কেউ যদি কিছু করতে চায় তাহলে পেছন থেকে টান দেয় : সেলিম ওসমান

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান বলেছেন, ‘আমার খুব কষ্ট হয় ওনাকে (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্মোধন করে বক্তব্য দিতে। কারণ আমি সব সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আপা বলে ডাকতাম। সবগুলো সভাতেই আমি আপা বলে ডাকতাম। সংসদে গেলেও আমি কম সময়ে থাকতাম ও বেরিয়ে চলে আসতাম। আর আমার সঙ্গে কথাই ছিল যদি কিছু চাইতে পারি সরাসরি যেন চাই। আমাদের অনেক জুনিয়ররা বিভিন্ন আসনে বসে আছেন। বিষয়টি আমি একদিন প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম। তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন ‘এখানে তোমার আপা আছেন’। তাছাড়া কারণ আপা ডাকলে আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।’

সেলিম ওসমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এসেছিলেন। বন্দরের ডকইয়ার্ডে উন্নয়নের জন্য সেদিন তিনি নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। সভাতে শামীম ওসমানকেও অ্যালাউ করেনি। তখন আমি ছিলাম চেম্বারের সভাপতি। মিডিয়ার লোকজনও ছিলেন না। শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন নারায়ণগঞ্জ হারিয়েছে, কি ছিল এক সময়ে। তখন তিনি নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের একত্রিত হওয়ার তাগিদ দিয়েছিলেন। সে নির্দেশ মোতাবেক আমরা একত্রিত আছি। যদিও কদাচিৎ ব্যবসায়ীরা রাজনীতির কারণে আলাদা সংগঠন করেন। তবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে দূরত্ব কমে আসছে।’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প আর কেউ হবে না। তাই উনার জন্য সকলেই দোয়া করবেন। উনি যে তৎক্ষনাত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন, এটা আমার মনে হয় না অন্য কেউ পারবেন। তিনি বাংলাদেশের এমন একজন নেতা, মেহনতি মানুষের নেতা। যার ফর্মূলা অনুসরণ করে পৃথিবীর অনেক দেশেই এখন কাজ করছে। বিশ্বব্যাপি তিনি নানা পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছেন।’

নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল প্রসঙ্গে সেলিম ওসমান বলেন, কাজল দীর্ঘদিন আমার সঙ্গে চলাফেরা করছে। আমার দৃষ্টিতে সে সাকসেস হয়েছে। সে সহকর্মী পেয়েছে অনেক। অনেক নেতা তৈরি করেছেন। লোক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। কিন্তু কেউ যদি এগিয়ে যেতে চায় তাহলে দেখা যায় কিভাবে পেছন থেকে টেনে ধরা যায়। এটা নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিনের অভ্যাস। কেউ যদি কিছু করতে চায় তাহলে পেছন থেকে টান দেয়, পাঞ্জাবি ধরে টান দেয় যাতে এগিয়ে যেতে না পারে। যারা আমরা ক্ষমতায় আছি তারাও এটা করছে।’

সেলিম ওসমান বলেন, আমরা বস্ত্র ও পাট হারিয়েছি। খুলনাতে ঠিকই পাটের ব্যবসায় আছে। নারায়ণগঞ্জে বার অ্যাসোসিয়েশনের ভবন হয়েছে, ৭ তলা কলেজ হয়েছে, প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একটি করে স্কুল করা সম্ভব। আমরা যদি অপরাজনীতি না করি, পায়ে পা না দিয়ে ঝগড়া করি তাহলে অনেক কিছুই সম্ভব। আলোচনা ছাড়া কিছুই সম্ভব না। আলোচনায় বসলে সব কিছুই সম্ভব।’

সেলিম ওসমান বলেন, ‘২০২১ সালকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের এক ছাতার নিচে আরো দৃঢ় হতে হবে। সারা দেশের মধ্যে একমাত্র নারায়ণগঞ্জেই এক ছাতার নিচে ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। এটাকে আরো শক্ত ও নিয়মিত করতে হবে।’

২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী, ইয়ার্ন মার্চেন্টের সাবেক সভাপতি এম সোলায়মান, বিকেএমইএ এর সাবেক সভাপতি মো. হাতেম, বাংলাদেশ ক্লথ মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রবির সাহা, পাবলিক প্রসিকিউটর ওয়াজেদ আলী খোকন, সাবেক নারী সংরক্ষিত এমপি হোসনে আরা বাবলী, বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএ রশিদ, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, জেলা আইনজীবী সমিতি`র সাবেক সভাপতি হাসান ফেরদাউস জুয়েল, বর্তমান সভাপতি মো. মোহসিন মিয়া প্রমুখ।

সূত্রঃনিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin