জেলা বিএনপিতে ভাঙ্গনের সুর

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

প্রায় দেড় যুগ ক্ষমতার বাহিরে থাকা দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির অবস্থা অনেকটাই করুন। সাংগঠনিক দুর্বলতা, কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ অনেক পুরানো। সম্প্রতি নারায়নগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটিতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগে শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিরোধ। পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের আগেই দেখা দিচ্ছে ভাঙ্গনের সুর।

সুত্র জানায় গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান সিদ্ধিরগঞ্জের শাহ আলম হীরাকে কমিটিতে রাখাকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপিতে দুই গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রমতে গতকাল বিকেলের দিকে ঢাকার ৭১ রেস্টুরেন্টে কমিটি গঠনের সময় হীরাকে কমিটিতে রাখায় বৈঠকে এ ঘটনার তীব্র বিরোধীতা করেন এড. তৈমূর আলম খন্দকার । তিনি বৈঠক ছেড়ে উঠে আসলে আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্য তার সাথে সাথে বৈঠক ছেড়ে চলে আসেন বলে জানা যায়।

তৈমুর আলমের মিটিং ছেড়ে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তৈমূরের সাহসী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সুন্দর ও শক্তিশালী কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তৈমূর আলম খন্দকারের পাশে তারা সবাই থাকবেন। একই সাথে তারা অভিযোগ করে বলেন, মামুন মাহমুদ প্রতিটি থানা ও উপজেলাতে নিজের মত করেই কমিটি সাজাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি কমিটির আহ্বায়ক তৈমূর আলম খন্দকারকে কোনো রকম পাত্তাই দিচ্ছিলেন না। এনিয়ে তৃণমূলের মাঝে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ ছিল।

তৃনমুল কর্মীদের অভিযোগ , সিদ্ধিরগঞ্জের শাহ আলম হীরার মা আওয়ামী লীগ নেত্রী, এক ভাই ছাত্রলীগ নেতা আরেক ভাই শ্রমিক লীগ নেতা হওয়ার পরও তাকেই মামুন মাহমুদ সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপির সদস্য সচিব করার প্রস্তাব দেন। এতে দুই একজন ছাড়া বাকী সকল সদস্যই বিরোধীতা করেন। কিন্তু তা কোনো ভাবেই আমলে নেন নি মামুন। এ নিয়ে বৈঠকে ব্যাপক বাগবিতন্ডা, বিরোধীতা হয়। এক পর্যায়ে তৈমূর আলম খন্দকার বৈঠক ছেড়ে উঠে আসেন। এসময় অন্যান্য সদস্যরাও তৈমূর আলমকে সমর্থন করে তার সা‌থে বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসেন বলে সূত্রটি জানায়।

সূত্রটি আরও জানায়, সকলের মতামতের ভিত্তিতে সকলকে নিয়ে প্রতিটি কমিটি করার কথা থাকলেও মামুন মাহমুদ বিতর্কিত নজরুল ইসলাম আজাদ, শাহ আলম এবং মনিরুজ্জামান মনিরকে সুবিধা দিতে কমিটি ঘোষণা করার প্রস্তুতি নেন। এতে অন্যরা বিরোধীতা করলেও তা কর্ণপাত করেননি মামুন মাহমুদ।

তাছাড়াও ফতুল্লায় শাহ আলমের ইচ্ছেতে জাহিদ হাসান রোজেলকে আহ্বায়ক এবং নজরুল ইসলাম পান্না মোল্লাকে সদস্য সচিব ও সিদ্ধিরগঞ্জে আব্দুল হাই রাজুকে আহ্বায়ক এবং আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান শাহ আলম হীরাকে সদস্য সচিব হিসেবে নির্ধারিত করেন। এই দুটি এলাকাতে সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন ও তৈমূর আলম খন্দকারের পছন্দকে কোন গুরুত্বই দেওয়া হচ্ছে না। সোনারগাঁয়ে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে আহ্বায়ক ও মামুন মাহমুদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট চাওয়া মোশারফ হোসেনকে সদস্য সচিব নির্ধারণ করেন। এখানেও মোশারফকে নিয়ে বিরোধীতা করেন অন্যান্য সদস্যরা। কিন্তু মামুন মাহমুদ এতেও কর্ণপাত করেননি।

অন্যদিকে রূপগঞ্জে কাজি মনিরের লোক অ্যাড. হুমায়নকে আহ্বায়ক এবং নজরুল ইসলাম আজাদের লোক সায়েমকে সদস্য সচিব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এখানে বাদ দেওয়া হয় তৈমূর আলম খন্দকারের লোকজনকে। আড়াইহাজারে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব করা হচ্ছে নজরুল ইসলাম আজাদের লোককে। এখানে বাদ দেওয়া হয়েছে আতাউর রহমান আঙ্গুর ও মাহমুদর রহমান সুমনের লোকজনকে। এটিও করেছেন মামুন মাহমুদ। এ নিয়ে বিরোধীতা, বিতর্ক ছিলো চরম। কিন্তু তিনি কোনো কথাই শুনেননি।

সব কিছুই অধা আধা মেনে নেওয়া হচ্ছিলো। কিন্তু যার মা আওয়ামী লীগ নেত্রী, ভাই ছাত্রলীগ, আরেক ভাই শ্রমিক লীগের রাজনীতি করেন সেই শাহ আলম হীরাকে কেউই মেনে নিতে পারছিলেন না। ফলে এ নিয়েই চরম বিতন্ডার সৃষ্টি হয় ৭১ রেস্টুরেন্টে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৈমূর বৈঠক বয়কট করে উঠে আসেন।

তবে, তৈমূর আলম খন্দকার বৈঠক বয়কট করার কারণে তৃণমূল যারপরনাই খুশি হয়েছেন। তারা এমন রূপেই তৈমূর আলমকে দেখতে চেয়েছিলেন। কেননা, নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে যেভাবে রাহুগ্রাস করছিলো সেই রাহু থে‌কে মুক্ত করার একমাত্র অবলম্বন ছিলেন তৈমূর। তৃণমূলও তার দিকেই তাকিয়ে ছিলেন। শেষতক তৈমূর আলম তৃণমূলের সেই প্রত্যাশাই পূরণ করেছেন। তবে, বিএনপিকে রক্ষা করতে হলে তাকে সামনের দিনে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে বলে মত দিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এতে তারা তৈমূর আলম খন্দকারের পক্ষাবলম্বন করবেন বলেও জানিয়েছেন।

জেলা বিএনপির বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ বেশ পুরানো। আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে জেলা বিএনপির জোরালো ভুমিকা চায় কেন্দ্র। সেই কারনেই মোটামুটি ত্যাগী এবং স্বচ্ছ ইমেজের লোক দিয়েই গঠিত হয়েছিল আহবায়ক কমিটি। কিন্তু থানা কমিটি গঠন নিয়েই পুরানো চেহারায় ফিরলো জেলা বিএনপি। সময়ই বলে দিবে এই বিরোধ জেলা বিএনপির ভাঙ্গন ধরায় কীনা।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin