খোরশেদকে নেতাকর্মীরা : ভেঙে পড়বেন না, কর্মীরা আছি

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে রাজনৈতিকভাবে ভেঙে না পড়ার আহবান রেখেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

২৭ অক্টোবর বিকেলে শহরের মাসদাইরে মজলুম মিলনায়তনে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

একই সময়ে দলের একটি অংশ পৃথকভাবে শহরের নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সামনে মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের উপস্থিতিতে আলাদা অনুষ্ঠান করেন।

খোরশেদের উদ্দেশ্যে তৃণমূল নেতারা বলেন, বড় গাছের উপর দিয়ে ঝড় যাবে, এটা স্বাভাবিক। আপনি ভাঙ্গবেন না। কর্মীরা পাশে আছি, থাকবো। সুযোগ সন্ধানের পায়তারা পড়েছে তারা। ভুল বুঝে ফের দলের পতাকা তলে আসবে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের দেশের সকল যুবদলের কাছে মডেল হয়ে আছে। সভাপতি খোরশেদ শুধু বিএনপি যুবদলের হিরো না, তিনি করোনা হিরো, তিনি বিদেশেও হিরো হয়ে আছেন। কর্মীদের মূল্যায়িত করে তাদের যথাস্থানে দিয়েছেন খোরশেদ সাহেব। কিন্তু অনেক পদ পেয়ে নিজের ক্ষমতা দেখানো জন্য দলের জীবনে দেখি নাই, তারা এখন ওয়ার্ড থানা বনে যাচ্ছে।

সূত্র বলছে, ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে সভাপতি, মনতাজ উদ্দিন মন্তুকে সাধারণ সম্পাদক, মনোয়ার হোসেন শোখনকে সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন শোখন, সাগর প্রধানকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রশিদুর রহমান রশোকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় ৫ মাস পর নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে এখনও তাদের অধীনে থাকা থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়নি।

জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে মহানগর যুবদলের অধীনে থাকা থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এই কমিটি গঠন নিয়েই নেতাকর্মীদের মাঝে বিপত্তি ঘটতে শুরু করছে। মহানগরের অধীনে থাকা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটি কমিটি গঠন নিয়ে সাধারণ সম্পাদক মনতাজ উদ্দিন মন্তু চাচ্ছেন তিনি নিজে আহবায়ক হতে। কিন্তু সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ চাচ্ছেন অন্য কাউকে এখানে আহবায়ক করতে।

আর এটা মেনে নিতে পারছেন না সাধারণ সম্পাদক মনতাজ উদ্দিন মন্তু। তিনি আলাদাভাবে পথ হাটতে শুরু করেছেন। প্রথমদিকে সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও সাধারণ সম্পাদক মনতাজ উদ্দিন মন্তু এক কাতারে ও এক মঞ্চে থাকলেও এখন আর তাদেরকে একসাথে দেখা যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে মতবিরোধ পরিলক্ষিত হচ্ছে। মনতাজ উদ্দিন মন্তু এখন খোরশেদের সাথে না গিয়ে কমিটি গঠনের প্রথম থেকেই বিপরীতে থাকা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর প্রধানের সাথে মিলে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার করছেন।

এদিকে গত ১০ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সুপার ফাইভের শীর্ষ ৫ নেতার সঙ্গে কমিটি গঠনের বিষয়ে বৈঠক করে কেন্দ্রীয় যুবদল। বন্দর, সদর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের কমিটি গঠনে খসড়ায় গড়মিল থাকায় পূণরায় কমিটি গঠনের জন্য নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দেন। কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্দেশ প্রতিটি থানা এলাকার যুবদল নেতাদের তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রে জমা দিতে হবে। তারপর কমিটি গঠন করা হবে। সেজন্য সুপার ফাইভের নেতাদের নিয়ে প্রতিটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহ ফরম বিতরণের জন্য মহানগর যুবদলের হাতে ফরম তুলে দেয় কেন্দ্রীয় যুবদল।

ওই বৈঠকে মহানগর যুবদলের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে বেশ তোপের মুখে পড়েন খোরশেদ। ওইদিন কেন্দ্রীয় নেতাদেরকে মহানগর যুবদলের তিন নেতা জানান, করোনাকালে মহানগর যুবদলের ব্যানারে খোরশেদ একটি কর্মসূচিও পালন করেননি। তিনি টিম খোরশেদ নামে ব্যক্তি প্রচারনায় ব্যস্ত ছিলেন। দীর্ঘ ৫টি মাস তিনি করোনাকালে কাজ করলেও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামটিও মুখে নেননি। আর এসকল বিষয় মিলিয়ে বর্তমানে কিছুটা চাপের মুখে রয়েছেন মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

তবে মহানগর যুবদলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, আমাদের মাঝে ব্যক্তিগত কোনো মতবিরোধ নেই। মতবিরোধ হচ্ছে সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে। যদি সকলেই দলীয় নীতির মধ্যে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আমাদের মাঝে কোনো মতবিরোধ থাকবে না। আবারও সকলেই একমঞ্চে ফিরে আসবে।

সূত্রঃ নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin