চাপের মুখে নামফলক নতুন করে স্থাপন, এমপি খোকার প্রায়শ্চিত্ত!

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের ভেঙে ফেলা নাম ফলক নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে। গত ১৭ নভেম্বর নারায়ণঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার নির্দেশে সোনারগাঁও জি আর ইনিস্টিটিউশন স্কুল ও কলেজের গেইটের এই ফলক ভেঙে ফেলার পর থেকে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে ফুঁসে উঠে। অবশেষে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। আন্দোলনের মুখে এই ফলক পুন:স্থাপন করা হয়। আর এ বিষয়টিকে স্থানীয় অনেকেই এমপি খোকার প্রায়শ্চিত্ত বলে মনে করছেন।

২২ নভেম্বর বিকেলে সোনারগাঁও জি আর ইনিস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজের মূল গেইটের সামনের থাকা ভাঙা ফলক পাল্টে নতুন ফলক স্থাপন করা হয়। এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ফারুক হোসেন ভূঁইয়া।

ফারুক হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বিকেল থেকে সন্ধ্যার সময়ে জি আর ইনিস্টিটিউশনের সেই ভেঙে ফেলা ফলক পুনস্থাপন করা হয়। সোনারগাঁও থানার ওসি সাহেব ভিজিট করছে। ওনারা এটার প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন যাতে এটা করা হয়। এমপি মহোদয়ের সায় আছে, সম্মতি আছে। যদিও তার সাথে আমার কথা হয়নি।

নাম ফলক ভুল থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, ফলক আসলে ভুল ছিলনা। একটা শব্দ ছিলনা। তবে ওইগুলো বড় বিষয় না। এটা কেন ভেঙে ফেলা হয়েছে সে ব্যাপারে ইতোমধ্যে মিডিয়ায় এসেছে। কারা ভেঙেছে এবং কেন ভেঙেছে তাও এসেছে।

তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুলতানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার নির্দেশে সোনারগাঁও জি আর ইনিস্টিটিউশনের মূল গেইটের সামনে থাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নাম ফলক ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজে প্রবেশের পরে স্কুলের মূল ফটকের পাশে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নাম দেখে বেশ রাগান্বিত হন। এসময় উপস্থিত শিক্ষকদের উপর চটে যান। আর আনোয়ার হোসেনের নাম কেন লেখা হয়েছে সেটা জানতে চান। আশেপাশের অনেক লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে তিনি চলে গেলে তার ছাবিক নামে এক অনুগামী সেই ফলক ভেঙে ফেলে।

সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুলতান বলেন, এমপি সাহেব স্কুলে এসে করোনাকালীন সময়ে যাতে শিক্ষার্থীদের কাছে কম টাকা রাখা হয় এটা গভর্নিংবডির কাছে জানানো কথা বলেন। পরে স্কুলের গেটের পাশে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নামের ফলক দেখে তিনি বেশ রাগান্বিত হয়ে উঠেন। এসময় তিনি আমাকে অনেক ধমকা ধমকি করেছে।

এক পর্যায়ে তিনি ধমক দিয়ে বলেছেন, নাম ফলক (জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন) এখন ভাঙেন। রাজস্বখাতের টাকায় নাকি স্কুলের গেইট নির্মিত হয়েছে। তাই তিনি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। পরে তিনি চলে গেলে তার লোকজন এসে এই ফলক ভেঙে দেয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, জেলা পরিষদের ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জিআর ইন্সটিটিউটের স্কুলের গেইট ও দেয়াল নির্মাণের জন্য। উদ্বোধনে জেলা পরিষদের নাম ফলক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সব উপজেলায় সেটি হচ্ছে। সে জাতীয় পার্টির এমপি হয়ে যে ঔদ্ধত্ব আচরণ করেছে তার নিন্দা করছি। এই বিষয়টা আমি সর্বমহলে জানাচ্ছি।

এর পর থেকে ফুঁসে উঠে আওয়ামীলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। জেলা থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ে আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। এমপি খোকাকে অবাঞ্ছিত সহ প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। এর ধারবাহিকতা এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গত ২১ নভেম্বর মহানগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আওয়ামীলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। এসময় এমপি খোকার কুশপুত্তলিকা দাহ করে কড়া সমালোচনা সহ মন্তব্য করে। সেই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আওয়ামীলীগের নেতারা এমপি খোকাকে ক্ষমা চাইতে বলেন।

২০ নভেম্বর ফলক ভেঙে দেয়ার ঘটনায় জি আর ইনিস্টিটিউশনের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন করেছেন জেলা পরিষদ ও সোনারগাঁও আওয়ামীলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। মানববন্ধনে সোনারগাঁও আওয়ামীলীগের সাবেক সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান কালামের নেতৃত্বে এমপি খোকার কড়া সমালোচনা করে নেতৃবৃন্দরা।

১৯ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক খালিদ হাসানের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকাকে অভিযুক্ত করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবী করে নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সহ জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাকে তাঁরই আসনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রতিহতের দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন সেখানকার আওয়ামী লীগের নেতারা। তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে এ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার ভবিষ্যতে খোকার এসব কর্মকান্ডের সমুচিত জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেন।

১৯ নভেম্বর সকালে সোনারগাঁও জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ মানববন্ধন থেকে এসব ঘোষণা আসে। সোনারগাঁ পৌর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচী পালিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার।

১৮ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাতের নেতৃত্বে শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে মূলত আন্দোলন শুরু হয়। এরপর থেকে একে একে সর্বত্র আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্রঃ নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin