তিতাস, ডিপিডিসি, মসজিদ কমিটির গাফিলতি সুতরাং বিস্ফোরণ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের ঘটনায় তিতাস কোম্পানি, ডিপিডিসি ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির গাফিলতি পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিনের কাছে ৪০ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববি। এ সময় কমিটির অন্য চার সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টিএম মোশারফ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন, ডিপিডিসি নারায়ণগঞ্জ পূর্বাঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোরশেদ, তিতাসের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক মফিজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববি এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘এককভাবে দোষী কেউ নয়। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও মসজিদ কমিটির গাফিলতি আমরা পেয়েছি। প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু গাফিলতি ছিল। সবগুলো বিষয় প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।’

প্রশাসনের ৪০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সময় দক্ষ কারিগর নিয়োগ, বিদ্যুৎ বা গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ম্যাপ তৈরিসহ ১৮টি সুপারিশ করা হয়েছে। মসজিদ কমিটিগুলোকে একটি নীতিমালা তৈরি ও মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে নিয়ম মানার কথা বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে খাদিজা তাহেরা ববি বলেন, ‘প্রতিবেদনে ১৮টি সুপারিশ করেছি আমরা। বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষ কারিগর ব্যবহারের সুপারিশ করেছি। পাশাপাশি গ্যাস বা বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ম্যাপ রাখার কথা বলেছি। যাতে অতি দ্রুত লাইনগুলোকে আইডেন্টিফাই করা যায়।’

গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে এশার নামাজ আদায়ের সময় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই দগ্ধ হন ৪২ জন। দগ্ধদের মধ্যে মারা গেছেন ৩১ জন। পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে মসজিদের ভেতরে জমা গ্যাস থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটে বলে শুরু থেকে বিভিন্ন সংস্থা ও মসজিদ কমিটি দাবি করে আসছিল। পরবর্তীতে তিতাস পাইপ লাইন খুঁড়ে তাতে লিকেজ থাকার প্রমাণও পায়। বিস্ফোরণের কয়েকদিন পূর্বে গ্যাস লিকেজের কথা তিতাস কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেইনি এবং ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছিল বলে অভিযোগ করে মসজিদ কমিটির লোকজন। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তিতাসকে দায়ী করা হলে গত ৭ সেপ্টেম্বর তিতাস গ্যাসের ফতুল্লা অফিসের চার কর্মকর্তা এবং চার কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বিস্ফোরণের ঘটনার পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হলেও বিদ্যুৎ, গ্যাস কর্মকর্তাসহ মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে অবহেলা গাফিলতির অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)

সূত্রঃপ্রেস নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin