চা-ই পাল্টিয়ে দিয়েছে জীবনের গতিপথ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

শামিমুজ্জামান চৌধুরী

চা বিক্রয়ে জীবিকা নির্বাহ করে এমন মানুষের সংখ্যা  হাতে গুনে হিসাব করা না গেলেও,অক্লান্ত পরিশ্রম মেধাকে কাজে লাগিয়ে একই গ্লাসে সাতস্তরের চা আবিষ্কার করে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করা মানুষ একজনই , বলছিলাম সাত রং চা এর আবিষ্কারক রমেশ রামগৌড়  এর কথা।

প্রায় বিশ বছর আগে ময়মনসিংহে একটা চায়ের দোকান ছিল। সেখানে বিক্রি খুব একটা ভালো হচ্ছিল না। কী করবেন তখন কিছুই  ভেবে পাচ্ছিলেন না, একপর্যায়ে কাজের উদ্দেশ্যে ২০০০ সালে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে শহরে আসেন। চাকুরীর সন্ধানে বেশকিছু দিন ঘুরেছিলেন কিন্তু কোন কাজেই আসে নি। শ্রীমঙ্গল শহরের যে দিকেই ঘুরেন সেদিকেই শুধু চায়ের নেশা জাগানো গন্ধ নাকে জাগে। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেন চাকরি আর খুঁজবেন না, চায়ের স্টল দেবেন । আর তার সেই দোকান ই আজকের নীলকণ্ঠ চা কেবিন নামে পরিচিত।

আদিনিবাস ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় হলেও স্ত্রী  তিন ছেলে দুই মেয়েকে নিয়ে এখন তিনি বসবাস করছেন শ্রীমঙ্গলে।

একটু ভিন্ন স্বাদের চা খেতে, প্রতি দিনই অসংখ্য লোক আসেন তার এই নীলকণ্ঠ চা কেবিনে। শৈল্পিক ও আকর্ষণীয় এ চায়ের নামডাক অনেক আগেই বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে গেছে। রমেশ রামগৌড়ের সাত লেয়ারের চা-বিক্রি তার জীবনের গতিধারা পুরোটাই পাল্টে দিয়েছে। তিনি যেমন আর্থিক সচ্ছলতা পেয়েছেন, তেমনি সমাজে পেয়েছেন ব্যাপক পরিচিতি।

তার এখানে দেশের প্রতিষ্ঠিত খ্যাতিমান তারকারা যেমন এসে চা পান করছেন, তেমনি রাষ্ট্রের অনেক কর্তা ব্যক্তিদের ছবি তার দোকানে শোভা পাচ্ছে। এখন প্রায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ‘নীলকণ্ঠে’র এক কাপ চা খেতে ছুটে আসছেন।উত্তরঅঞ্চলের জয়পুরহাট জেলা আসা কয়েকজন তরুনের মধ্যে অনিক সুমন নামে একজনের সাথে কথা হয় তিনি বলেন “এখানকার চা পানের পরিবেশ ও একই গ্লাসে সাতরঙ্গের চা দেখেই আমি অনকটা মুগ্ধ হয়েছি”।

তবে এখানে চা পানের জন্য বায়না দিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় প্রায় তিরিশ মিনিট তারপর ও কোন ক্লান্তি বা বিরক্ত নেই এখানকার চা-পিয়াসীদের। শুধু দেশের মানুষজনই নয়,  বিদেশি অনেক চা-পিয়াসীরা ও ছুটে আসেন সাত লেয়ারের চা পান করতে। তবে  তার সাত রঙের চায়ের প্রস্তুত প্রণালী অনেকটাই অজানা, চা প্রস্তুত করতে বেশ গোপনীয়তা রক্ষা করেন তিনি। এ ব্যাপারে তার সাথে কথা হলে তিনি অনেকটাই এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।রমেশ প্রথমে ২০০২ সালে একই গ্লাসে দুইরঙা চা আবিষ্কার করেন, এরপর ধীরে ধীরে চায়ের স্তর বাড়াতে শুরু করেন, বর্তমানে এটি সাত স্তরে এসে দাঁড়িয়েছে।

ক্লোন টি ও বিভিন্ন ধরনের মসলার সংমিশ্রণে এ চা তৈরি করেন তিনি। বর্তমানে সাত স্তরের চা ৭০ টাকা, ছয় স্তরের ৬০ টাকা, পাঁচ স্তরের ৫০ টাকা, চার স্তরের ৪০ টাকা, তিন স্তরের ৩০ টাকা, দুই স্তরের চা ২০ টাকা, হাই স্পেশাল চা ২০ টাকা, স্পেশাল দুধ চা ১০ টাকা, গ্রিন চা ৫ টাকা, আদা চা ৫ টাকা, লাল চা ৫ টাকা এবং লেবু চা ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমেশ জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই ১০ লেয়ারের চা পিয়াসীদের হাতে তুলে দেবেন। এই চা-এর দাম রাখা হবে ১০০  টাকা।   

চা পান করতে পছন্দ করেন না, সারা দেশে এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম।আর চা পিয়াসীদের  প্রতি ভালোবাসা জানাতেই চায়ের রাজ্য মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে রমেশ রাম গৌড় এর নীলকণ্ঠ চা কেবিন  এক আশ্চর্যজনক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

যে ভাবে যাবেন নীলকণ্ঠ কেবিনে : ঢাকা থেকে সায়েদাবাদ অথবা ফকিরাপুল থেকে বাসে চড়ে শ্রীমঙ্গল নামবেন। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে রিকশা নিয়ে কালিঘাট রোডের কিছুদূর গেলেই দেখতে পাবেন বড় সাইনবোর্ডে লেখা ‘নীলকণ্ঠ’ কেবিনটি ১৪ রাইফেল ব্যাটালিয়নের ক্যান্টিনে থাকায় সব ধরনের নিরাপত্তা পাবেন। নিরিবিলি ও খোলামেলা জায়গায় ভেতরে বা বাইরে বসে চা পান করতে পারবেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin