টিকেনি সাখাওয়াত, শুরু খোকন চন্দনের

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

অনেকটা দেরিতে হলেও বিগত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানের সেই জিউস পুকুরের অভিযোগ এবার বিষ্ফোরক আকার ধারণ করেছে। মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নেতারা রীতিমত মানববন্ধন করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। এর পাশাপাশি আওয়ামীলীগ নেতারাও বিষ্ফোরক মন্তব্য করে আইভীর নমিনেশন না দেয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। অথচ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে এই নেতারা নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আইভীর জন্য ভোট প্রার্থনা করেছিল। সেই নির্বাচনের সময় সাখাওয়াত হিন্দুদের জিউস পুকুর দখলের অভিযোগ তুললেও সংখ্যালঘু সহ অন্য নেতারা মুখ খুলেনি। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠে, দীর্ঘদিন পর কেন জিউস পুকুর ইস্যুতে আইভীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হল, আগে কেন তোলা হলনা।

১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ও তার পরিবার স্বজনদের বিরুদ্ধে দেওভোগের জিউস পুকুর সহ লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন জেলার সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। সেসময় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরাও সেখানে উপস্থিত থেকে ঝাঁজালো বক্তব্য রাখেন। পরে মানববন্ধন শেষে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সেই স্মারকলিপিতে মেয়র আইভী সহ তার পরিবার স্বজনদের বিরুদ্ধে দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ তোলা হয়। এর পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতে ইসলামে সাথে কানেকশনের কথা উল্লেখ করা হয়। মহানগর জামায়াতে ইসলামের আমির মাঈনুদ্দিনের বক্তব্যের অংশ তুলে ধরেন।

সেই মানববন্ধনে সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের সাথে আওয়ামীলীগের দুই নেতা অংশগ্রহণ করে বক্তব্য রাখেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বলেন, স্মারকলিপি অনুযায়ী মেয়র আইভীর আত্মীয় স্বজন এই জায়গা দখল করেছেন এই বিষয়টা আমি নেত্রীর (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার) কাছে তুলে ধরবো। আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, যারা হিন্দু সম্পত্তি দখল করে আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই নমিনেশন দিবেনা। এটা অত্যন্ত পরিষ্কার। জননেত্রী শেখ হাসিনা এদেশের সংখ্যালঘুদের রক্ষাকবজ। তিনি আবশ্যই আপনাদের বিষয় বিবেচনা করবেন। হুমকি ধামকি দিবেন না। যদি হত্যা করতে চান তাহলে আমাকে হত্যা করেন। আমি শেষ পর্যন্ত জিউস পুকুর নিয়ে কথা বলবো। জিউস পুকুর সহ সব জায়গা উদ্ধার করবো।

মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি বাবু চন্দন শীল বলেন, শুধু দুঃখের সাথে বলতে চাই, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদেরকে আমরাই ভোট দিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসাতে আপনাদের অনুরোধ করেছি। একারণে দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু দখলের নামে কাউকে হুমকি দিবেন হত্যার হুমকি দিবেন এটা হতে পারেনা।

এর প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিন হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক প্রোগ্রাম করা হয়েছে। মানুষকে মিথ্যা কথা বলে এখানে এনে। এবং এ প্রোগ্রামটা শামীম ওসমান সাহেব করিয়েছেন। তার নির্দেশে হয়েছে। কারণ হলো, এখানে খোকন সাহার বক্তব্যে স্পষ্ট যেন মনোনয়ন দেওয়া না হয়। তাহলে কি নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেলো। আর নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়েই কি আবার সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার জন্যই কি মাঠে নামানো হলো? এটা আমার প্রশ্ন?

তিনি বলেন, ‘জিউস পুকুরের সঙ্গে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। একজন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা এখানে নাই। আমার বাবা আলী আহম্মদ চুনকারও ছিল না। এ জায়গা যদি ক্রয় করে থাকে আমার নানা মাহাতাব উদ্দিন সাহেব। ওনার ক্রয়কৃত সম্পত্তি থেকে যদি তার ছেলে মেয়েরা ওয়ারিশ হিসেবে প্রাপ্ত হয়ে থাকে তাহলে কি অপরাধ আমার। এটা কখন কিনেছে মাহাতাব সাহেব এবং ও জামির আহমেদ? এটা খতিয়ে দেখা উচিত। যদি এটা ১৯৮০ বা ১৯৮১ সালে ক্রয় করে থাকে তাহলে আজকে ৩৯ বছর পর এসে কেন এ প্রশ্ন করা হচ্ছে। তাহলে কোথায় ছিল সমাজপতিরা, হিন্দু সম্পত্তি রক্ষার্থে?

তিনি আরো বলেন, ‘১৯৮৪ সালের আলী আহম্মদ চুনকাকেও একইভাবে একই অভিযোগে অভিযুক্ত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে (তখন তিনি বিরোধী দলের নেত্রী ছিলেন) তখন এ অভিযোগ উৎথাপন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযোগও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল। আজকে পুনরায় ৩৬ বছর পর এসে একই অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে করা হচ্ছে। তাহলে এ ষড়যন্ত্রকারী কারা? এবং তারা সময় সময় তারা সময়কে ও মানুষকে ব্যবহার করে এক সাম্প্রদায়কে উত্তেজিত করার জন্য এবং আমার নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের চক্রান্তমূলক মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার জন্য এ কাজটি করছে। তবে সত্য কোন দিনও মিথ্যা হয় না। সত্য প্রমাণিত হবেই। এ জায়গার মালিক নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র নয় অথবা মেয়রের বাবাও নয়। এ জায়গা ক্রয় করেছে কারা সেটা খুঁজে দেখা হোক। এবং সেই ক্রয়টা বৈধ না অবৈধ সেটাও বের করা হোক।’

জানাগেছে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই নির্বাচনের মেয়র আইভীর কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান। ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের গণসংযোগকালে বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান অভিযোগ করে বলেন, আমি শহরের দেওভোগ জিউস পুকুরপাড়া নন্দীপাড়া এলাকায় গণসংযোগে যাওয়ার পরে ওই এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অভিযোগ করেছেন আওয়ামীলীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আইভী ও তার লোকজন জিউস পুকুর দখল করেছেন। তারা আমার কাছে দাবি জানিয়েছে আপনি মেয়র নির্বাচিত হলে পুকুরটি উদ্ধার করবেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আইভীকে বিশ্বাস করেনা। এজন্য নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাকে ভোট দিবেনা।’ এছাড়াও একটি টকশো অনুষ্ঠানে তিনি একই অভিযোগ তোলেন মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে।

দীর্ঘ ৪ বছর পর বিএনপি প্রার্থী ও মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের সেই অভিযোগটি বিষ্ফোরক মন্তব্যে রুপ নিয়েছে। এখন খোদ আওয়ামীলীগের নেতারা মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সহ নানা মন্তব্য করছেন। এতে করে নানা প্রশ্নবানে আটকা পড়ছেন। অন্যদিকে মেয়র আইভীর পাল্টা অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা।

সূত্রঃ নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin