ছুটির দিনে নগরীর ফুটপাতে ঈদ কেনাকাটার ধুম

শেয়ার করুণ

ঈদুল ফিতরের আরও বকী ১৭/১৮ দিন। দীর্ঘ দুই বছর পর করোনার প্রকোপের পর ঈদের আগমনে মানুষের মাঝে রয়েছে বাড়তি উত্তেজনা। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষদের ঈদের কেনাকাটার ধুম পড়েছে জেলার ফুটপাথের দোকানে।


সাধ আর সাধ্য অনুযায়ী ঈদের কেনাকাটায় নিজ পছন্দসই পোশাক কিনতে চান সব শ্রেণির মানুষ। উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে একেবারে নিম্ন আয়ের মানুষও মেতে উঠেন ঈদ কেনাকাটায়। ঈদুল ফিতর যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমজমাট হয়ে উঠছে ঈদের কেনাকাটা।

ঈদ উপলক্ষে সবার জন্য কিছু একটা কিনতে হবে। প্রিয়জনকে দিতে হবে সাধ্যমতো ঈদ উপহার। বিশেষ করে গত দুই দিন সরকারি ছুটি থাকায় মার্কেটমুখী হয়েছেন বেশির ভাগ মানুষ। যদিও শহরের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির কেনাকাটায় একমাত্র ভরসা ফুটপাত।

প্রধান সড়কের পাশে এবং অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়েছে হকারদের ঈদ আয়োজন। ঈদের নতুন পোশাক আর সাজসজ্জার চাহিদা মেটাতে উচ্চবিত্তদের জন্য যেমন আছে বড় বড় শপিংমল-অভিজাত বিপণিবিতান, তেমনি নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য আছে ফুটপাথ। সারাবছর জেলার বিভিন্ন স্থানে ফুটপাথগুলোতে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে থাকতে না দেখলেও ঈদের সময় ফুটপাতে বেশ কিছু দোকানি বসে। এসব দোকানে ক্রেতাদেরও দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়।

শুধু নিম্ন আয়ের নয় বেশ কিছু ধনী ব্যক্তিদেরও দেখা গেছে ফুটপাতে কেনাকাটা করতে। ফুটপাথে সব বয়সীদের জন্য আছে পোশাক। শিশুদের পোশাক, জুতা, থ্রি-পিস, শার্ট ও লুঙ্গিসহ আছে অন্যসব পণ্য। দোকানিরা ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়াতে দোকানগুলোতে ঈদকে সামনে রেখে বেশি পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন।

শহরের মার্কেটগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে সর্বত্র মানুষের উপচেপড়া ভিড়। সদর উপজেলার পঞ্চবটী থেকে কালিরবাজারের ফ্রেন্ডস মার্কেটে কেনাকাটা করতে এসেছেন আশফাক।

তিনি জানান, ফুটপাতের দোকানগুলোতে এক সঙ্গে সবই সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায়। তাই ঈদের শপিংটার জন্য এই জায়গাটাই শ্রেয়। মার্কেটে নারীদের পোশাকসামগ্রী শাড়ি, থ্রি-পিস, শিশুদের পোশাক, থান কাপড়ের দোকান, জুয়েলারি শপ, ব্যাগ, স্যান্ডেল-জুতা, শিশুদের খেলনাসহ ঘর সাজানোর বিভিন্ন পণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য পণ্যের সমাহার। আছে দর্জির দোকান। ফুটপাতজুড়ে রয়েছে হকারদের দৌরাত্ম্য।

দোকানীরা জানান বরাবরের মত এবারও চাহিদার শীর্ষে ভারতীয় পোষাক। ভারতীয় বুটিকস আইটেমের থ্রি-পিস, লন, ভয়েল ও শার্টিনের থ্রি-পিস। এ ছাড়া দেশীয় থ্রি পিসের কাপড়ের মধ্যে প্রিন্টের থ্রি- পিস, ব্লক ও বাটিকের বিভিন্ন ডিজাইন করা থ্রি পিস বিক্রি হচ্ছে। তা ছাড়া পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন ধরনের অলঙ্কার, গয়না, সেন্ডেল ও ব্যাগ, সেই সঙ্গে প্রসাধনীও বিক্রি হচ্ছে।

এ দিকে, জুতা থেকে শুরু করে শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, শাড়ি, থ্রি-পিস, কমসেটিকস, পারফিউম, কী নেই এখানে। ঈদ সামনে রেখে পুরো ফুটপাথগুলোই এখন ঈদ মার্কেট। যদিও এখানে সারি সারি দোকান, এসি নেই, নেই কোনো ঝলমলে আলোকসজ্জা। এমনকি ক্রেতা আকর্ষণে নেই র‌্যাফেল ড্র। তবে তুলনামূলক কম দাম হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা বলা যায় এসব অস্থায়ী মার্কেটই। কিছু পয়সা বাঁচাতে এ পাড়া থেকে ও পাড়ার ফুটপাথের দোকানগুলো ঘুরে তারা কিনে নিচ্ছেন পছন্দের পোশাক। অপেক্ষাকৃত কম দামে ভালো জিনিস কিনতে চাকরিজীবীরাও আসছেন এসব দোকানে। শহরের বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাতের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়।

নিউজটি শেয়ার করুণ