কিভাবে তল্লা মসজিদে আগুনের সূত্রপাত?

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জের বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ দুর্ঘটনা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), অ্যান্টি টেরোরিস্ট স্কোয়াড, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) বেশ কয়েকটি সংস্থা।

যে পরিমাণ গ্যাস জমা হলে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে সে পরিমাণ গ্যাস জমা হলে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারতেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বৈদ্যুতিক লাইন বদল করতেই মসজিদে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মসজিদের জন্য ব্যবহার করা হতো দুটি বিদ্যুতের ফিডারের লাইন। অর্থাৎ এক ফিডারের বিদ্যুৎ চলে গেলে সার্কিট বা মেইন সুইচ বদল করে অন্য ফিডারের লাইন ব্যবহার করা হতো।

শুক্রবার এশার নামাজের ফরজ আদায়ের ঠিক পরপরই বিদ্যুৎ চলে যায়। মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (এ ঘটনায় মারা গেছেন) নিচ তলার এক কোণে থাকা মেইন বিদ্যুতের লাইনের বক্সের সামনে যান এবং তিনি সুইচ দিয়ে অপর ফিডারটি চালু করতেই স্পার্কিং হয়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

এ সময় মসজিদের সঙ্গে থাকা বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারটিও বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এলাকার বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগ নেতা সামসুজ্জামান ভাসানীসহ বেশ কয়েকজন।

পুলিশের বিশেষ শাখার কয়েকজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা জানান, এসি বিস্ফোরণের কিছু নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- এসির পাওয়ার সঠিক ব্যবহার না করা, এসির কনডেনসারে ময়লা থাকলে কম্প্রেসারে হাই টেম্পারেচার ও হাই প্রেশার তৈরি হওয়া এবং সঠিক রেটিংয়ের সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার না করা।

৬টি এসির একটির মধ্যে সার্কিট ব্রেকারের দেখা পাইনি। তারা জানান, আমাদের ধারণা, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর মুয়াজ্জিন আরেকটি ফিডারের বিদ্যুৎ লাইন চালু করার সঙ্গে সঙ্গে ভোল্টেজের কারণে একই সঙ্গে ছয়টি এসির শর্ট-সার্কিট হয়ে থাকতে পারে।

ফলে এসির ইনডোরের গ্যাসে আগুন লেগে যায় এবং আউটডোরের কম্প্রেসারে থাকা বিপুল পরিমাণ গ্যাস প্রচুর – বেগে নির্গত হতে থাকে যা চারপাশে অগ্নিকা- ও ওয়েভ প্রেসারের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তারা আরও বলেন, পাশাপাশি মসজিদের অভ্যন্তরে লিকেজ লাইন থেকে বিপুল পরিমাণ মিথেন গ্যাস নির্গত হওয়ায় এ আগুনকে শতগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করছি।

তারা বলেন, গ্যাসের কারণে এতবড় বিস্ফোরণ ঘটেছে তা বলা যাবে না। এছাড়া যদি এতই গ্যাসের রিজার্ভ থাকত তাহলে সেটা তো মাগরিবের সময়ে কিংবা এশার আগে দরজা খোলার কারণে বের হয়ে যেত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলামতের ব্যালাস্টিক টেস্টের আগে বলা যাচ্ছে না আগুনের মূল কারণ কী? গ্যাস ছাড়া অন্য কোনো দাহ্য বা বিস্ফোরক পদার্থ ছিল কিনা তা তদন্তে জানা যাবে।

সূত্রঃ নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin