চিনের উহানে আবারও করোনার হানা

শেয়ার করুণ

করোনা ‘উৎপত্তিস্থল’ হিসেবে খ্যাত চীনের উহানে আবারো সংক্রমণ বাড়ছে। ভারতীয় ধরন ডেল্টার ফলে নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে সেখানে।

এ নিয়ে উদ্বিগ্ন চীনা সরকার। করোনার অস্তিত্ব খুঁজতে তাই মোট জনসংখ্যার ১২ কোটির করোনা নমুনা পরীক্ষা ইতোমধ্যেই করেছে চীন। শনিবার (৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

উহানে স্থানীয়ভাবে করোনা আক্রান্তের ছয়জনের সন্ধান পাওয়া গেছে। এছাড়া ১৫ জন করোনাআক্রান্ত ব্যক্তি উপসর্গহীন রয়েছে। শুক্রবার (৬ আগস্ট) উহানের রাজধানী হুবেই প্রদেশে ৪৭টি নিশ্চিত করোনা পজিটিভ কেস পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে জানানো হয়েছে, নিউক্লিক অ্যাসিড টেস্টের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ করোনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানায়, সে প্রদেশে আরও ৬৪ জনের খোঁজ পাওয়া গেছে। যারা করোনা পজিটিভ তবে উপসর্গবিহীন। ৪ আগস্ট থেকে উহানের শহরে টেস্টিং ড্রাইভ শুরু হয়েছে। শনিবার হুবেই সিডিসির ডিরেক্টর লি ইয়াং জানান, স্বাস্থ্য কর্মীরা এখনও কাজ করে চলেছেন। করোনা পরীক্ষা আরও বৃদ্ধি করা হবে।

শনিবার পর্যন্ত ১৫৭টি রেসিডেন্সিয়াল কমিউনিটিকে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চীনের উহানে পাওয়া গেছে ডেল্টার রূপ। চীনের সরকারি তথ্য বলছে, গত কয়েক সপ্তাহে দেশটির অন্তত ১৬টি প্রদেশে এই ডেল্টা ধরনের সন্ধান মিলেছে। তবে এই মুহূর্তে করোনা মুক্ত করতে ফের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিচ্ছে চীন।

চীনের বেইজিং, সাংহাই, উহানের মতো শহরে ডেল্টা আক্রান্ত কয়েকশ রোগীর খোঁজ মিলেছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে সবরকম যোগাযোগ ব্যবস্থা।

করোনার বিস্তার ঠেকাতে সরকার বিভিন্ন শহরে নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে। কোটি কোটি মানুষকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। চীনে কত মানুষ পুরোপুরি টিকা পেয়েছে তা স্পষ্ট নয়, তবে চীনা কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, এ পর্যন্ত ১৬০ কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।

এখন চীনের মোট ১৫টি প্রদেশ ও পৌর এলাকায় কোভিডের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি এলাকার সংক্রমণই চীনের পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংশু প্রদেশের নানজিং এর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

চীনে নতুন করে করোনা ছড়িয়ে পড়ার জন্য কর্তৃপক্ষ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট এবং পর্যটন মৌসুমকে দায়ী করছে। তবে চীনে শনাক্ত হওয়া সংক্রমণ এখনও অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ কম।

গত বছর প্রথম সেদেশে করোনার সংক্রমণ সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার পর এই প্রথম এত বেশি সংখ্যায় এবং এত বেশি এলাকায় সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ দফায় প্রথম কোভিডের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল নানজিং বিমানবন্দরে। রাশিয়া থেকে আসা বিমান পরিষ্কারের কাজ করেছিলেন যে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা, তারাই প্রথম আক্রান্ত হন। এরপর চীন দ্রুত শহরটির ৯২ লাখ মানুষের সবাইকে পরীক্ষা করেন এবং স্থানীয়ভাবে লকডাউন জারি করেন।

সূত্রঃ সময় নিউজ

নিউজটি শেয়ার করুণ