টিকা নিয়ে টাকা না দেওয়ায় নারীকে হুমকি

শেয়ার করুণ

করোনা সুরক্ষায় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিয়ে সাড়ে ৪ হাজার টাকা না দেওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের (ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল) এক যুবক ফোনে হুমকি ধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সৌদি আরবগামী এক নারী। এ ব্যাপারে হাসপাতাল ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভুক্তভোগী নারী মৌখিক ভাবে ওই অভিযোগ করেন। অভিযোগে ভুক্তভোগী ঝর্ণা আক্তার বলেন, ‘আমার আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরব যাওয়ার ফ্লাইট। তার আগে করোনা টিকা নিতে হবে। প্রথমে যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভিসা করিয়েছি তারা বলেছে করোনা টিকার বিষয়টি তারাই দেখবে। কিন্তু শেষ মূহূর্তে এসে বলেন তারা টিকা দিতে পারবেন না।

তাছাড়া আমার হাতে মাত্র ১০ দিন সময় আছে। কিন্তু আমার টিকার ম্যাসেজও আসেনি। তাই বাধ্য হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে যোগাযোগ করি। তখন হাসপাতালে চিকিৎসার সূত্রে আগে থেকেই পরিচিত ছিল বাপ্পী। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে বলে বিদেশ যাওয়ার জন্য ফাইজার টিকা দিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। তবে এজন্য সাড়ে ৪ হাজার টাকা দিতে হবে। এতে আমি রাজি হই। তবে আমি জানতাম না টিকা নিতে কোন টাকা দিতে হয় না।

তিনি আরও জানান, গত ২৯ জানুয়ারি রাতে বাপ্পী আমার কাছ থেকে পাসপোর্টের ফটো কপি ও টিকার কার্ডের ফটোকপি নেয়। পরদিন ৩০ জানুয়ারি যাওয়ার পর টিকা দিয়ে দেয়। কিন্তু তখনও ম্যাসেজ আসেনি। টিকার জন্য যখন টাকা দিবো তখনই আমার আত্মীয় স্বজনরা এসে বলে টিকা দিতে কোন টাকা লাগে না। তাই আমি টাকা না দিয়ে চলে আসি।

তারপর থেকেই সে ফোন দিয়ে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। টিকা সরকারি ভাবে রেজিস্ট্রেশন হয়নি, এক ডোজ নিয়ে যেতে পারবো না, টাকা না দিলে ভালো হবে না, ইত্যাদি। সোমবার রাতেও ফোন দিয়ে বিভিন্ন কথা শুনিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে আমি সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও হাসপাতালের ডাক্তারদের জানিয়েছি। ওইসময় বাপ্পীকে ফোন দিলে সে পালিয়ে যায়।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ‘বাপ্পী নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ১০৫ নম্বর কক্ষের ডাক্তার মফিজুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী। হাসপাতালের নিয়োগভুক্ত কোন কর্মচারী নয়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টিকাদান কর্মীরা জানান, ‘বিদেশগামীদের টিকা হাসপাতালে দেওয়া হয় না। তাছাড়া মোবাইলে এসএমএস না আসলেও টিকা দেওয়া হয় না।’
তিনি বলেন, ‘এ বাপ্পী বিভিন্ন সময় এসে হাসপাতালের ডাক্তারদের নাম ব্যবহার করে মোবাইলের এসএমএস ছাড়াই টিকা দিতে বাধ্য করে।

টিকা দিতে অস্বীকার করলে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচারণ করে। শুধু বাপ্পী নয় এমন আরো কয়েকজন আছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ দিলেও কোন পদক্ষেপ নিতে কাউকে দেখা যায়নি।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ মোস্তফা আলী বলেন, ‘ওই নারী মৌখিকভাবে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে আমি সঙ্গে সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ও সিভিল সার্জনকে জানিয়েছি। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

নিউজটি শেয়ার করুণ