তল্লা ট্রাজেডিঃ তিতাসের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। তদন্ত কমিটি বলছে, পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে দীর্ঘদিন যাবত মসজিদের অভ্যন্তরে জমা হচ্ছিল। মসজিদ কক্ষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় গ্যাস বের হওয়ার সুযোগ ছিল না। ঘটনার দিন বিদ্যুতের দ্বিতীয় সংযোগ চালু করতে গিয়ে স্পার্ক করে এবং সেখান থেকেই গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে এশার নামাজ আদায়ের সময় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই দগ্ধ হন ৪২ জন। দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন ৩১ জন। পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে মসজিদের ভেতরে জমা গ্যাস থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটে বলে শুরু থেকে বিভিন্ন সংস্থা ও মসজিদ কমিটি দাবি করে আসছিল। পরবর্তীতে তিতাস পাইপ লাইন খুঁড়ে তাতে লিকেজ থাকার প্রমাণও পায়। বিস্ফোরণের কয়েকদিন পূর্বে গ্যাস লিকেজের কথা তিতাস কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেইনি এবং ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছিল বলে অভিযোগ করে মসজিদ কমিটির লোকজন। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তিতাসকে দায়ী করা হলে গত ৭ সেপ্টেম্বর তিতাস গ্যাসের ফতুল্লা অফিসের চার কর্মকর্তা এবং চার কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

দুর্ঘটনার পর তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক আব্দুল ওয়াহাব তালুকদারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ৮ সেপ্টেম্বর তিতাসের নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের কার্যালয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান তিতাসের জেনারেল ম্যানেজার আবদুল ওয়াহাব তালুকদারের নেতৃত্বে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল গফুরসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কমিটি টানা ৯ দিন অনুসন্ধান করে আজ (বৃহস্পতিবার) তাদের প্রতিবেদন জমা দিবে বলে জানিয়েছে তিতাস কর্তৃপক্ষ।

তিতাসের তদন্ত প্রতিবেদন

তদন্ত কমিটির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, তিতাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পরও লিকেজ মেরামত না করার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয়। এর কোনও তথ্য-প্রমাণ তদন্ত কমিটিকে কেউ দেখাতে পারেনি।

তদন্ত কমিটি জানায়, মসজিদের আশপাশে খোঁড়াখুড়ির পর তারা পাইপ লাইনে ৬টি লিকেজ পেয়েছেন। এছাড়া মসজিদটি নির্মাণের সময় মসজিদের কমিটি রাজউক, তিতাস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কোনো দফতরের অনুমোদন নেয়নি। তারা নিজেদের ইচ্ছামাফিক মসজিদ নির্মাণ করেছেন।

তিতাস বলছে, ওই মসজিদে এসি থাকায় সব জানালা দরজা বন্ধ ছিল। গ্যাসের লিকেজ থেকে অল্প অল্প করে মসজিদের ভেতরে গ্যাস জমতে থাকে। সেদিন এশার নামাজের সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর মসজিদের মুয়াজ্জিন একটি লাইনে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় আরেকটি বিদ্যুতের লাইন চালু করতে গেলে সুইচে বিদ্যুৎ স্পার্ক করে। এতে মসজিদের ভেতরে জমে থাকা গ্যাসে আগুন ধরে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। মসজিদটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় আগুন লেগে যায় মসজিদের প্রায় প্রতিটি কোনায়। এ কারণেই হতাহতের হার অনেক বেশি হয়েছে।

প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত একটি সুপারিশ দিয়েছে তদন্ত কমিটি। সেখানে বলা হয়েছে, এখন থেকে তিতাসের পাইপ লাইনের ওপর কোনও ধরনের স্থাপনা করা যাবে না। কারণ, এতে গ্যাসের পাইপ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে লিকেজ হতে পারে। আর লিকেজের সমস্যা পেলে সঙ্গে সঙ্গে যেন তিতাসকে জানানো হয়।

সূত্রঃপ্রেস নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin