কেমন জনপ্রতিনিধি চাই?

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

একটি সভ্যসমাজের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিনিধিত্বপূর্ণ সমাজব্যবস্থা। আর তাই প্রতিনিধিত্বমূলক সমাজ দিয়েই আল্লাহতায়ালা পৃথিবীতে মানবসভ্যতার সূচনা করেছিলেন। আদি পিতা হজরত আদম (আ.) ছিলেন মানবজাতির প্রথম প্রতিনিধি ও প্রথম নবী। যুগে যুগে মহান আল্লাহতায়ালা যত নবী ও রাসুল পাঠিয়েছেন, তাদের সবাইকেই সমকালীন মানবগোষ্ঠীর সর্বোত্তম গুণাবলির অধিকারী করে ওই সমাজের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

জনপ্রতিনিধি বিশাল জনগোষ্ঠীর সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বহন করেন। জনপ্রতিনিধির সামগ্রিক যোগ্যতা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার ওপর ভিত্তি করে সমাজ ও জাতির ভবিষ্যৎ নির্মিত হয়। সুতরাং জনপ্রতিনিধির বৈশিষ্ট্যগুণে যেমন একটি সমাজ ইতিহাসের স্বর্ণচূড়ায় আরোহণ করতে পারে, তেমনি তার ব্যর্থতা একটি জাতিকে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করতে পারে। সেজন্যই জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের গুরুত্ব সীমাহীন। অগ্রসরমাণ জাতির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে কী কী গুণ থাকা উচিত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলাম সেটি বাতলে দিয়েছে।

তাকওয়া বা আল্লাহভীতি : জনপ্রতিনিধি সর্বপ্রথম তাকওয়ার গুণে গুণান্বিত হওয়া আবশ্যক। আল্লাহভীতি ও তাকওয়া মুমিনকে সর্বদা নিজ কর্তব্য পালনে তৎপর রাখে। বৈধ-অবৈধতার সীমারেখায় তাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। কারণ মুত্তাকি বা আল্লাহভীরু ব্যক্তি ছোট-বড় সব কাজেই পরকালীন জবাবদিহির কথা চিন্তা করে। তাই আল্লাহভীরু, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিই জনপ্রতিনিধিত্বের সম্মানজনক আসনে সর্বাধিক উপযুক্ত। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘হে মানবমণ্ডলী! আমি তোমাদের একজন মাত্র পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তোমাদের বিভিন্ন দল ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিতি অর্জন করতে পারো। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সে, যে সবার চেয়ে বেশি মুত্তাকি।’ (সুরা আল-হুজুরাত, আয়াত : ১৩)

আমানতদারি ও ন্যায়পরায়ণতা : সাধারণত নির্বাচনী এলাকায় বসবাসকারী জনগণের কল্যাণে জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সরকারি-বেসরকারি সহায়তা ও অনুদান এসে থাকে। সুতরাং জনপ্রতিনিধি আমানতদার না হলে জনগণ বঞ্চিত হবে। এলাকায় কাক্সিক্ষত পর্যায়ের উন্নয়ন হবে না। ফলে জনপ্রতিনিধি আমানতদার ও ন্যায়পরায়ণ হওয়া অত্যাবশ্যক। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমানতকে তার উপযুক্ত প্রাপকের কাছে পৌঁছিয়ে দেবে। আর মানুষের মধ্যে যখন কোনো বিষয়ে বিচার-ফয়সালা করবে, তখন অবশ্যই ইনসাফের ভিত্তিতে করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন। আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও দেখেন।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৫৮)

আনাস (রা.) বলেন, ‘এমন খুব কম হয়েছে যে, নবী (সা.) ভাষণ দিয়েছেন অথচ তাতে এ কথা বলেননি, যার মধ্যে আমানতদারি নেই তার ইমান নেই। আর যার মধ্যে প্রতিশ্রুতি রক্ষার নিয়মানুবর্তিতা নেই, তার ধর্ম নেই।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১২৪০৬)

চরিত্র ও ব্যবহারে মানোত্তীর্ণ হওয়া : এক হাদিসে আছে একবার মহানবী (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহপ্রদত্ত নেয়ামতগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম কোনটি? তখন রাসুল (সা.) বলেন, উত্তম চরিত্র। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৩২৯)

জনপ্রতিনিধি অবশ্যই উন্নত চারিত্রিক গুণাবলির অধিকারী হওয়া চাই। কারণ চরিত্রহীনকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ঘৃণা করে। আল্লাহতায়ালাও তাকে পছন্দ করেন না। মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুল (সা.) আমাকে ইয়েমেনের গভর্নর হিসেবে পাঠানোর সময় শেষ অসিয়ত হিসেবে বলেন, ‘তুমি অবশ্যই তোমার চরিত্র সুন্দর করবে। কারণ মানুষের মধ্যে যার চরিত্র বেশি সুন্দর, সে দ্বীনদারির দিক থেকেও তাদের মধ্যে উত্তম।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২১৯৮৯)

হৃদয়বান ও জনদরদি হওয়া : জনপ্রতিনিধি আন্তরিক, হৃদয়বান ও জনদরদি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ জনপ্রতিনিধি যদি জনতার প্রতি ভালোবাসা না রাখে, জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক যদি বন্ধুত্বপূর্ণ না হয়Ñ তাহলে তার মাধ্যমে জনগণের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয়। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, অনুগ্রহকারী ও দয়াবানদের ওপর দয়াময় আল্লাহ করুণা ও অনুগ্রহ বর্ষণ করেন। সুতরাং জমিনের অধিবাসীদের ওপর তোমরা দয়া করো, তাহলে আসমানওয়ালা আল্লাহ তোমাদের ওপর দয়া করবেন। (বুখারি ও মুসলিম)

জনসেবার মন-মানসিকতা থাকা : জনসেবার মানসিকতা জনপ্রতিনিধির আবশ্যিক অনুষঙ্গ। জনগণের সেবা করতে না পারলে তাদের নেতা হওয়ার কোনো সার্থকতা নেই। আরবিতে বিখ্যাত প্রবাদ রয়েছে, ‘আমিরুল কওমি খাদিমুহুম’। অর্থাৎ জাতির নেতা তিনি, যিনি তাদের সেবক। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ও নবী হয়েও রাসুল (সা.) জীবনভর উম্মতের সেবা করে গেছেন। সাহাবায়ে কেরামও (রা.) রাসুল (সা.)-এর এ শিক্ষা-আদর্শ লালন করেছিলেন। ফলে তাদের শাসনামলে জনসাধারণ উন্নত জীবনযাপনের পাশাপাশি নিরাপত্তা, শান্তি-সুখ ও সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছে ছিলেন।

উদার, মহৎ ও ক্ষমাশীল হওয়া : জনগণের প্রতি উদার, মহৎ ও দয়ার্দ্র হওয়া জনপ্রতিনিধির একটি আবশ্যিক গুণ। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘হে নবী! এটা আল্লাহর সবচেয়ে বড় অনুগ্রহের বিষয় যে, আপনি এসব লোকের জন্য খুবই নম্র স্বভাবের হয়েছেন। আপনি যদি উগ্র স্বভাব ও পাষাণ হৃদয়ের হতেন, তবে এসব লোক আপনার চারপাশ থেকে দূরে সরে যেত, অতএব তাদের ক্ষমা করে দিন। তাদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করুন এবং ইসলামের কাজকর্মে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। অবশ্য কোনো বিষয়ে আপনার মতো সুদৃঢ় হয়ে গেলে আল্লাহর ওপর ভরসা করুন। বস্তুত আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন যারা তার ওপর ভরসা করে কাজ করে।’ (সুরা আলে ইমরান : আয়াত ১৫৯)

জিজ্ঞাসিত হওয়ার ভয় : দায়িত্বশীলতা ও আমানত পূর্ণাঙ্গভাবে রক্ষা প্রত্যেকের জন্য ফরজ। অবহেলা করলে কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে জবাবদিহি হতে হবে। জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে জনগণ সেবা-সহযোগিতা না পেলে তাকে পরকালে অপরাধী হিসেবে শাস্তি পেতে হবে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যককে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৮৪৪)

সৎও নিষ্ঠাবান হওয়া : সব সময় সত্য বলা ও সত্য সাক্ষ্য দেওয়া ফরজ ইবাদত। ইসলামে এটি জরুরি কর্তব্য বলে পরিগণিত। চিন্তাচেতনা,

সূত্রঃ দেশ রুপান্ত

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin