ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করা উৎসব পরিবহন অবৈধঃহাইকোর্ট

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করা উৎসব পরিবহনকে অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলছে, উৎসব পরিবহন লিমিটেডের নামে যেসব বাস চলাচল করছে সেগুলোর অনুমোদন নাই।

আদালতের ওই আদেশের প্রেক্ষিতে উৎসব পরিবহনের সকল বাস বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন আরটিসি’র উপপরিচালক ও সদস্য সচিব শফিকুজ্জামান ভূঞা।

২৫ অক্টোবর রোববার ওই চিঠি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার, বিআরটিএ সহ ৬ দপ্তরে প্রেরণ করেছে।বর্তমানে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করা উৎসব পরিবহনের চেয়ারম্যান হলেন শহীদুল্লাহ। এ বাস চালু করেছিলেন কামাল মৃধা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কয়েক বছর ধরেই বিরোধ চলে আসছিল।

আরটিসির চিঠিতে বলা হয়, উৎসব পরিবহনের মালিক কামাল উদ্দিন মৃধা ‘উৎসব পরিবহন লিমিটেড’ (রেজি: নং-সি-১৫৬৬২৪) এর নামে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বাসসমূহ বন্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্টে বিভাগে রীট পিটিশন নং-৪২৪০/২০২০ দায়ের করা হয়। উক্ত রীট পিটিশনটি শুনানীঅন্তে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ চলতি বছরের ২০ আগস্ট আদেশ প্রদান করেন।

উক্ত আদেশে দেখা যায়, উৎসব পরিবহন কর্তৃক চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মৃধা বিআরটিএ বরাবর গত ৭ জানুয়ারী ‘উৎসব পরিবহন লিমিটেড’ (রেজি: নং-সি-১৫৬৬২৪) এর নামে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বাসসমূহ বন্ধ সংক্রান্ত একটি আবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে উক্ত আবেদনের বিষয়ে আবেদনকারী কর্তৃক হাইকোর্টে বিভাগে রীট পিটিশন নং-৫০৫/২০২০ দায়ের করা হয়। দায়েরকৃত রীট পিটিশনে হাইকোর্ট বিভাগ ৬০ দিনের মধ্যে কামালউদ্দিন মৃধা এর আবেদনটি নিষ্পত্তির আদেশ প্রদান করেন যা পরবর্তীতে ২নং পত্রের মাধ্যমে নিস্পত্তিপূর্বক আবেদনকারীকে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে কালাম মৃধা পুনরায় হাইকোর্ট বিভাগে রীট পিটিশন নং-৪২৪০/২০২০ দায়ের করা হয়। এতে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক উপরোক্ত আদেশ প্রদান করেন।

উল্লেখ্য ঢাকা মেট্রো আরটিসি কর্তৃক এ-২৩৬ নং রুটে (সায়েদাবাদ হতে নারায়ণগঞ্জ স্টপেজ : সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগ, লিংকরোড হয়ে নারায়ণগঞ্জ) উৎসব পরিবহন লিঃ (রেজি: নং-সি-১৫৬৬২৪) নামে কোন পরিবহন কোম্পানির অনুমোদন দেয়া হয়নি। কিন্তু কামাল উদ্দিন মৃধা কর্তৃক ৭ জানুয়ারীর আবেদন অনুযায়ী ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে উৎসব পরিবহন লিঃ (রেজি: নং-সি-১৫৬৬২৪) নামে পরিবহন পরিচালিত হলে তা অবৈধভাবে চলাচল করছে। যা ঢাকা মেট্রোপলিটন আরটিসি কর্তৃক অনুমোদিত নয়। এমতাবস্থায় হাইকোর্ট বিভাগের রীট পিটিশন নং-৪২৪০/২০২০ মামলার আদেশ বাস্তবায়নের নিমিত্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে উৎসব পরিবহন লিঃ (রেজি: নং-সি-১৫৬৬২৪) নামে অবৈধভাবে চলাচলকারী চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারীতে উৎসব পরিবহনের নতুন বাস সার্ভিস চালু করা হয়। এর আগে উৎসব পরিবহনের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে উৎসব পরিবহন নাম পাল্টে উৎসব ট্রান্সপোর্ট করা হয়। এর মধ্যে মারামারির ঘটনার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে উৎসবের বাস বন্ধ করে দেয়। পরে উৎসব পরিবহনের সকল বাস উৎসব ট্রান্সপোর্টের নামে চলাচল শুরু করে। এ নিয়ে উৎসব পরিবহনের চেয়ারম্যান কামাল মৃধার অভিযোগের প্রেক্ষিতে উৎসব ট্রান্সপোর্টের সকল বাস গত ১৬ অক্টোবর বন্ধ করে দেয়া হয়।

উৎসব পরিবহনের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা কামাল বলেন, ‘২০০২ সালে জুলাইতে উৎসব কোম্পানীটি চালু হয়। তখনি ভাড়া দুই টাকা কমিয়ে ১০ টাকায় পরিচালনা করেছি। এর পর থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন মামলা। যখন মামলা একের পর এক হতে থাকে তখনি আমি আর সামলিয়ে উঠতে পারি নাই। বাধ্য হয়ে বিদেশ চলে যাই। বিভিন্ন মামলায় ও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ২০০৫ সালে আমার ভাগিনা কাজল মৃধাকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে নিউইয়র্ক চলে যাই। বিদেশে থাকা অবস্থায় সকল মামলা শেষে দেশে ফিরে এসে কাজল মৃধাকে ব্যবসার হিসাব চাইলে সে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দিয়ে ভয় দেখায় এবং আমার ব্যবসার আয় থেকে দোকান, গাড়ি, ফ্ল্যাট ইত্যাদি আমার নামে ক্রয় না করে নিজের নামে ক্রয় করে। পরবর্তীতে দেশে এসে দেখি আমার কোম্পানি দখল হয়ে গেছে। কামাল মৃধার দাবী করেন, এই ১৪ বছরে ৬০ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে উৎসব থেকে। ওই সময়টাতে শহীদুল্লাহ ও কাজল সহ অন্যরা মিলে এ টাকাগুলো লোপাট করেছে।

‘উৎসব পরিবহনের প্রকৃত মালিক আমি। কিন্তু এত বছর আমার নামে বাস চালিয়ে কোটি কোটি লোপাট করা হয়েছে। এর মধ্যে উৎসব ট্রান্সপোর্টের নামেও আমার বাস চালিয়েছে। এখন পুলিশ সেটা বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন করে আমরা বাস নামানোর পরিকল্পনা করছি। ভাড়া হবে ৩০ টাকা।’

সূত্রঃ নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin