জিউস পুকুরের অংশ আমার নানা কিনেছে আরো চল্লিশ বছর আগেঃ আইভি

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী সাম্প্রতিক ইস্যুতে বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে পোস্টার লাগানো হয়েছে। আমি ব্যাক্তি আইভী একজন মুসলমান। কিন্তু আমি যখন এই চেয়াটায় বসি তখন আমি সকলের। আমি আটটি মসজিদ নির্মাণ করছি। নির্মাণ করছি মন্দিরও। কবরস্থানের উন্নয়নের পাশাপাশি আমাকে শ্মশানের উন্নয়ন করতে হচ্ছে এবং আমি করতে বাধ্য। অথচ এসব নিয়ে এখন রাজনীতি শুরু হয়েছে। অপপ্রচার চলছে। তাই আমি মনে করি সাংবাদিক সমাজের এদিকটায় খেয়াল রাখা উচিৎ। আপনাদের অনেকে খেয়াল রাখছেনও। তবে আমার বিরুদ্ধে বার বার যেভাবে অপপ্রচার চালানো হয় ইচ্ছে করলে আমি এসবের জবাব দিতে পারি। কিন্তু আমি অনেক কিছুই সহ্য করি। সহ্য করার জন্যই এই চেয়ারে বসেছি।

আর আমি কে বা কি আর নারায়ণগঞ্জের জনগন যে কি সেটাতো আরো আগেই প্রমান হয়েছে। অতএব এখন আর নতুন করে অপপ্রচার চালিয়ে কোনো লাভ হবে না। নৌকার মালিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যদি আবার আমাকে নৌকা দেন তাহলে নির্বাচন করবো, না দিলে করবো না। আমার আর নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নেই। আমি কি পেরেছি আপনারা দেখেছেন। আমার সঙ্গে এই শহরের কারো ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। ত্বকী হত্যাকান্ডকে ঘিরে শামীম ভাইয়ের সাথে একটা দূরত্ব তৈরী হয়েছে। ত্বকী হত্যকান্ডের আগ পর্যন্ত আমার সাথে তার খুবই চমৎকার সম্পর্ক ছিলো। তিনি যখন দেশের বাহিরে ছিলেন তখন তার কথা মতো আমি তার অনেক লোককে বিভিন্ন কমিটিতে ঢুকিয়েছি। তাই আবারও আমি বলবো, মানুষের সেবা করার জন্যই আমরা জনপ্রতিনিধি। কারো সঙ্গে যদি বিরোধ কিছু হয়ে থাকে সেটা জনগনের স্বার্থেই হয়েছে। আপনারা এটা বুঝেন, মানুষও জানেন। আমি সেলিম ভাইয়ের সঙ্গে এক সাথে বসেছি। প্রয়োজনে আবারও বসবো। জনস্বার্থে প্রেসক্লাব কোনো উদ্যোগ নিয়ে আমাকে থাকতে বললে আমি থাকবো।

জিউস পুকুর নিয়ে তিনি বলেন এটা নিয়ে এখন রাজনীতি হচ্ছে। জিউস পুকুরের অংশ আমার নানা কিনেছে আরো চল্লিশ বছর আগে। সেই হিসাবে আমার মায়ের নাম এসেছে। এ বিষয়ে আমার পরিস্কার বক্তব্য হলো আমার নানা যদি কোনো জাল দলিল করে থাকেন তার জন্য তো আদালত রয়েছে। আদালতে এটা প্রমাণ করতে পারলেইতো সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। আমার বিরুদ্ধে কথা বলে কি লাভ। আমিতো কোনো দলিল বাতিল করতে পারবোনা। আমার সেই আইনী ক্ষমতাও নেই।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নিজস্ব গতিতে চলবে। আমি ইচ্ছা করলেও এই উন্নয়নে কোনো মন্ত্রী বা এমপিকে সম্পৃক্ত করতে পারবো না। তবে নারায়ণগঞ্জে এমন আরো অনেক সমস্যা আছে যেগুলো সমাধানে সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন। যেমন রাজউকের সমস্যা, হকার সমস্যা সহ আরো অনেক সমস্যা আছে যেগুলো নাকি আমরা এক সাথে বসে সমাধান করতে পারি। এমপিদের সাথে বসলে এসব সমস্যার সহজে সমাধান হয়ে যাবে। তাই এমন বিষয় ভিত্তিক সমস্যা নিয়ে যদি আপনারা সবাইকে এক টেবিলে ডাকেন তাহলে আমি বসতে প্রস্তুত আছি। জনগনের সমস্যা নিয়ে শামীম ভাইয়ের সাথে বসতে আমার কোনো সমস্যা নেই।

রোববার ৭ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জে প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপকালে আইভী এসব কথা বলেন। প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে প্রেসক্লাবে আমন্ত্রন জানানো হলে তিনি বলেন, আমাকে একা ডাকলে আমি যাবো না। সবাইকে ডাকেন, আমিও যাবো।

মেয়র আইভী আরো বলেন, আপনারা এই প্রথম যেভাবে জেলার জনপ্রতিনিধিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু করেছেন এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। একটি প্রেসক্লাবের ভূমিকা এমনই হওয়া উচিত।

মেয়র আইভী সাংবাদিক সমাজের কাছেও সত্য প্রকাশ করার জন্য আহবান জানান। তিনি বলেন ভালো মতো খোঁজ খবর নিয়ে লিখুন। এটা আমি জানি যে আপনাদেরও অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। কারো নিরাপত্তার সমস্যা থাকতে পারে আবার কারো আর্থিক সংকট থাকতে পারে। তাই এসব আমাদেরকেও বুঝতে হবে। আমি বুঝি। তাই আমি কোন সাংবাদিক কি লিখলো এ নিয়ে মাথা ঘামাইনা। তবে মিথ্যা কথা লিখলে খারাপ লাগে। আপনারা সত্য লিখুন আর সেটা যদি আমার বিরুদ্ধেও যায় আমি স্বাগত জানাবো এবং শুধরানোর চেষ্টা করবো।

শুভেচ্ছা বিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি খন্দকার শাহআলম, সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম জীবন, সাধারণ সম্পাদক শরফউদ্দিন সবুজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান সাদিক শাওন, কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাউদ মাসুদ, ক্রীড়া সম্পাদক আনিসুর রহমান জুয়েল, কার্যকরী সদস্য ও সাবেক সভাপতি কবি হালিম আজাদ, কার্যকরী সদস্য মাহফুজুর রহমান, কার্যকরী সদস্য বিল্লাল হোসেন রবিন ও কার্যকরী সদস্য লুৎফর রহমান কাকন।

সূত্রঃ নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin