা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে ঘরে কিছু কিছু মানুষদের যারা পরিবারের বড় তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেয়া উচিৎ যে কিভাবে একটা পরিবারের ছোট সদস্যকে (শুধু ছেলে না অবশ্যই মেয়েও) অন্যকে সম্মান করা, নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আইন-কানুন, ধর্মীয় রীতিনীতি, মোট কথা মূল্যবোধের মানুষ হিসেবে গড়বেন কারন একটা ঘরের কোন মানুষের ভিতরে জানোয়ারের মানসিকতা তৈরি হলে সেটা ঘরের একজন হলেও টের পান।

আর সে পুরুষ বলেই বা নারী স্বাধীনতা আছে বলেই এমন একটু-আকটু করবেই বলা মা-বাবা, ভাই-বোনদের অভাব নেই। আর যেই পুরুষ রেপ করে ধরা খায়, যে ধরা খায়নি তারা সমান অপরাধী। আর যে সুযোগের অভাবে রেপ করতে পারেনি কিন্তু আর একটু হলেই একদম সেক্সটা হয়েই যেতো, তারা আরও বড় জানোয়ার, কারন এরা মুখোশধারী সাধু হয়ে আছে, যে কোন সময় অঘটন ঘটাবে, তাই এইরকম সবকিছু ফাঁস হওয়া উচিৎ।

চাইলে অপি করিম ও আফরান নিশো- অভিনীত আশফাক নিপুন ভাইয়ার “VICTIM” (ভিকটিম) নাটকটা দেখতে পারেন। কারন খুব ভদ্র পরিবারের, “ভদ্রলোক” যে কি না খুব সুন্দর সংসার করছেন এবং বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানের সব দায়-দায়িত্ব পালন করছেন অথচ তার শুধু পাস্ট না প্রেজেন্টও এই নাটকের ঘটনার মতন, এরাও কাইন্ড অফ পাক্কা রেপিস্ট।

এই ধরনের শিক্ষিত সমাজ বা পরিবারে আপনার সাথে এরকম যাই হয়েছে, যখনই হয়েছে, উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে নিজে মানসিক কষ্টে ভিকটিম না থেকে, এই জানোয়ারগুলোকে ভিকটিম বানান, তাতে যদি কারও সাজানো সংসারও নষ্ট হয়, হোক। সবার সবটা জানা দরকার! আপনি ভিকটিম হয়ে কাঁদবেন আর সে বুক ফুলিয়ে হাঁটবে? NEVER! আমার পরিচিত কেউ হলেও আমাকে জানান, কষ্ট পেলেও আমার সত্য মেনে নেয়ার সাহস আছে!

আমরা রোযা রাখি, মাগরিবের আজান দিলে ইফতার করি, সেই ইফতারের আগেই আপনি যদি খাবার পান বা ধরেন ঢাকনা খোলা কোন খাবার পান, চট করে কি খেয়ে নেন? নিশ্চয়ই খাবার দেখলে ক্ষুধা আরও বেশি পায়, খাবারের ইচ্ছা অবশ্যই জাগে? কিন্তু নিজেকে কন্ট্রোল (নিয়ন্ত্রণ) করাটাই হচ্ছে পারিবারিক শিক্ষা, সুস্থ বিবেক, মূল্যবোধ, নৈতিকতা, স্রষ্টার প্রতি অনুগত্যতা।

নাকি হুট করে খেয়ে বলবেন আরে ধুর আমার কি দোষ?খাবারের দোষ! খাবার কেনো খোলা ছিলো! যে খুলে রেখেছে তার দোষ! আর তখন যদি এই খাদককে নিয়ে আশেপাশের মানুষ বা শ্রদ্ধেয় বাবা-মা তার আদরের সন্তান বলে মন্তব্য করেন এমন, “আহারে, একটু আকটু রোযা এভাবে ভাঙাই যায় ব্যাপার না। আর খাবারটা সামনে না থাকলেতো আর এমন হোত না, থাক কেউ তো দেখেনি, আল্লাহও মাফ করে দিবে নে।

এই শাসন বা বারণ ঠিক কতটুকু যুক্তিযুক্ত বলে মনে করি আমরা?? যদিও রোযা রেখে, রোযা ভেঙে খেয়ে ফেলাটা তার পার্সোনাল চয়েজ কিন্তু সে ইসলামের মস্ত বড় একটা নিয়ম সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত ভাবে ভঙ্গ করলো এবং দোষও দিলো খাবারের, তো তার শাস্তি ও তাকে প্রশ্রয়দাতাদের শাস্তিও অবশ্যই আল্লাহ নির্ধারন করে ফেলবেন সাথে সাথেই, তাই জেনে এসেছি ছোট থেকে…আর যারা নিজ ঘরে খাবার থাকতেও অন্যের ঘরে যেয়েও খাবার/খোলা খাবার বা অন্যের খাবার দেখলেও একই কাজ করেন তারাও আরেক জাতের খাদক! আশা করি এই দুই ধরনের খাদক ও তাদের পরিবারের আমার উদাহরণ বুঝতে কষ্ট হবে না৷ যদিও খুবই হাস্যকর উদাহরণ হলো, কিন্তু চট করে মাথায় এলো লিখে ফেললাম, এতো সময় কই?

লেখকঃসাবরিনা কাজী নিশিতানিউজ প্রেজেন্টার ও নিউজরুম এডিটর, বিডি ভিউজ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin