তিন সিনিয়র নেতার বক্তব্যে বিএনপিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

দলের নেতৃত্ব নিয়ে তিন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের বক্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বক্তব্য দেন। দলের একটি অংশ মনে করে, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানে দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের শামিল। এ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে। বিষয়টি আগামী শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও উঠতে পারে। আবার আরেক অংশ মনে করে, বাস্তবতার নিরিখে ‘সত্য’ কথা বলেছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, এর আগেও সিনিয়র নেতাদের নামে বিদ্রোহের খবর বেরিয়েছিল। তবে সেসবের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ কারণে এখনই তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নয়। আরও দেখা বা বোঝার বিষয় রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, ‘তিন নেতার বক্তব্য শুনেছি। কিন্তু দলের সিদ্ধান্ত কী, তা আমার জানা নেই।’

সূত্র জানায়, টিভি চ্যানেলটিতে তিন পর্বে তিন নেতার বক্তব্য প্রচার করা হয়। এতে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘খালেদা জিয়া কীসের আপসহীন। আপস না করলে উনি জেল থেকে বেরোলেন ক্যামনে। সরকারের কথা শুনে, সমঝোতা করেই তো তিনি বেরিয়ে এসেছেন। খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছেন জিয়াউর রহমানের বিধবা স্ত্রী হিসেবে। অথচ জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচার তিনি করলেন না কেন?’

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা নেতাকর্মীরা আপস করে ফেলেছি। আমরা জেলে যেতে চাই না। কোনো ধরনের নির্যাতন-কষ্ট ভোগ করতে রাজি না। দলের দুর্বলতার কারণেই খালেদা জিয়াকে কারাবাস মেনে নিতে হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসনকে তো সরব ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু জনমনে তার যে স্থায়ী আসন তার কোনো বিকল্প (রিপ্লেসমেন্ট) নেই। খালেদা জিয়া বিএনপির বর্তমান ও ভবিষ্যতের একমাত্র নেতা। এরপর কে তা জানি না?’

শাহজাহান ওমর বলেন, ‘তারেক রহমান থাকেন লন্ডনে। আর লন্ডনে বসে কথা বা ভাব আদান-প্রদান করা খুব কঠিন। উনি মাঝে মাঝে স্কাইপিতে কথা বলেন, আমাদের সঙ্গেও যে বলে না-তা না। এতে দলকে কতখানি এগিয়ে নেয়া যাবে! হ্যাঁ, বিদেশে থেকেও রাজনীতি করা যায়, সেরকম ইরানের খোমেনি করেছিলেন। ১৫ বছর ফ্রান্সে ছিলেন, দেশেও ফিরেছিলেন। এমন আরও অনেক নেতা আছেন। কিন্তু তারেক রহমান কতটুকু পারবেন-আপনারাও দেখেন, আমিও দেখি।’

বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি যেটা বলেছি তা সত্য বলেছি। খালেদা জিয়া তো তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাহলে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচার হল না কেন? যারা বিএনপিকে ও জিয়াউর রহমানকে ভালোবাসে-তারা এ প্রশ্ন করতে পারে না?’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার বিদ্রোহ করার সময়ও নেই। সেই শারীরিক অবস্থাও আমার নেই। সারা জীবন চেষ্টা করেছি সত্য কথা বলতে। যে কথা বলে আমাকে দলে নিয়েছিলেন সেখান থেকে তারা অনেক দূরে রয়েছেন।’

শাহজাহান ওমর বলেন, ‘আমার বক্তব্যের একাংশ প্রচার করা হয়েছে। বক্তব্যকে কিছুটা টুইস্ট করা হয়েছে।’ হাফিজ উদ্দিন আহমদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর দলে খুব একটা সক্রিয় নন। তবে তারা হয়তো ক্ষোভ থেকে কথাগুলো বলেছেন। গণতান্ত্রিক একটি দলে নিজের মত যে কেউই প্রকাশ করতে পারে। ভুল হলে তাদের সতর্ক করা যায়। তাই বলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করা উচিত নয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। কারণ, ওয়ান-ইলেভেনসহ অতীতে বিএনপির ক্রান্তিকালে তারা বিতর্কিত ভূমিকায় ছিলেন। তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। বিষয়টি আগামী শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও উঠতে পারে।

সূত্রঃ যুগান্তর

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin