ছেলে-মেয়েসহ আত্মহত্যা করতে যাওয়া পিতাকে বাচাঁলো ফতুল্লা পুলিশ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

এ যেন কোন হলিউডের ফিল্মের কাহিনী।স্ত্রীকে ফিরে না পেয়ে দুই সন্তান নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় এক যুবক। এজন্য কালিরবাজার থেকে তিনজনের জন্য কাফনের কাপড়ও কেনা হয়। পরিকল্পনা ছিল সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় ভাড়া বাসায় গিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবে ওই যুবক।

গতকাল শুক্রবার (১৮ মার্চ) নিজ ফেইসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে স্ত্রী ও শ্বশুড় বাড়ীর লোকজনকে উদ্দেশ্য করে নিজের আত্মহত্যার কথা জানিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ভয়ঙ্কর গন্তব্যের পথে। কিন্ত লাইভে এমন দৃশ্য দেখে কেউ একজন বিষয়টি জরুরী সেবা ৯৯৯-এ জানায়। পরে ৯৯৯ থেকে সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সুকান্ত দত্ত লাইভে আসা যুবকটির ফেইসবুক আইডি থেকে তার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল)নাজমুল হাসান ও ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রকিবুজ্জামানের পরামর্শে যুবকটির সাথে কথা বলেন। দীর্ঘ ৪৫ মিনিট যুবকটির সাথে কাউন্সিলিং করে তাকে আত্মহত্যার পথ থেকে সরে আসার অনুরোধ করে কৌশলে তাকে থানা পুলিশের হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। একই সাথে যুবকটির শ্বশুড়, শ্বাশুড়িসহ স্ত্রী কে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে প্রায় চার ঘন্টা ব্যাপক কাউন্সিলিং শেষে যুবককে ফিরিয়ে আনা হয় আত্মহত্যার পথ থেকে।

পরে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) নাজমুল হাসান, ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান, পরিদর্শক মোজাম্মেল হক ও ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক সুকান্ত দত্ত সমাঝোতা করে স্বামী-স্ত্রীকে শ্বশুড়-শ্বাশুড়ির নিকট তুলে দেন।

লাইভে আসা যুবক জানায়, দশ বছর পূর্বে তাদের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে চার বছর বয়সী একটি ছেলে ও নয় বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহের জের ধরে তার স্ত্রী বাপের বাড়ীতে চলে যায়। গত কয়েকদিন পূর্বে সে জানতে পারে তার স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়েছে। সেটা জানতে পেরে সে তার শ্বশুড়ের দ্বারস্থ হলে শ্বশুড় তাকে চড়-থাপ্পড় মেরে তাড়িয়ে দেয়। এতে করে সে সদর মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরীও করেছিলেন। কিন্তু স্ত্রীকে ফিরে পাবার কোন সুরাহা না পেয়ে সে দুই সন্তানসহ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। পরিকল্পনানুযায়ী মৌচাকে একটি রুম ভাড়া নেওয়া হয়। সেখানেই এক সাথে ছেলে মেয়েকে নিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার পরিকল্পনা ছিলো। এজন্য শহরের কালিরবাজার থেকে কেনা হয়েছিলো তিনজনের জন্যই কাফনের কাপড়।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান জানান, তার কর্ম জীবনের সবচাইতে রিস্কি দিন ছিলো এটা। সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে রিস্ক নিয়ে মেধার সবটুকু দিয়ে তিনজনকে আত্মহত্যার পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে সামর্থ্য হয়েছি। কর্মজীবনে এটাই সবচেয়ে বড় সফলতা বলে তিনি মনে করেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin