তল্লা মসজিদে বিষ্ফোরনের নেপথ্যে ছিল অবহেলা আর দূর্নীতি

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

আজ তল্লা ট্রাজেডির এক বছর পুর্ন হলো আজ। মসজিদের নিচে থাকা তিতাস গ্যাসের পাইপের লিক হওয়া গ্যাস আর বিদ্যুতের স্পার্ক মিলে এক ভয়ংকর বিষ্ফোরকে পরিনত হয়।

যার বিনিময়ে ৩৪ জনকে দিতে হয় মূল্যবান জীবন। বিভিন্ন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল এই ঘটনার রহস্যভেদে। সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছিল দায়িত্বে অবহেলা আর দুর্নীতির চিত্র।

ঘনবসতিপূর্ণ তল্লা এলাকায় অবৈধ গ্যাসলাইনের বিষয়টিও অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’। স্থানীয় বায়তুস সালাত জামে মসজিদের পাশে থাকা গ্যাসের লাইনগুলোর মধ্যে মোটে দুটি বৈধ আর অনেকগুলো অবৈধ।

তিতাস গ্যাসের দেওয়া এ রকম একটি অবৈধ গ্যাসলাইনের ওপর মসজিদ কমিটি জেনেশুনেই বারান্দার ঢালাই দেয়। এতে গ্যাসের পাইপ ফেটে ছিদ্র হয়। ফলে ফাটা লাইন থেকে গ্যাস নিঃসরিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ত। ওই মসজিদের মুসল্লিরা প্রায়ই গ্যাসের গন্ধ পেতেন। জানানো হলেও মেরামতের সঙ্গে যুক্ত তিতাসের কর্মীরা আর তা মেরামত করেননি।

ঘটনার দিন ৪ সেপ্টেম্বরও ওই মসজিদের ভেতরে গ্যাস জমা হয়ে ছিল। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) মসজিদটিতে নামাজের সময় দরজা, জানালা লাগিয়ে সব এসি চালু করে দেওয়া হয়।

এ সময়ই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে মসজিদের অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন চালু করতে কাটআউট যুক্ত করার সময় বৈদ্যুতিক সুইচে স্ফুলিঙ্গ (স্পার্ক) হয়। স্ফুলিঙ্গ পেয়ে বিকট শব্দে গ্যাস বিস্ফোরণ হয় এবং আগুন ধরে যায়। এতে ভেতরে থাকা ৩৭ জনের মধ্যে ৩৪ জন পুড়ে মারা যান।

এতগুলো মানুষের মৃত্যুর জন্য সিআইডি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডিপিডিসি) কর্মকর্তা ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের লোভ ও অবহেলাকেই দায়ী করে।

সিআইডি সূত্র জানিয়েছিল তল্লার মসজিদে দুর্ঘটনার ঘটনায় ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে তিতাসের আটজন, ডিপিডিসির দুজন ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ ২৬ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে তিতাস গ্যাসের ফতুল্লা অঞ্চলের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক মাহমুদুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী সহকারী এস এম হাসান শাহরিয়ার, সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া, কর্মী মো. ইসমাইল প্রধান, সাহায্যকারী হানিফ মিয়া, সিনিয়র উন্নয়নকারী আইউব আলী ও সিনিয়র সুপারভাইজার মনিবুর রহমান চৌধুরী এবং অভিযোগপত্রে ডিপিডিসি নারায়ণগঞ্জ পূর্ব অঞ্চলের মিটার রিডার আরিফুর রহমান ও বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি মোবারক হোসেন রয়েছেন।

তদন্ত ও গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের জবানবন্দিতে অবৈধ গ্যাসলাইনগুলোর বিষয়ে অনেক কিছু জানা গেছে। আর মসজিদের দুটি বিদ্যুতের লাইনের মধ্যে একটি আবার অবৈধ। ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে মিটার রিডার আরিফুর রহমান ও মিস্ত্রি মোবারক হোসেন ওই অবৈধ বিদ্যুৎ–সংযোগটি দেন।

দুর্ঘটনার পর মসজিদ কমিটির এক সদস্য বলেন এলাকার গ্যাসলাইনে যে ছিদ্র রয়েছে, সে সন্দেহ অনেকেই করতেন। তবে যে জায়গায় পাঁচ-ছয়টি ছিদ্র আছে বলে বলা হতো, সেখান থেকে মসজিদের বারান্দা দূরে। মসজিদে ঢোকার যে একটি সিঁড়ি করা হয়েছে, সেটি ছিদ্র থাকা গ্যাসলাইনের কাছে, তবে ওপরে নয়। এ সিঁড়িও এখানে করা উচিত হয়নি বলে মনে করেন তিনি।

তাঁর দাবি, মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচজন মসজিদে এ অবৈধ বিদ্যুৎ–সংযোগ দিয়েছেন। কমিটির বাকি ২৬ সদস্যের সঙ্গে তাঁরা এ বিষয়ে আলোচনাও করেননি। এই লোকগুলো মসজিদ তৈরি করেছেন, শুরু থেকেই তাঁরা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। আর কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারীর এই দুর্নীতি আর তিতাসের উদাসীনতার জন্যই জীবন দিতে হয়েছিল ৩৪ জন মুসুল্লিদের।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin