জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল: না.গঞ্জের নেতাদের প্র‌তিবাদ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের(বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের একজন জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাব প্রদান করা হয়েছিল। এবার সেই ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় জড়িত থাকা এবং রাজাকারদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনসহ আরো নানা অভিযোগ। তবে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করা বা না করা নির্ভর করছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করবে।

জামুকা’র এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভে সৃষ্টি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে। এমন সিদ্ধান্তে গণমাধ্যমে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘স্বাধীনতার সুর্বণ জয়ন্তীর দ্বার প্রান্তে আমরা। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে হঠাৎ একজন সেক্টর কমান্ডার, মুক্তিযোদ্ধের ঘোষক জিয়াউর রহমানের খেতাব কেড়ে নেয়া হচ্ছে। স্বাধীনতার এত বছরে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তারা জাতিকে বিভক্ত করলো। তাদের ব্যর্থতা ডাকার জন্যই তাদের এ সমস্ত ষড়যন্ত্র। জাতি হতাশ তাদের এমন সিদ্ধান্তে। সবার মনে বেদনার সৃষ্টি হয়েছে। ইতিহাস কখনও আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করবে না। এই খেতাব কেড়ে নিয়ে কাকে দিবে? কাকে দিতে চায়? যারা মুক্তিযুদ্ধ করে নাই তাদের? আওয়ামী লীগের যারা নেতৃত্ব দেয়, তাদের একজনেরও খেতাব নেই, খুঁজে দেখতে হবে আছে কি না’।

আড়াইহাজার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুজিবুর রহমান কিংবা শেখ হাসিনার জন্য যুদ্ধ করেন নি। বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের মুক্তির জন্য যুদ্ধ করেছেন। আওয়ামী লীগকে নিয়ে আলজারিরা প্রতিবেদন ঢাকার জন্যই সরকারের নতুন নাটক এটি’।

জেলা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘এমন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণই ষড়যন্ত্র। আলজারিরা রিপোর্ট চোখের আড়াল করতেই এই সিদ্ধান্ত। বিশাল ষড়যন্ত্র হচ্ছে। জিয়াউর রহমান এদেশের প্রেসিডেন্ট নয়, সেনাবাহিনীর প্রধান, স্বাধীনতার ঘোষকসহ আরও অবদান ছিল তার। এ সিদ্ধান্ত কোন ভাবেই মেনে নিবো না। খেতাব বাতিল করতে হলে যে দিছে তার বিচার করতে হবে। শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার করতে হবে’।

মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর মুক্তিযু্দ্ধকে বিতর্কিত করতেই আওয়ামী লীগের এই ষড়যন্ত্র, এবং যারা প্রস্তাব করছে এবং পাশ করছে তারা আওয়ামী লীগের শুভাকাঙ্খি হতে পারে না, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে তারা, শুধু আমরা বিএনপি নই এদেশের প্রত্যেকটা জনগণ এ সিদ্ধান্তে ক্ষুদ্ধ

মহানগর মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আয়শা আক্তার দিনা বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের বীরউত্তম খেতাব বাতিলের অপচেষ্টা করা হলে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কলঙ্কময় অধ্যায় রচিত হবে। জিয়াউর রহমান স্ত্রী সন্তানদের কথা চিন্তা না করে, ঝাঁপিয়ে পরেছিল স্বাধীনতার যুদ্ধে। শেখ মুজিবের ফ্যামিলির মধ্যে কয়জন মুক্তিযুদ্ধা? জীবনও বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বীরউত্তম খেতাব বাতিল হবে না, হলে সরকার পতনের আন্দোলন হবে’।

জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান স্বপন বলেন, ‘দেশের যে সার্বিক পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করতে চাচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে প্রবাহিত করতে এই ষড়যন্ত্র। সরকারের দুর্নীতি, দুঃশাসন, লুটতরাজ সারা বাংলাদেশের মানুষ এটা নিয়ে যখন নজরদারিতে আছে, দৃষ্টি অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত মানবে না সাধারণ জনগণ। রাষ্ট্রীয় খেতাব ব্যক্তিগত ভাবে নিতে পারে না, যিনি দিলেন তিনি কে? যে খেতাব দিয়েছে তাকেও বিচারের আত্ততায় আনা উচিত। সেটা আবার কেড়ে নিবে, কেন দিলো?’

মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর প্রধান বলেন, ‘বর্তমান সরকার ঝালেম অবৈধ সরকার। তাদের সমস্ত কর্মকান্ড অবৈধ। যারা নিজেরাই অবৈধ, তারা কাউকে অবৈধ করতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে তাদের কথা বলার এখতিয়ার নেই। আওয়ামী লীগের কয়জন বীর বিক্রম আর বিএনপির কয়জন? সরকারী দলের যারা তারা নিজেরা যুদ্ধপরাধী পোষে। তারা কি সিদ্ধান্ত দিবে? সরকারী দলের যুদ্ধপরাধীদের বিচার হয় নাই’।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার মাদার অফ মাফিয়া আলজারিরার যে প্রতিবেদন এটাকে আড়াল করার জন্য, জিয়াউর রহমানের উপাধি তারা বাতিল করতে চায় । বিভিন্ন সময় সরকার ইস্যু দাড় করায়, সেরকমই এই সিদ্ধান্ত। মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করেছেন এবং ঘোষণা দিয়েছেন। এদেশে জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা ও অবদান যেকোন প্রান্তে গেলে বাচ্চারও বলতে পারবে। যারা কেড়ে নিতে চায় তারা ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এদেশের মানুষ দাঁতভাঙ্গা জবাব দিবে, সকলেই প্রতিহত করবে। জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে যারা আছি, যেকোন কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করবো। আমি কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে বলতে চাই নারায়ণগঞ্জের মাটি থেকেই খুনি হাসিনার পতন ঘটানোর আন্দোলন শুরু হবে’।

সূত্রঃ লাইভ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin