কোভিড-১৯ প্রতিরোধে গরুর মলমূত্র গায়ে মাখায় সতর্কবার্তা জানিয়েছেন ভারতীয় ডাক্তাররা

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

গরুর গোবর ও প্রস্রাব গায়ে মাখা এবং বিশ্বাস করা যে এই প্রক্রিয়ায় কোভিড-১৯ এর প্রতিরোধ সম্ভব ;এমন বিশ্বাস ও অপসংস্কৃতি চর্চার ব্যপারে সতর্কবার্তা ঘোষণা করেছেন ভারতীয় ডাক্তাররা। তাঁরা বলেছেন, “কোনরকম বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই যে গোঁ- মলমূত্র কোন রোগের বা করোনা মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে।

বরং এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। ভারতে করোনা ভাইরাসের তাণ্ডব বর্তমান। ইতোমধ্যে প্রায় ২২.৬৬ মিলিয়ন করোনা রোগী সনাক্তকরণ এবং প্রায় ২৪৬,১১৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত, এই সংখ্যা আসলে আরো ৫ বা ১০ গুন হতে পারে।

তাছাড়া দেশব্যাপী সকল জনগণ করোনা মোকাবিলায় প্রায় নাজেহাল অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতালে বেডের অভাব, অম্লজান বা অক্সিজেনের অভাব, পর্যাপ্ত ঔষধের অভাব এবং বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু চলছে নিরন্তর। ভারতের পশ্চিমে গুজরাটের রাজ্যে কিছু অন্ধ বিশ্বাসী প্রতি সপ্তাহে একবার গোঁ শালায় গিয়ে গরুর মলমূত্রের মিশ্রণ শরীরে মাখিয়ে দুধ ও পানির মিশ্রনে গোসল করছে এবং তারা আশাবাদী যে এই স্নান তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং করোনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।

হিন্দুস্তান তথা ভারতে, শত শত বছর ধরে গরু পবিত্রতার প্রতীক। গরুর মলমূত্রাদি ঘরবাড়ি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও প্রার্থনার উপকরণ হিসেবে দেখা হয়। তাছাড়া তাদের বিশ্বাস যে গরুর মলমূত্রে ভেষজ ও জীবাণুনাশক উপাদান বিদ্যমান। ” আমরা দেখেছি, অনেক ডাক্তাররাও এখানে আসে। তারা বিশ্বাস করে যে এই কর্মপন্থা তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তারা তখন নিশ্চিন্তে তাদের রোগীদের দেখাশোনা করতে যেতে পারে।

“- ঠিক এমনটাই বলেছেন গৌতম মনিশাল বারিসা ( এ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার) ফার্মাসিকিউটিক্যাল কোম্পানি। তিনি এও বলেন যে, আসলেই এই স্নানে গত বছর আমি কোভিড-১৯ থেকে প্রতিকার পেয়েছি। তারপর থেকে তিনি শ্রী “স্বামীনারায়ণ গুরুকুল বিশ্ববিদ্যা প্রাতিষ্টানাম ” নামে প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করছেন। উল্লেখ্য যে এই প্রতিষ্টানটি ভারতের যাইডাস ক্যাডিলিয়ার সদরে হিন্দু সন্যাসীর একটি স্কুল। এখানে তারা নাকি নিজেরাই করোনার প্রতিষেধক তৈরিতে কর্মতৎপর রয়েছেন।

যারা এখানে আসে, তারা গরুর মলমূত্রাদি মিশ্রিত দ্রবণ শরীরে মাখিয়ে রোদে যোগ ব্যায়ামের মত বসে অপেক্ষা করে শুকিয়ে আবার দুধ ও পানি মিশ্রিত দ্রবণের সাহায্যে ধুয়েমুছে নেয়। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে, ভারতীয় ও সারাবিশ্বের অন্যান্য ডাক্তার, বিশেষজ্ঞ ও বৈজ্ঞানিক সমাজ তাদের এই সংস্কৃতি চর্চার ব্যপারে সতর্কবার্তা জানিয়েছেন। এবং এও জানিয়েছেন যে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার্থে যেসব নিয়মনীতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে এর বাইরে এজাতীয় কর্মকাণ্ড পরিহারযোগ্য। এগুলো সম্পূর্ণভাবে ভ্রান্ত বিশ্বাস এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়া আর কিছুই না।

ভারতের জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার প্রেসিডেন্ট ড. জে.এ জয়লাল বলেছেন”এখন পর্যন্ত কোথাও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি যে, গরুর মলমূত্রাদি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে অথবা কোভিড-১৯ মোকাবিলায় কোনরকমভাবে সহায়ক। তিনি আরো বলেন,” এরকম কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বরং স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনাই বেশি। এর ফলে মানুষ ও অন্যান্য পশুপাখির মধ্যে নতুন করে নানারকম রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এছাড়া এই স্নানের জন্য যে জনসমাগম হয় তাতে করে করোনাসহ অন্যান্য রোগের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এদিকে আহমেদাবাদে মধুচরণ দাস নামে এক ব্যক্তি জানিয়েছে যে, তাদের গোঁ- শালায় সীমিত পরিসরে এই আয়োজন সম্পন্ন করা হয়।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin