ছেলেদের জন্য অপেক্ষা আর ফুরাবে না মায়ের

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে কর্মচারী স্বামী নুরুউদ্দিন মুন্সীর সামান্য উপার্জনে সংসারের খরচ মেটাতেই কষ্ট হতো। তাই পারুল মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরান পড়া শিখিয়ে দুই ছেলের লেখাপড়ার খরচ যোগাতেন। পরম আদরের সন্তানদের হারিয়ে শোকের পাথরচাপা মা-বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

তিন ভাই মিলে এশার নামাজ আদায় করতে মসজিদে যায়। ছোট ছেলে ইয়াসিন ফরজ নামাজ পড়ে বাড়িতে এসে জানায়, মসজিদে বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখেছে।

‍“আমি ওর বাবাকে ফোন করে ওদের খোঁজ নিতে বলি। এলাকার লোকজনের কাছ থেকে খবর পাই, মসজিদে বিস্ফোরণে অনেকে দগ্ধ হয়েছেন। আমার দুই ছেলেকেও ঢাকায় নিয়ে গেছে।“

বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি; কিছুক্ষণ পর নিজেকে সংবরণ করে দুই সন্তানের স্মৃতিচারণ করেন পারুল।

তিনি বলেন, সাব্বির নারায়ণগঞ্জ কলেজে স্নাতক তৃতীয় বর্ষ ও তার ছোট জোবায়ের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। দুই ছেলেই পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। তারা নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়ত।

নুরুউদ্দিন-পারুল দম্পতি বলেন, তাদের কষ্ট দেখে দুই ছেলে প্রায়ই বলতেন, তারা বড় হয়ে লেখাপড়া শেষ করে চাকরি করে তাদের সব দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেবে, সংসারের হাল ধরবে। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না।

আহাজারি করতে করতে তাদের বাবা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‍“চোখের সামনে আমার ছেলে দুটি পুড়ে মারা গেল। আগুনে পুড়ে কষ্ট পেয়ে আমার বাবা দুজন মারা গেছেন। আমরা ইচ্ছা ছিল যত কষ্টই হোক আমার ছেলে দুটিকে মানুষ করব, ওদের নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। আমি চাই না আমার মতো অন্য কোন বাবা-মায়ের কোল খালি হোক।“

এই ঘটনায় অবহেলার জন্য যারা দায়ী তাদের বিচার দাবি করেন নুরুউদ্দিন মুন্সী।

প্রতিবেশীরা জানান, সাব্বির ও জোবায়ের দুই ভাই খুবই ভালো ছিল। অনেক কষ্ট করে তাদের বাবা-মা মানুষ করছিলেন। প্রেস ক্লাবের চাকরির সঙ্গে রিকশা চালিয়ে ও দিনমজুরিও করেছেন নুরুদ্দিন।

নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নুরুদ্দিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে চেয়েছেন সন্তানকে মানুষ করতে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক।

গত শুক্রবার শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত মসজিদে বিস্ফোরণে দ্গ্ধ হয়ে পারুল বেগমের ছেলে সাব্বির মুন্সী ও জোবায়ের মুন্সীর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ হয়ে অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের কারও কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মসজিদের ইমাম আব্দুল মালেকের রক্তমাখা পাঞ্জাবি পরে তার জানাজা পড়িয়েছেন ছোট ছেলে ফাহিম হোসেন। তার আগে বাবার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

সূত্রঃ বিডি নিউজ ২৪

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin