খোলা জায়গায় শুকানো হচ্ছে চানাচুর, মল ত্যাগ করছে পাখিও

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

কুরকুরে চানাচুর কারখানাটির কোনো নামধাম নেই। বাজারজাতও করা হয় অন্য কারখানার নামে। অন্য কারখানার চাহিদা অনুযায়ী তৈরি শেষে তা সরবরাহ করা হয় ওই সব কারখানায়। আর এইসব চানাচুর তৈরি করার পর শুকানো হয় ধান শুকনোর চাতালের মত করে তৈরি করা মাঠে খোলা আকাশের নিচে।

উৎপাদিত চানাচুর মচমচে করার জন্য রোদে শুকানো হয় ওই চাতালে। এতে করে নোংরা অর্বজনা আর চাতালের বালি সহজেই মিশে যাচ্ছে তাতে। এসব চানাচুর স্বাস্থের উপর ক্ষতিকর প্রভাবও ফেলছে। তবে, বছরের পর বছর খোলা আকাশের নিচে ছড়িয়ে চানাচুর শুকানোর অস্বাস্থ্যকর কাজটি করে পার পেয়ে গেলেও অবশেষে ধরা পড়লেন কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার দুপুরে অভিযানে যান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় মালিক গণি মিয়া কারখানায় উপস্থিত ছিলেন না। শেষে মালিককের প্রতিনিধি আক্তার মোল্লাকে দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করে ভ্রাম্যমান আদালত। 

একই দিন মেয়াদাত্তীর্ণ পণ্য রাখা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পণ্য তৈরি এবং অনুমোদন না থাকার অভিযোগে আরও দুই বেকারিকে ৫৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। বেকারিগুলো হলো উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভুপুর এলাকার নিউ প্রিন্স বেকারি এবং পৌর শহরের দড়ি চন্ডিবের এলাকায় অবস্থিত ভৈরব বেকারি। নিউ প্রিন্স বেকারিকে করা হয় ত্রিশ হাজার টাকা। আর ভৈরব বেকারিকে অর্থদণ্ড করা হয় পঁচিশ হাজার টাকা।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিমাদ্রী খীসা। সহযোগিতা করেন বিএসটিআই কিশোরগঞ্জ জেলার মাঠ কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ভৈরব নদী বন্দর এবং ব্রিটিশ আমল থেকে বাণিজ্য শহর। হাওর জনপদের বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের যোগান যায় ভৈরব থেকে। ব্যাপক চাহিদার কারণে ভৈরবে কয়েকশ বেকারিও রয়েছে। তবে এইসব বেকারির বেশিরভাগের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেই। নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি হয়। অভিযানে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিমাদ্রী খীসা বলেন, চানাচুর কারখানায় গিয়ে যখন দেখলাম মানুষ উঠানে যেভাবে ধান শুকায়, ঠিক সেভাবেই চানাচুর শুকানো হচ্ছে। তখন কল্পনায় কেবল ভেসে উঠছিল এই কয়েক বছরে চানাচুরে না জানি কতশত পাখি মল ত্যাগ করেছে। হয়ত উপর দিয়ে কুকুরও হেঁটে গেছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আক্তার মোল্লা বলেন, গণি মিয়া তার ভাই। গণি অসুস্থ। খোলা আকাশের নিচে চানাচুর শুকানোর প্রসঙ্গটি তুলতেই তিনি বলেন, ভুল হয়ে গেছে। আর হবে না। পাখির মল ত্যাগের বিষয়টি উঠতেই তার উত্তর, তাতো কিছু করেছেই।

সূত্রঃ সময় নিউজ টিভি

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin