টিপু হত্যার শুটারকে বগুড়া থেকে যেভাবে গ্রেফতার করে পুলিশ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ঢাকায় আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজছাত্রী সামিয়া আফনান হত্যাকাণ্ডের পর ‘মূল শুটার’ মাসুম মোহাম্মদ ওরফে আকাশকে (৩৬) দুঃসাহসিক এক অভিযানে গ্রেফতার করে বগুড়া পুলিশ। সে চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার কাইশকানির গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে মাসুম ওরফে আকাশ স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে ঢাকার ৬০/১৫ পশ্চিম মাদারটেক এলাকায় বসবাস করতেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই রোববার সকাল সোয়া ৭ টার সময় বগুড়া শহরের চারমাথা বাস টার্মিনালের পাশে খাজা আবাসিক হোটেলর দ্বিতীয় তালার ১০১ নাম্বার কক্ষে ভুয়া নাম ‘মামুন’ পরিচয়কারী কে গ্রেপ্তার করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির দুই কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর তাজমিলুর ও এসআই খোরশেদ মোটরসাইকেল করে সেখানে পৌঁছে তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওই কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক ভাবে মাসুম জানিয়েছে তার সাথে আবাসিক হোটেলে থাকা ওই বাল্যবন্ধু কিলিং এর সাথে জড়িত কেউ নন। তিনি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আর সেই সুবাধে বগুড়ায় যাওয়া করেন সেই বাল্যবন্ধু। পুলিশের অভিযানের ঠিক ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে সেই বাল্য বন্ধু হোটেল থেকে চলে যান।

যেভাবে অভিযান করেন, মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) থেকে বগুড়া পুলিশকে প্রথমে জানানো হয় শহরের সাতমাথায় ‘খাজা’ নামের কোথাও শুটার মাসুম অবস্থান করছেন। সেই তথ্য জানার পরেই খাজা নামের সেই প্রতিষ্ঠানটির সন্ধান শুরু করে বগুড়া পুলিশ। একপর্যায়ে চারমাথা এলাকার খাজা আবসিক নামে হোটেলটির সন্ধান পাওয়া যায়। এরপরেই দ্রুত সময়ে ইন্সপেক্টর তাজমিলুর ও এসআই খোরশেদ মোটরসাইকেল করে সেখানে পৌঁছান। অভিযুক্তকে কোন কিছু বুঝে উঠার সময় না দিয়ে হোটেল ম্যানেজারকে ডিএমপির ডিবি পুলিশের পাঠানো গ্রেফতার মাসুমের ছবি দেখানো হয়। অনেকটা নিশ্চিত হওয়ার পরেই এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা আবাসিক হোটেলটির দ্বিতীয় তালার ১০১ নাম্বার কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপরেই পুলিশের এসআই খোরশেদ ওই রুমে দ্রুত সময়ে তার হাতে হাতকড়া পড়িয়ে দেন।

এরমধ্যে ইন্সপেক্টর তাজমিলুর পুলিশের উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের মাসুমকে গ্রেফতারে বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠাতে বলেন। এই সব কিছু সংগঠিত হয় সোয়া ৭ টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে মাত্র ১৫ মিনিট সময়ে। পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স এই দুই কর্মকর্তার পাশেই থাকায় মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে সেখানে উপস্থিত হন। এই সময় মাসুমের আগ্নেয়াস্ত্র বা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহত আগ্নেয়াস্ত্র তার কাছেই আছে কিনা জিজ্ঞাসা করা হয়। তখন তিনি জানান বর্তমানে তার কাছে কোন আগ্নেয়াস্ত্র নেই। এছাড়াও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহত আগ্নেয়াস্ত্র তিনি ঢাকায় লুকিয়ে রেখে এসেছেন। পাশাপাশি তার ব্যবহত মুঠোফোনও তিনি হাতিরঝিলে নষ্ট করে রেখে এসেছেন। এরপরও পুলিশ ১০১ নাম্বার রুমের কক্ষটিতে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে তল্লাশি চালিয়ে তার কথার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তারপরেই সকাল ৮ টার দিকে মাসুমকে পুলিশ সদর থানায় নিয়ে আসে।

যেভাবে হোটেলে কক্ষ ভাড়া নেন মাসুম: খাজা হাইওয়ে মোটেল নামের আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার আইয়ুব আলী জানান, মোবাইল ফোন কোম্পানীতে চাকরি করেন রাজন নামের এক যুবক মাঝে মধ্যেই হোটেলে থাকতেন। সেই সুবাদে রাজন হোটেলে পরিচিত।শনিবার (২৬ মার্চ) রাজন হোটেলের ১১১ নম্বর কক্ষ ভাড়া নিয়ে অবস্থান করেন। রাজন হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানান ঢাকা থেকে তার একবন্ধু আসবেন। তার জন্য একটি কক্ষ রাখতে বলেন। রাজনের কথায় হোটেল কর্তৃপক্ষ ৪০০ টাকা ভাড়ায় ১০১ নং কক্ষটি ফাকা রেখে দেন। রাত সাড়ে ১২ টায় রাজনের বন্ধু পরিচয়ে হোটেলে আসা যুবককে ১০১ নং কক্ষের চাবি দেয়া হয়। নাম ঠিকানা পরে এন্ট্রি করবেন বলে তিনি রুমে চলে যান। রাজন রবিবার সকাল ৭টার দিকে কক্ষ ছেড়ে দিয়ে রাজশাহী চলে যান বলে জানিয়েছেন হোটেল কর্তৃপক্ষ।

মাসুম ওরফে আকাশকে গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক তাজমিলুর রহমান বলেন, হাতকড়া লাগানোর পর তিনি নিজে থেকেই জোড়া খুনের বর্ননা দেন। মাসুম এর আগেও ঢাকাতে একজনকে গুলি করে হত্যা করে বলে পুলিশকে জানায়। এছাড়াও তার নামে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ৫টি চাঁদাবাজী মামলা রয়েছে। জোড়া খুনের পর ওই রাতেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভেঙ্গে সীমকার্ড সহ হাতিরঝিলে ফেলে দেয়। পরদিন তিনটি নতুন মোবাই ফোন সেট কিনেন এবং ৩টি সীম কার্ড সংগ্রহ করেন। যার একটি নাম্বার মাসুম ব্যবহার শুরু করেন। শুক্রবার ঢাকাতেই পালিয়ে থাকার পর শনিবার সন্ধ্যায় একটি বাস যোগে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বগুড়া পৌছার আগেই রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মোবাইল ফোনে তার মা’র সাথে কথা বলেন। এরপর মাসুম মোবাইল ফোনে কারো সাথে যোগাযোগ করেননি। চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার কাইশকানির গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে মাসুম ওরফে আকাশ স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে ঢাকার ৬০/১৫ পশ্চিম মাদারটেক এলাকায় বসবাস করতেন। তবে বগুড়ার খাজা হাইওয়ে হোটেলের একজন কর্মচারী বলেন শনিবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে একটি প্রাইভেট কার যোগে তিনি হোটেলে আসেন। প্রাইভেট কারে আরো দুই জন থাকলেও তারা মাসুম নামের ওই ব্যক্তিকে নামিয়ে দিয়ে চলে যান।

বগুড়ার সদর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলম জানান, গ্রেফতারের পরেই মাসুম আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা কথা স্বীকার করেন। আর কলেজ ছাত্র সামিয়ার নিহতের খবর তিনি টিভিতে দেখার পরে জানতে পারেন। তার উদ্দেশ্য ছিল বগুড়া হয়ে জয়পুরহাট দিয়ে প্রতিবেশি দেশে পালিয়ে যাওয়া। এই কর্মকর্তা আরও জানান, মাসুম গ্রেফতার সময় খুব স্বাভাবিক ছিল। সাবলিল ভাবে তার অপরাধ স্বীকার করেছে। পাশাপাশি একবারের জন্যও তাকে ভয় পেতে দেখিনি। এছাড়াও তিনি অবাক হয়েছিলেন কিভাবে আমরা তার সন্ধান পেলাম। তার ধারণা ছিল তিনি খুব নিরাপদে পালাতে সক্ষম হবেন।

বগুড়া সদর থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাসুমকে গ্রেফতার করা হয়। আমাদের কাছে শনাক্ত করার জন্য শুধু খাজা নামটি ছিল। তবে দ্রুত সময়ে তার অবস্থান আমরা অ্যানালক ভাবে শনাক্ত করি ও গ্রেফতারে সম্মত হই৷ গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক শাহজাহানপুরের আমতল

সূত্রঃ বিডিলাইভ২৪

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin