জিউস পুকুরের সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নাই : আইভী

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘জিউস পুকুরের সঙ্গে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। একজন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা এখানে নাই। আমার বাবা আলী আহম্মদ চুনকারও ছিল না। এ জায়গা যদি ক্রয় করে থাকে আমার নানা মাহাতাব উদ্দিন সাহেব। ওনার ক্রয়কৃত সম্পত্তি থেকে যদি তার ছেলে মেয়েরা ওয়ারিশ হিসেবে প্রাপ্ত হয়ে থাকে তাহলে কি অপরাধ আমার। এটা কখন কিনেছে মাহাতাব সাহেব এবং ও জামির আহমেদ? এটা খতিয়ে দেখা উচিত। যদি এটা ১৯৮০ বা ১৯৮১ সালে ক্রয় করে থাকে তাহলে আজকে ৩৯ বছর পর এসে কেন এ প্রশ্ন করা হচ্ছে। তাহলে কোথায় ছিল সমাজপতিরা, হিন্দু সম্পত্তি রক্ষার্থে?

১১ নভেম্বর বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে সিটি করপোরেশনে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী তার পরিবার স্বজনদের বিরুদ্ধে দেওভোগের জিউস পুকুর সহ লক্ষীনারায়ণগ জিউর মন্দিরের দেবোত্তর সম্পতি দখলের অভিযোগে মানববন্ধনের পরে প্রতিক্রিয়ায় নিউজ নারায়ণগঞ্জকে এসব কথা বলেন আইভী।

তিনি আরো বলেন, ‘১৯৮৪ সালে আলী আহম্মদ চুনকাকেও একই ভাবে একই অভিযোগে অভিযুক্ত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে (তখন তিনি বিরোধী দলের নেত্রী ছিলেন) তখন এ অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযোগও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল। আজকে পুনরায় ৩৬ বছর পর এসে একই অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে করা হচ্ছে। তাহলে এ ষড়যন্ত্রকারী কারা? এবং তারা সময় সময় তারা সময়কে ও মানুষকে ব্যবহার করে এক সম্প্রদায়কে উত্তেজিত করার জন্য এবং আমার নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের চক্রান্তমূলক মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার জন্য এ কাজটি করছে। তবে সত্য কোন দিনও মিথ্যা হয় না। সত্য প্রমাণিত হবেই। এ জায়গার মালিক নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র নয় অথবা মেয়রের বাবাও নয়। এ জায়গা ক্রয় করেছে কারা সেটা খোঁজে দেখা হোক। এবং সেই ক্রয়টা বৈধ না অবৈধ সেটাও বের করা হোক।’

এর আগে মানববন্ধনে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বলেন, ধর্মের নামে ভন্ডামী চলবেনা। কেউ কেউ নিজেকে ধার্মিক দাবি করে মসজিদের জায়গা দখল করে নেন মন্দিরের জায়গা দখল করবেন আওয়ামীলীগ এটা সহ্য করবে না। স্মারকলিপি অনুযায়ী মেয়র আইভীর আত্মীয়স্বজন এই জায়গা দখল করেছেন এই বিষয়টা আমি নেত্রীর (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার) কাছে তুলে ধরবো। আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, যারা হিন্দু সম্পত্তি দখল করে আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই নমিনেশন দিবেনা। এটা অত্যন্ত পরিষ্কার। জননেত্রী শেখ হাসিনা এদেশের সংখ্যা লঘুদের রক্ষাকবজ। তিনি আবশ্যই আপনাদের বিষয় বিবেচনা করবেন।

নারায়গঞ্জ জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি বাবু চন্দন শীল বলেন, শুধু দুঃখের সাথে বলতে চাই, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদেরকে আমরাই ভোট দিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসাতে আপনাদের অনুরোধ করেছি। একারণে দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু দখলের নামে কাউকে হুমকি দিবেন হত্যার হুমকি দিবেন এটা হতে পারেনা।

মানববন্ধন শেষে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ এবং জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ নগরী স্থাপনের সময়কালে শ্রী বিকন লাল ঠাকুর শহরের দেওভোগ আখড়া এলাকায় আমাদের উপাস্য দেবতা লক্ষীনারায়ণের নাম শ্রী শ্রী রাজা লক্ষীনারায়ণ জিউর বিগ্রহ মন্দির নামে একটি মন্দির স্থাপন করেন।

সূত্রঃ নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin