তারেক ছাড়া বিএনপিতে কি একজন নেতাও নাইঃ শামীম ওসমান

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে বিএনপি পরিচালিত হওয়ায় আপত্তি জানিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপিতে কি একজন নেতাও নাই যিনি এক্টিং চেয়ারম্যান হবার মত উপযুক্ত আছেন। যে বিদেশে বসে বসে একজন পলাতক আসামী তারেক জিয়া উনি দল পরিচালনা করছেন। আপনাদের এতে আপত্তি না থাকলেও আমার কাছে এটা আপত্তিকর মনে হয়।’

মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) রাতে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন ‘ডিবিসি’ এর একটি টকশো অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রসঙ্গে মন্তব্যকালে তিনি এই কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘তারেক জিয়া তো জানেন দেশে আসলে উনি কিভাবে কি করেছেন বা খুন খারাবী করেছেন এই ভয়ে উনি আসছেন না কিংবা যেকোন কারণে আসছেন না। আমার অবাক লাগে উনার স্ত্রীর তো কোন দন্ড নেই। উনি নিজেও একজন ভালো চিকিৎসক। উনি খালেদা জিয়ার সকল চিকিৎসা দেখভাল করছেন। উনি কেন আসছেন না দেশে। উনি তো উনার ছেলের বউ। খালেদা জিয়ার কারণেই তো বিদেশে লাক্সারিয়াস লাইফ কাটাচ্ছেন। শ্বাশুড়ি তো মা হয়, তো নিজের মা কে কেন দেখতে আসছেন না? উনি কেন মেডিকেল টিম নিয়ে আসছেন না বা দেখছেন না?’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ইস্যুতে অত্যান্ত মানবিক দাবী করে শামীম ওসমান বলেন, ‘পলিটিক্স আর পলিট্রিক্স এই দুটো বেশ কমপ্লিকেটেড হচ্ছে এখন। আমি মনে করি জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা মানবিক হবেন। যেই মানুষকে হত্যা করার জন্য ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিলো তখন খালেদা জিয়ার ক্ষমতাকাল চলছিলো। যেখানে আইভী রহমান সহ ২৪ জনকে জীবন দিতে হয়েছিলো। আমরা সেদিন মানবতা দেখিনি। যেই মানবতার কথা আজকে বলা হচ্ছে। আমি অবাক হয়ে দেখেছি, যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার এফআইআর করতে থানায় গিয়েছিলো সেটি পর্যন্ত করতে দেয়া হয়নি। এক এক করে সেই বিচার যেন না হয় সেই চেষ্টা করা হয়েছিলো। সেই ঘটনায় যারা হত্যাকারী তাদেরকে বাঁচিয়ে দেয়া হয়েছে। এতকিছুর পরেও যেই জাতীর কন্যা মানবিকতা দেখিয়েছে তাতে তাকে বিএনপির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।’

আইন সংশোধন করে খালেদা জিয়াকে বিদেশ প্রেরণ প্রসঙ্গে এই আইন প্রনেতা বলেন, ‘সবকিছু করা সম্ভব। আইন যদি নাও থাকে আইন পরিবর্তন করা সম্ভব। কিন্তু সেটা করবো কার জন্য সেটা একটি বিষয়। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে ৫ বছর বিএনপির কারাগারে রাখা হয়েছিলো। তিনি কি করছেন না করছেন এমনকি বাথরুমে কি করছেন তা দেখার জন্য ক্যামেরা রাখা হয়েছিলো। তিনি যখন চিকিৎসার আবেদন করলেন তখন তাকে চিকিৎসার জন্য বাইরে আনা হয়নি এবং সিএমএইচ এ দেয়া হয়নি। প্রতিটি বিষয়ের নিয়তি বলতে একটি জিনিষ আছে। যে যেমন কর্ম করে তার তেমন ফল পেতে হয়। তবে আমি মনে করি যেকোন মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার আছে। আপনি যদি বলেন খালেদা জিয়ার জন্য এটা করতে হবে সেক্ষেত্রে আমি একমত না। সব মানুষ সমান, সবার জন্য আইন সমান। যখন ৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় আসি তখন আমরা দাবী করেছিলাম স্পেশাল কোর্ট করা হোক, দ্রুতগতিতে বঙ্গবন্ধুর বিচার করা হোক, পারলে ধরে নিয়ে এসে এখনই মেরে ফেলা হোক। এতকিছু বুঝতামনা তখন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সাধারণ কোর্টেই তাদের বিচার করেছেন। ২০০১ সালের পরে ২১ আগস্টে যদি শেখ হাসিনা নিহত হতেন তাহলে আমরা এই বিচার পেতাম কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থাকে। যিনি নিজের পিতার প্রশ্নে আইনের শাসনটাকে মেনে চলেছেন এবং নরমাল আইন বেঁছে নিয়েছেন। তারপরেও আমি মানবিক কারনে খালেদা জিয়াকে উনি জেল থেকে বের করে এনে বাসায় রেখেছেন। তাকে ভালো চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তারপরেও পরিবার দাবী করতেই পারে আরও ভালো চিকিৎসা তার দরকার। আমার পরিবারও এমনটি করতে পারতো। এটা চাওয়া কোন অন্যায় না।’

সবশেষ খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে শামীম ওসমান বলেন, ‘খালেদা জিয়া আমার মায়ের বয়সী, আমি তার রোগমুক্তি কামনা করছি। যেকোন মানুষের অসুস্থতার ক্ষেত্রেই আমি সুস্থতা কামনা করা উচিৎ। যদিও তার আমলে আমিই সবচেয়ে বেশী অত্যাচারের শিকার হয়েছি। তারপরেও আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি উনাকে আল্লাহ সুস্থ করুক।’

সূত্রঃ নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin