‘জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন কাউন্সিলররা’

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

বাফুফে নির্বাচনে আলোচিত প্রার্থী হয়েও মাত্র ১ ভোট পেয়েছেন শফিকুল ইসলাম মানিক। অথচ কাউন্সিলরদের আশ্বাস পেয়েই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে লড়েছিলেন তিনি। কিন্তু আবারও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী সালাউদ্দিনই। তাতে শুধু তার সঙ্গেই নয়, জনগণের সঙ্গেও কাউন্সিলররা প্রতারণা করেছেন বলে মনে করেন মানিক।

তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বাফুফে নির্বাচনের ফলাফল জানা যায়নি। বিশেষ সূত্রে অনানুষ্ঠানিক ভাবে জানা গেছে, সালাউদ্দিন ভোট পেয়েছেন ৯৪টি। তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বাদল রায় ৪০টি ভোট পেয়েছেন। আর মানিক পেয়েছেন মাত্র ১ ভোট।

আর এমনটা জানার পরই ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানান মানিক। বিশেষকরে কাউন্সিলরদের এক হাত নিয়েছেন সাবেক এ ফুটবলার। দ্য ডেইলিস্টারের সঙ্গে একান্ত আলাপে তিনি বলেন, ‘এই ফল অনাকাঙ্ক্ষিত। সম্মানিত কাউন্সিলররা ভোটিংয়ের মাধ্যমে যে ফল দিয়েছেন, আমি মনে করি, তাদের দায়বদ্ধতা আগেও ছিল না। ফুটবলের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন কাউন্সিলররা।’

অথচ অনেকদিন থেকেই সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের কর্মকাণ্ডের ব্যবচ্ছেদ হয়ে আসছিলেন সালাউদ্দিন। মূলত তার কাছে যে প্রত্যাশা ছিল ফুটবল অনুরাগীদের তা পূরণ না হয়নি। তাকে নিয়ে তাই সমালোচনায় মাতে ফুটবলভক্তরা। এমনকি শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ভোট চলাকালীন সময়েও বাইরে একদল সমর্থক তার বিপক্ষে বিক্ষোভ করেছেন।

তাই দেশের ফুটবলের জন্য কাউন্সিলরদের দায়বদ্ধতা বেশি থাকবে বলে জানান মানিক, ‘সালাউদ্দিন ভাইয়ের বিপক্ষে জনগণের রায়। তাই বলব, আশার বিপক্ষে একটি রায় হয়েছে। জনগণ চাচ্ছে পরিবর্তন, কিন্তু কাউন্সিলররা উপর থেকে বলেছে যে, তারা পরিবর্তনে বিশ্বাসী, কিন্তু অন্তর দিয়ে তারা যে পরিবর্তনে বিশ্বাসী নয়, তারই বহিঃপ্রকাশ এই ফল। ফুটবল উন্নয়নে কী কাজ করবে তা কাউন্সিলরদের দায়িত্ব। আগামী চার বছর ফুটবলের জন্য তাদের দায়বদ্ধতা সবচেয়ে বেশি থাকবে। ফেডারেশন থেকে কাউন্সিলরদের দায়বদ্ধতা বেশি।’

তবে সবমিলিয়ে ভিন্ন কিছু আলামত খুঁজে পাচ্ছেন একসময়ের জনপ্রিয় এ ফুটবলার, ”সবার কাছ থেকে যে আশ্বাস পেয়েছি, আশানুরূপ ফল হয়নি অবশ্যই। আমি মনে করি, এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, গতকাল রাতে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে। যেমন- বাদল রায়ের প্রত্যাবর্তন। বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে কাউন্সিলরদেরকে। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু এই ভোটগুলো গেল কোথায়। তারা নিশ্চিত করেছিল আমাকে। কিন্তু আমি পয়সা দেইনি বলে (ভোট দেয়নি আমাকে)? তাই আমার মতে, এই ফল প্রত্যাশিত না।’

এছাড়া এদিন ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানিক। ভোট গণনার সময় তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলেই জানিয়েছিলেন সংবাদমাধ্যমে, ‘ভোট গণনার সময় আমাকে বের করে দেওয়া হয়েছে, এ সময় কাজী সালাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। গণনার সময় আমার পক্ষের একজনের উপস্থিত থাকা উচিত। না হলে কে দেখবে গণনা ঠিক মতো হচ্ছে কী না। আমার যেহেতু কোনো প্রতিনিধি নেই, তাই আমি ওখানে বসেছিলাম। তারা আমাকে বলে আপনি আসেন, আপনি এখানে থাকতে পারবেন না। এটা আমার প্রতি অবিচার হয়েছে।’

অবশ্য, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রার্থীর পক্ষে কেউ ভোট গণনা কক্ষে থাকতে চাইলে আগে আবেদনের মাধ্যমে জানাতে হবে। মানিক সেটা করেননি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও তাকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে জানান মানিক।

সূত্রঃ ডেইলি স্টার

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin