ট্রাম্পের অজানা তথ্য

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের গুণে টিভি তারকা থেকে বনে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে দখলে নেন হোয়াইট হাউজ। কে এই ট্রাম্প? জেনে নিন তার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

নিউইয়র্কে বিত্তশালী রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ফ্রেড ট্রাম্পের পাঁচ সন্তানের মধ্যে চতুর্থ ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অর্ধেক স্কটিশ। কারণ তার মা মেরি’র জন্ম স্কটল্যান্ডে। ১৯৩০ সালে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে মেরি ম্যাকলয়েড চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে প্রথমে পরিচয় ও পরে পরিণয় হয় একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী বিল্ডার ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ফ্রেড ট্রাম্পের সঙ্গে।

পরিশ্রমী এই দম্পতির ঘরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্ম নিউ ইয়র্ক শহরে, ১৯৪৬ সালে। ১৩ বছর বয়সে ট্রাম্পকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় সামরিক একাডেমিতে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে লেখাপড়া করেছেন ট্রাম্প। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে বড় ভাই ফ্রেড জুনিয়র বাবার ব্যবসার হাল ধরেন তিনি। পরে ফ্রেড ট্রাম্প ৪৩ বছর বয়সে অ্যালকোহল আসক্তির কারণে মারা যান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার ভাই-এর মৃত্যুর কারণে সারা জীবন তিনি অ্যালকোহল ও সিগারেট থেকে দূরে ছিলেন।

পিতার কাছ থেকে দশ লাখ ডলার ঋণ নিয়ে তিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসা শুরু করেছিলেন। পরে তিনি তার বাবার প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়ে ব্যবসার বিপুল সম্প্রসারণ ঘটান। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে এই কোম্পানির নাম বদল করে তিনি নতুন নামকরণ করেন, ট্রাম্প অর্গানাইজেশন।  তিনি বলেছিলেন, আমার পিতাই ছিলেন আমার অনুপ্রেরণা।

পিতার মৃত্যুর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের পারিবারিক ব্যবসায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন। ব্রুকলিন ও কুইন্সে আবাসিক বাড়িঘর নির্মাণ থেকে তিনি সরে আসেন নিউ ইয়র্কের কেন্দ্রে ম্যানহাটনের মতো পশ এলাকায় রিয়েল এস্টেটের ব্যবসায়। নির্মাণ করেন বিখ্যাত ভবন ৬৮ তলার ঝকঝকে উজ্জ্বল ট্রাম্প টাওয়ার।

তার কোম্পানির নির্মিত অন্যান্য সুপরিচিত ভবনের মধ্যে রয়েছে ট্রাম্প প্যালেস, ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড টাওয়ার, ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেলসহ আরো কিছু ভবন। মুম্বাই, ইস্তাম্বুল ও ফিলিপিনেও আছে ট্রাম্প টাওয়ার।

বিনোদন জগতের ব্যবসাতেও তিনি এক সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মিস ইউনিভার্স, মিস ইউ এস এ এবং মিস টিন ইউ এস এ সুন্দরী প্রতিযোগিতা আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন তিনি। পরে ২০০৩ সালে তিনি এনবিসি টেলিভিশনে দ্য অ্যাপ্রেনটিস নামের একটি রিয়েলিটি শো চালু করেন। এই শো এর বেশ কিছু অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শো ম্যান থেকে শোবিজেও সফল হয়েছেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েকটি বইও লিখেছেন। 

ডোনাল্ড ট্রাম্প তিনবার বিয়ে করেন। স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত প্রথম স্ত্রী ইভানা জেলনিকোভা। তিনি ছিলেন চেক প্রজাতন্ত্রের একজন অ্যাথলিট, ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেল। এই দম্পতির তিন সন্তান- ডোনাল্ড জুনিয়র, ইভাঙ্কা এবং এরিক। পরে ১৯৯০ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে- যেসে যুদ্ধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। পরে ১৯৯৩ সালে তিনি অভিনেত্রী মারলা মেপেলসকে বিয়ে করেন। তাদের এক কন্যা- টিফানি। এর ছ’বছর পর ১৯৯৯ সালে তাদের বিয়ে ভেঙে যায়। এর পরে ২০০৫ সালে তিনি তার বর্তমান স্ত্রী মেলানিয়া ক্নাউসকে বিয়ে করেন। তিনিও একজন মডেল। এই দম্পতির ঘরে এক ছেলে- ব্যারন উইলিয়াম ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৮৭ সালে একবার প্রেসিডেন্ট পদের জন্য নির্বাচনে লড়াইয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু সেবার হয়নি। পরবর্তীতে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রকে আবার একটি শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে – এই স্লোগান নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েন ট্রাম্প। বিতর্কিত এই নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে তোলা, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ এবং মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়ার বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিশ্রুতি দেন।

অনেকে তাকে একজন ভাঁড়, কমেডিয়ান হিসেবেও উল্লেখ করেন, কেউ কেউ তাকে বলেন মিথ্যাবাদী। আবার যেভাবে তিনি সহজ সরল ভঙ্গিতে সোজা সাপ্টা উচ্চারণ করেন সেটা অনেককে আকৃষ্টও করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে তার শারীরিক অঙ্গভঙ্গি নিয়েও কথাবার্তা হয়। এমনকি কথা হয় তার চুলের রঙ ও স্টাইল নিয়েও। অনেকেই এই চুল আসল নাকি নকল এ নিয়েও প্রশ্ন করেন।

নারী কেলেঙ্কারিতেও জড়িয়ে পড়েন তিনি। অর্থ পরিশোধ না করায় পর্ণ তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসহ বেশ কয়েকজন নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেন।

এতো কিছুর পরও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার কমতি নেই। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদ ধরে রাখতে হলে হারাতে হবে জো বাইডেনকে।

সূত্রঃ সময় নিউজ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin