গুজব প্রতিরোধের ১০টি উপায়!

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

যেকোন দুর্যোগ জনজীবনে যেমন দুর্ভোগ বয়ে আনে আবার কোনো শ্রেণীর জন্য সুযোগ হয়ে আসে। মানুষ স্বভাবতই আনন্দের, ভয়ের, আতংকের, অনিশ্চয়তার, নিরাপত্তাহীনতার খবর বেশি শেয়ার করে। আবার মানুষের কাছে যখন সঠিক কোন তথ্য না থাকে স্বভাবতই সে তার পরিচিত লোকজন বা বিশ্বস্তজনদের কাছ থেকে যে খবরটা পাবে সেটাই বিশ্বাস করতে শুরু করবে। সেটা গুজব হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। যেকোনো দুর্যোগে এজেন্ডা সেটিং থিয়োরির প্রভাব খুব বেশি দেখা যায়। এই থিয়োরি অনুযায়ী- আপনার মতামতকে প্রভাবিত করার জন্য আপনার যা দেখা বা শোনা উচিত মিডিয়া বেছে বেছে তাই দেখাবে বা শোনাবে। দুর্যোগের সময় সঠিক তথ্য যেমন জীবন বাঁচাতে পারে আবার ভুল তথ্য বা গুজব মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। 

গুজব প্রতিরোধের কি করবেন আপনি? 

১। প্রথমে অন্যের ইনবক্সে বিভিন্ন ম্যাসেজ বা ভিডিও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। ২০ জনকে ফরোয়ার্ড করুন, হ্যালো রোহান, গরম পানি খেলে করোনা গলা দিয়ে নেমে যায় বা চা খেলে করোনা ভালো হয়ে যায় ইত্যাদি ম্যাসেজ পাঠিয়ে অন্যের ইনবক্স ভর্তি করার মহান দায়িত্ব আপনাকে কেউ দেয়নি। 

২। বিভিন্ন গুজব যখন আপনি ইনবক্সে পান তখন আপনি স্বভাবতই সিন করে রেখে দেন। আবার মাঝে মাঝে সেটা নিজেও ফরোয়ার্ড করেন। কিন্তু যে ম্যাসেজটা পাঠিয়েছে তাকে কখনো জিজ্ঞেস করেছেন সে কেনো গুজব ছড়াচ্ছে? আমি এখন করছি। এই ধরনের ম্যাসেজ বা ভিডিও পাওয়ার সাথে সাথে তাকে এই বার্তার সোর্স জিজ্ঞেস করছি। সোর্স দিতে না পারলে জিজ্ঞেস করছি আপনি কেনো এই ম্যাসেজ বা ভিডিও শেয়ার করলেন? 

৩। করোনার ভয়াবহতা দেখে ট্রাম্প ইসলাম গ্রহন করেছেন বা মোদি কোরআন পড়ছেন এই সব খবর আপনার আমার কাছে হাসির খোরাক হতে পারে কিন্তু জানেনতো এক সময় সমগ্র বাংলাদেশ প্রায় বিশ্বাস করেই নিয়েছিলো সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে। এই ধরনের খবর আপনার ওয়ালে দেখা দিলে কিছু করতে না পারেন-নগদে রিপোর্ট করুন এবং ব্লক করুন সেই সব গুজব রটানো পেজ বা ব্যক্তিকে। 

৪। করোনা সম্পর্কিত খবর বা পরিসংখ্যান যত বেশি দেখবেন তত আপনার হার্টের জন্য সমস্যা। গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সারা বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৩১৩,৯০৩ জন আর করোনায় মারা গেছেন ২১,২৯৭ জন (সুত্রঃ www. worldometers.info) . সাবধান হোন কিন্তু আতঙ্কিত নয়। আপনার আতঙ্কিত মন যেকোন গুজবই বিশ্বাস করতে ইচ্ছুক। গুজব রটনাকারীরা মূলত আপনার মনের এই অবস্থার জন্য অপেক্ষা করে। 

৫। আচ্ছা, নিজের অবস্থান থেকে না হয় সোচ্চার হলেন গুজবের বিরুদ্ধে কিন্তু তারপর?  সঠিক তথ্য শেয়ার করুন। কোনটা সঠিক তথ্য বুঝবেন কিভাবে? করোনা নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে যেমন; IEDCR, WHO,DGHS বা আন্তর্জাতিক এনজিও বা সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে শেয়ার করা তথ্য শেয়ার করুন। বা সন্দেহ হলে এইসব সংস্থার সাইট থেকে তথ্য যাচাই করুন। 

৬। ভাই-এই সময়ে গুজব রটিয়ে মানুষের লাভ কি? সবাইতো বিপদে আছে! নারে ভাই! যেইসব গুজবে বলা হচ্ছে চা খেলে করোনা  সেরে যাবে, খোঁজ নিয়ে দেখেন এর সাথে চা ব্যবসায়ীরা জড়িত কিনা! প্রত্যেক গুজবই সু-পরিকল্পিত। আপনি আমি এই পরিকল্পনার অংশ মাত্র। 

৭। কোনো ছবি, তথ্য বা ভিডিও সত্য না মিথ্যা এইটা যাচাই করার জন্য ফেসবুকে পোস্ট দিবেন না। অন্তত এই সময়ে না। আপনি হয়তো সরল মনে করোনার ভয়ে ট্রাম্প ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে কিনা এটার সত্যতা জানার জন্য একটি সংবাদের লিংক শেয়ার করলেন। অনেকেই আপনার প্রশ্ন অংশ বাদ দিয়ে লিংকে ক্লিক করে সেটা বিশ্বাস করা শুরু করলো। আপনার কাছে যেটা প্রশ্ন সেটা অনেকের কাছে বিশ্বাস। 

৮।  আপনার দুর্বল জায়গা হলো আপনার ধর্ম আর আপনার ভয়। আর এই দুটোই হলো গুজব রটনাকারীদের পুঁজি। খেয়াল করে দেখবেন অধিকাংশ গুজবই ধর্ম আর আপনার ভয়কে কেন্দ্র করে। ধর্মীয় কোন কিছু শেয়ার করার আগে ধর্মের ব্যাখ্যাগুলো আরো ভালোমত পড়ুন, বিশ্লেষণ করুন। 

৯। সঠিক তথ্যের শূন্যস্থান থেকেই গুজবের অবস্থান। কাউকে সঠিক তথ্য দিতে না পারাতে দোষের কিছু নাই কিন্তু ভুল তথ্য দিয়ে মানুষকে বিপদগামী করা অবশ্যই দোষের। নিজে বিশ্বাস করবেন না এমন কিছু শেয়ার করবেন না। 

১০। ভাই আপনি সরকারের দালাল, তাই এই ধরনের লেখা লিখছেন! হলে ভালোই হতোরে ভাই/আপা। খুব দ্রুত গাড়ি বাড়ি করে ফেলতে পারতাম। আমি মূলত একজন যোগাযোগ পেশাজীবী। সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য প্রদান করা আমার কাজ। যারা সঠিক তথ্য শেয়ার করবে তাদের উপর আপনাদের ধারনা যদি এই রকম হয় সেটাও আরেকটা দুর্যোগ। তথ্যের দুর্যোগ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin