জিউস পুকরের জরিপ শুরু

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

এদিকে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী তার পরিবার স্বজনদের বিরুদ্ধে দেওভোগের জিউস পুকুর সহ লক্ষীনারায়ণগ জিউর মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন জেলার সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

১১ নভেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ এবং জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ নগরী স্থাপনের সময়কালে শ্রী বিকন লাল ঠাকুর শহরের দেওভোগ আখড়া এলাকায় আমাদের উপাস্য দেবতা লক্ষীনারায়ণের নাম শ্রী শ্রী রাজা লক্ষীনারায়ণ জিউর বিগ্রহ মন্দির নামে একটি মন্দির স্থাপন করেন।

জিউস পুকুর এর জরিপ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। দেওভোগ এলাকাবাসীর জোরালো দাবি উঠেছে। জিউস পুকুর এর জায়গা কতটুকু। দৈর্ঘ্যে কত, প্রস্থে কত ?

চৌহদ্দি কতটুকু ? জিউস পুকুরের আদি মালিকানা কার বা কাদের ? এই প্রশ্নের উত্তর জানতেই সরকারি জরীপ কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এতগুলি প্রশ্নের উত্তর জনগণের জানা দরকার। জনগণ জানতে পারলে জিউস পুকুর নিয়ে রাজনীতির নোংরা খেলা বন্ধ হবে।

স্থানীয় লোকজনের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, নারায়ণগঞ্জের গোড়াপত্তনের সাথে দেওভোগ লক্ষ্মী নারায়ণ আখড়ার ঐতিহ্যও জড়িয়ে আছে। এই আখড়ায় ছিল সকল রথি-মহারথিদের মিলন মেলা।

শত শত বছর ধরে এই মন্দিরটি নারায়ণগঞ্জের লাখো লাখো হিন্দু ধর্মালম্বীদের জন্য একটি পবিত্রতা ও শুদ্ধতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। প্রয়াত বিকন লাল ঠাকুর মন্দিরটির পাশেই পূজা-অর্চনা ও আশপাশের অধিবাসীদের সুবিধার্থে ৩৬৭ শতাংশ জায়গা নিয়ে একটি পুকুর খনন করায় যা স্থানীয়দের কাছে জিউশ পুকুর নামে পরিচিত।শত শত বছর ধরে এই পুকুরটি হিন্দু ধর্মালম্বীরা যেমন পূজা-অর্চনা করছেন ঠিক তেমনি মুসলিম ভাই-বোনেরাও নিজেদের প্রাত্যহিক কাজে ব্যবহার করে আসছেন, যা অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অবিস্মরণীয় নিদর্শন। মন্দির ও উক্ত জিউশ পুকুর মিলিয়ে উক্ত বিশাল দেবোত্তর সম্পত্তিটি মন্দিরের সেবাতে ও মন্দির কমিটির পক্ষ থেকেই দেখভাল করা হচ্ছে শত বছর ধরে।

ইতিহাসের পাতায় দেখা যায়, ১৭৬৬ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা ভিখন লাল পান্ডে (বেল্লুর ঠাকুর বা লক্ষীনারায়ণ ঠাকুর নামে ও পরিচিত) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিকট থেকে এ অঞ্চলের মালিকানা গ্রহণ করেন। তিনি প্রভু নারায়ণের সেবার ব্যয়ভার বহনের জন্য একটি দলিলের মাধ্যমে শীতলক্ষা নদীর তীরে অবস্থিত মার্কেটকে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন। তাই পরবর্তীকালে এ স্থানের নাম হয় নারায়ণগঞ্জ। তৎকালীন নারায়ণগঞ্জের প্রধান তীর্থস্থান ছিল দেওভোগ লক্ষ্মীনারায়ণ আখড়া। সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ নামের কোনো নগরীর অস্তিত্ব প্রাচীন বাংলার মানচিত্রে পাওয়া যায় না।

মোগল আমলেরও পূর্বে খিজিরপুর, কদমরসুল ও মদনগঞ্জ বাণিজ্যিক অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক নদীবন্দর ছিল। পলাশী যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর কাছে বাংলার শেষ নবাবের পরাজয়ের পর পর ইংরেজরা দল বেঁধে এ অঞ্চলে আসতে থাকে ব্যবসা-বাণিজ্যের আশায়। সে সময় এ অঞ্চল পাট, লবণ ও বিভিন্ন ধরনের খাবার মসলার জন্য বিশ্বখ্যাতি অর্জন করেছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগমনের সঙ্গে সঙ্গে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। দেওভোগ লক্ষ্মীনারায়ণ আখড়া ছিল বড় আখড়া। দূর-দূরান্ত থেকে কোন মুসাফির নারায়ণগঞ্জে এলে এই আখড়াইতেই রাত্রিযাপন করতে পারতেন ও আহার জুটতো। শুরুতে এই প্রথা ছিল সম্পূর্ণ ফ্রি। অনেক বছর পর্যন্ত এই রেওয়াজ চালু ছিল বলে জানা যায়। তখন লক্ষ্মী নারায়ণ আখড়া পর্যন্ত নৌকা আসতো বলেও জনশ্রুতি রয়েছে।

ভূমি জরিপের সিএস (ব্রিটিশ) পর্চায় এই বিশাল সম্পত্তিটি (মন্দির ও পুকুরসহ মোট আয়তন প্রায় ৪ একর) দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবেই রেকর্ডভুক্ত হয়। কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর এই বিশাল দেবোত্তর সম্পত্তিটি বিশেষ করে পুকুরটি দখল করে নিতে মরিয়া হয়ে উঠে একটি স্থানীয় চক্র। বিভিন্ন সময় জাল নকল দলিল করে তারা দখলের চেষ্টাও করে। বিশেষ করে ২০০১ সালের পর বিএনপি জামাত জোট আমলে এই দখলের আগ্রাসন বেড়ে যায় শত গুণ।

সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমল থেকে দেবোত্তর এই সম্পত্তি গিলে খেতে যার পরিবার ওৎপ্রোতভাবে জড়িত তিনি আর কেউ নন আপনার দলেরই মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর পরিবার। যেসকল নকল দলিল করে এই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে সেইসব দলিলেই মেয়র আইভীর মা, দুই ভাইসহ তারই আত্মীয় স্বজনের নাম রয়েছে।১১ নভেম্বর বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে ডা. সেলিনা হায়াত আইভী তার পরিবার স্বজনদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন জেলার সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। মানববন্ধনে বক্তব্য ও প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া স্মারকলিপিতে এ ঘটনায় আইভী ও তার পরিবারকে পুরোপুরি দোষারোপ করা হয়।এর প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিন হায়াৎ আইভী সময়ের নারায়ণগঞ্জকে দেওয়া প্রতিক্রিয়াতে বলেন, ‘জিউস পুকুরের সঙ্গে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। একজন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা এখানে নাই। আমার বাবা আলী আহম্মদ চুনকারও ছিল না। এ জায়গা যদি ক্রয় করে থাকে আমার নানা মাহাতাব উদ্দিন সাহেব। ওনার ক্রয়কৃত সম্পত্তি থেকে যদি তার ছেলে মেয়েরা ওয়ারিশ হিসেবে প্রাপ্ত হয়ে থাকে তাহলে কি অপরাধ আমার। এটা কখন কিনেছে মাহাতাব সাহেব এবং ও জামির আহমেদ? এটা খতিয়ে দেখা উচিত। যদি এটা ১৯৮০ বা ১৯৮১ সালে ক্রয় করে থাকে তাহলে আজকে ৩৯ বছর পর এসে কেন এ প্রশ্ন করা হচ্ছে। তাহলে কোথায় ছিল সমাজপতিরা, হিন্দু সম্পত্তি রক্ষার্থে?

সূত্রঃ নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin