তল্লা মসজিদে বিস্ফোরণঃএক সাপ্তাহের ভিতরে অভিযোগপত্র দাখিল

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য তদন্ত ও প্রমাণের জন্য সব কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নারায়ণগঞ্জের বিশেষ পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা চাই এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা হলে অনুমোদন নিতে হয়। এ অনুমোদন নিতে যত দেরি হয়। তারপরই আমরা চার্জশীট দাখিল করবো। আমরা এমন ভাবে চার্জশীট তৈরি করছি যাতে ভবিষ্যতে গাফিলতির কারণে এতো মানুষের প্রাণহানী না হয়। এটা যেন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।’

৩১ অক্টোবর শনিবার দুপুরে সিআইডির সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় পশ্চিম তল্লা রেললাইন এলাকা থেকে পশ্চিম তল্লা বায়তুল সালাত জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল গফুর মিয়াকে (৬২) গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

নাছির উদ্দিন বলেন, ‘দায়িত্বে অবহেলা ও অসাবধানতার জন্য আব্দুল গফুরকে মসজিদ বিস্ফোরণের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে দুপুরে দুই দিনের রিমা- আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আব্দুল গফুর মিয়া ঘটনার আগে থেকেই সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি সভাপতির মত এতো গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িতশীল পদে থেকে গ্যাস লাইনের পাইপ লিকেজ হতে গ্যাস মসজিদে জমা হওয়ার বিষয়টি জানা স্বত্ত্বেও মুসল্লিদের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভাবেননি। মসজিদে বিদ্যুৎ এর অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে মসজিদের মত এত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কোন সরকারী অনুমোদন গ্রহণ না করে বহুতল ভবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং মুসল্লীদের সুরক্ষার কথা চিন্তা না করে ঝুকিপূর্ণ ভাবে বিধি বহির্ভূত মসজিদের অভ্যন্তরে মধ্যবর্তী উন্মুক্ত স্থানে বিদ্যুৎ এর সার্কিট বেকার, মিটার, কাটআউট ও ম্যানুয়েল চেঞ্জওভার স্থাপন করেছেন। তিতাস, বিদ্যুৎ ও মসজিদ কমিটির অবহেলা, যথাযথ তদারকি, অসাবধানতা ও মসজিদের যাবতীয় কাজকর্মে যথাযথ নিয়ম নীতি অনুস্বরণ না করার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে সাক্ষ্য প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি’।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় তিতাস, ডিপিডিসি ও মসজিদ কমিটির দায়িত্বে অবহেলা, অসাবধানতার ও গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছি। এজন্য তিতাসের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী, ডিপিডিসির একজন মিটার রিডিং কালেকক্টর, ইলেক্ট্রিশিয়ান ২জন ও গফুর মিয়া সহ ১২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মসজিদ কমিটির আরো কয়েকজনের গাফিলতি আমরা পেয়েছি তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’

প্রসঙ্গত গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টায় সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লা এলাকায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও শিশু সহ ৩৯ জন দগ্ধ হয়। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা প্লাস্টিক সার্জারী ও বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাত থেকে এখনও পর্যন্ত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও অন্যরা বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ন কবির বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্ত ভার সিআইডিকে দেয়া হয়।

সূত্রঃ নিউজ নারায়নগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin