চীনের সিনোফার্ম ভ্যাকসিন কতটা কার্যকরী

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Cino pharma
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার টিকা সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং চলমান টিকাদান কার্যক্রম গতিশীল রাখতে সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর দ্রুততম সময়ে চীনের সিনোফার্ম ভ্যাকসিন-এর জরুরি অনুমোদন দেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, একাধিক দেশে চালানো ট্রায়ালে সিনোফার্ম ভ্যাকসিনটির দুই ডোজ দেওয়ার পর ৭৮.১ শতাংশ কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। যা ইতঃপূর্বে চীনা সংস্থাটির দাবিকৃত ৭৯.৩৪ শতাংশ কার্যকারিতা হারের চেয়ে কিছুটা কম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী ভ্যাকসিনটি হাসপাতালে ভর্তি রোধে ৭৮.৭ শতাংশ কার্যকর। চীন, বাহরাইন, মিশর, জর্দান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ট্রায়ালের ফলাফল পর্যালোচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ ফলাফল জানায়, তবে ভ্যাকসিনটি অনুমোদনের বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত জানায়নি।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত সর্বপ্রথম সরকারিভাবে সিনোফার্ম ভ্যাকসিন ট্রায়ালের ফলাফল প্রকাশ করে, যদিও এ সম্পর্কিত ফলাফল এখনো কোনো গবেষণাপত্রে প্রকাশ হয়নি। আবুধাবি পাবলিক হেলথ সেন্টারের করা এক জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, সিনোফার্মের ভ্যাকসিন গ্রহণের পর আরব আমিরাতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ট্রায়ালে একত্রিশ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক (১৮-৬০ বছর বয়সি) সিনোফার্মের টিকাটি গ্রহণ করেছেন এবং ৯৯ ভাগ গ্রহীতার শরীরে টিকাটি কার্যকরী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়তে সক্ষম হয়েছে। উক্ত রোগীদের কারও ক্ষেত্রেই মারাত্মক কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার ঝুঁকি আছে কিনা সে বিষয়ে তারা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবৃতির পর কয়েকটি বিদেশি মিডিয়া যেমন রয়টার্স সিনোফার্ম ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। চীনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আত্মবিশ্বাস কম হওয়ার কারণ হলো পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়া প্রবীণদের সংখ্যা খুব কম ছিল। তারা জোর দিয়েছিলেন যে সিনোফর্মের ভ্যাকসিনটি এখনো ১৮-৫৯ বছর বয়সি গ্রুপে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে এবং ১৮-৫৯ বয়সিদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সিনোফার্মের কোভিড-১৯ @ জরুরি অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

সিনোফার্ম ভ্যাকসিন কী এবং এটি কিভাবে মানবদেহে কাজ করে

সিনোফার্ম উদ্ভাবিত বিবিআইবিপি- সিওআরভি (BBIBP-CorV) মূলত একটি নিষ্ক্রিয় বা ইনেক্টিভেটেড ভ্যাক্সিন যা ইনফ্লুয়েঞ্জা, ইনেক্টিভেটেড পোলিও বা র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের অনুরূপ বহুল প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণে তৈরি।

করোনাভাইরাসকে কেমিক্যালের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে ভ্যাকসিন হিসাবে প্রয়োগ করা হয়। চীনের আরেকটি ভ্যাকসিন সিনোভ্যাক, ভারতের কোভ্যাক্সিন এ পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রস্তুত করা হয়েছে। যেহেতু ভ্যাকসিনটি নিষ্ক্রিয় বা ইনেক্টিভেটেড ভাইরাস থেকে তৈরি তাই মানব দেহে আশানুরূপ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আটাশ দিন ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা গ্রহণ আবশ্যক। টিকাটি সাধারণত বাহুর মাংসপেশিতে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

সূত্রঃ যুগান্তর

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin