কীভাবে বুঝবেন গ্যাস বের হচ্ছে

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন তিতাসের গ্যাস গ্রাহকরা। সারা বছরের খোঁড়াখুঁড়িতে আর বহু বছরের পুরানো লাইনে ছোটো-বড় দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের ১২টি জেলায় গ্যাস সরবরাহ করে থাকে। এই ১২ জেলায় তিতাসের প্রায় সাড়ে ২৮ লাখ গ্রাহক রয়েছে।

এসব গ্রাহকের বড় অংশই জানেন না পাইপলাইন বা গ্যাস ব্যবহারের কোনো সমস্যা দেখা দিলে কী করতে হবে, কোথায় ফোন দিতে হবে। এ নিয়ে তিতাস গ্যাসেরও বড় রকম কোনো প্রচার প্রচারণাও নেই।দেশের পাইপলাইনে যে গ্যাস সরবরাহ করা হয়, তা নাকে গেলে হালকা গন্ধ পাওয়া যায়। পাইপলাইন ছিদ্র হওয়া ছাড়াও গ্যাস নানাভাবে বের হয়ে আসতে পারে। এর মধ্যে একটি হলো নিম্নমানের চুলা ও চুলায় ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাইপ থেকে গ্যাস বের হয়ে থাকে।

তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা বলছেন, কোথাও গ্যাস বের হলে বাতাসে গন্ধ পাওয়া যায়। তবে সেটি তীব্র নয়। অনেকে এটি বুঝতেও পারেন না। পাইপলাইন ছিদ্র হয়ে গ্যাস বের হলে সেখানে যদি পানি থাকে তাহলে বুদবুদ দেখা যায়। এভাবেও বোঝা যায় গ্যাস বাইরে চলে আসছে। এ ছাড়া অনেক স্থানে নির্মাণকাজ করতে গিয়েও পাইপলাইন ছিদ্র করে ফেলে।কর্মকর্তারা বলছেন, বড় আকারে গ্যাস বাইরে এলে শোঁ শোঁ শব্দ হয়।

কিন্তু ছোট আকারে ছিদ্র হলে গ্যাস যে পরিমাণ বের হয়, তা অনেক সময় বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এ ধরনের কোনো চিহ্ন ও গন্ধ পেলে সঙ্গে সঙ্গে তিতাসের হটলাইনে কল করা উচিত গ্রাহকের। তাদের বক্তব্য হটলাইনটি দিনরাত সব সময় খোলা থাকে।তিতাস গ্যাস কোম্পানি এলাকায় যেকোনো তথ্য অনুসন্ধান বা অভিযোগের জন্য ১৬৪৯৬ এই হটলাইন নম্বরে কল করা যাবে। এই নম্বরটিতে কল করলে রাত–দিন ২৪ ঘণ্টার যেকোনো সময় সেবা পাওয়া যাবে। ঢাকার জন্য জরুরি সেবা দিতে ২৪টি ‘ইমার্জেন্সি’ টিম রাখা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের মসজিদে দুর্ঘটনার পর সাম্প্রতিক সময় তিতাসের হটলাইন নম্বরে কল দেওয়ার হার বেড়ে গেছে। প্রতিদিন এখন গড়ে ৩০০ কল আসছে খোদ রাজধানী এলাকায়।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী মো. আল-মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের একটি কেন্দ্রীয় হটলাইন নম্বর আছে, যেখানে কল করলে দিন–রাতের যেকোনো সময় সেবা পাওয়া যায়। এ ছাড়া আঞ্চলিক অফিসগুলোর পৃথক নম্বরও রয়েছে। এসব তথ্য আমাদের ওয়েবসাইটে রয়েছে। এ ছাড়া গ্রাহকের সুবিধার্থে আমরা আরও বড় রকম প্রচার–প্রচারণায় যাওয়ার কথা ভাবছি।’তিতাস গ্যাসের অনেক এলাকার লাইনের বয়স ৫০ বছর পেরিয়ে গেছে। জীর্ণ এসব পাইপলাইনের মাধ্যমে ঢাকার বহু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। তিতাস কর্মকর্তারা ঠিকমতো বলতেও পারেন না মাটির কত নিচে এবং কোথায় পাইপলাইন রয়েছে। ফলে প্রায় বিদ্যুৎ, টেলিফোন, ঢাকা ওয়াসাসহ বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে মাটির নিচের পাইপলাইন ছিদ্র করে ফেলছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিতাস ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে তিতাস উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব (ডিপিপি) পেট্রোবাংলায় জমাও দিয়েছে। এ প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে ঢাকায় ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি হবে তিতাসের। এ ছাড়া ১২৩টি স্থান থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। এসব স্থানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানা যাবে কোথায় গ্যাসের কতটুকু চাপ রয়েছে, পাইপলাইনের অবস্থার খোঁজও জানা যাবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২ থেকে ২০ ইঞ্চি পুরোনো পাইপলাইনের পরিবর্তে নতুন পাইপলাইন স্থাপন করা হবে।

সূত্রঃ সময় নিউজ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin