করোনা হিরো খোরশেদ ফের বিএনপিতে

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

টানা ৫ মাস রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় থাকলেও করোনার সময়ে সবচেয়ে বেশী সক্রিয় ছিলেন সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ যিনি মহানগর যুবদলের সভাপতি। বড় ভাই তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। এক সময়ে বাম রাজনীতিতে গড়ে উঠা খোরশেদ এখন বিএনপির ‘সম্পদ’ হয়ে উঠেছেন মনে করছেন খোদ দলের নেতাকর্মীরা যারা প্রকাশ্যে তাঁর বিরোধীতাও করেন।

করোনার সময়ে খোরশেদের কর্মকান্ডে যখন দেশের গন্ডি ছেড়ে বিশ্বমিডিয়াতেও মাতামাতি তখন তার সেই অর্জনকে লুফে নেয় বিএনপি। যদিও স্ত্রী আফরোজা আক্তার লুনা যখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি তখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খোঁজ খবর নিলেও সেটা মিডিয়াতে প্রকাশ্যে কাপূর্ণ্য বোধ করেন খোরশেদ যিনি বিগত আন্দোলনের সময়ে খালেদা জিয়া ফোন করে উৎসাহ দেওয়ার অডিও ছড়িয়ে নিজেকে জাহির করেছিলেন।

করোনার ভয়াবহতা এপ্রিল থেকে বাড়তে শুরু করলে দাফন, সৎকার থেকে শুরু করে সবকিছুতেই এগিয়ে ছিলেন খোরশেদ। তখন থেকেই তিনি রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে থাকেন। প্রচারণা করেন ব্যক্তি খোরশেদের। আর অল্পদিনেই বনে যান ‘করোনা হিরো’ আর ‘করোনা বীর’ সহ নানা উপাধিতে।

সেই খোরশেদ ৫ মাস পর ফের রাজনীতিতে সক্রিয়য়। এরই মধ্যে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের উদ্যোগে বন্দর থানার বিভিন্ন পূজা মন্ডপে ৮০০ অসহায় হিন্দু পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

২৩ অক্টোবর শুক্রবার এগুলো বিতরণ করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

এ সময় বিভিন্ন মন্ডপে উপস্থিত দর্শনার্থী এবং দুস্থ পরিবারগুলির উদ্দেশ্যে মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে আপনাদেরকে আনন্দ উৎসবে শরিক হওয়ার জন্য এসেছি। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সব সময় আপনাদের পাশে আছি এবং মনে রাখতে হবে হিন্দুধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেদের সবচেয়ে আপনজন হচ্ছে বিএনপি এবং তার নেতাকর্মীরা। আমরা অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পূর্ণাঙ্গ মুক্তি এবং দেশের অবরুদ্ধ গণতন্ত্রের মুক্তি চাই।

এদিকে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন পূজা মন্ডপে দিনব্যাপী খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

২৪ অক্টোবর শনিবার সকালে গলাচিপা এলাকার শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দিরে বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

এরপর একে একে রামকানাই আখড়া, আমলাপাড়া বালাজি জিউর মন্দির, নিতাইগঞ্জ বলদেব মন্দির, তামাকপট্টি সার্বজনীন মন্ডপ, রবিদাস পাড়া, ইসদাইর পৌর সেবক কলোনী ও টানবাজার পৌর সেবক কলোনীতে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এভাবে পূজা চলাকালিন সময়ে বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে ২ হাজার পরিবারের মাঝে এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ চলবে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের পরিচালনায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণের সহযোগিতায় ছিলেন বিএনপি নেতা আনোয়ার মাহমুদ বকুল, জয়নাল আবেদীন, মহানগর যুবদলের সহ সভাপতি রানা মজিব, দপ্তর সম্পাদক শওকত খন্দকার, শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত মোদক, সহ সভাপতি তপন মোদক, সহ সম্পাদক মন্টু মোদক, দিলীপ মোদক, প্রচার সম্পাদক কমল মোদক সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এসময় মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, আমাদের সামর্থ্য কম অনেক কিন্তু ইচ্ছা করে অনেক। তারপরেও আমরা বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ এবং নারায়ণগঞ্জ তিন থানা মিলে বিভিন্ন মন্ডপে ২ হাজার পরিবারের মাঝে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। আমাদের এই ক্ষুদ্র সহযোগিতা আপনারা দয়া করে গ্রহণ করলে কৃতজ্ঞ থাকবো। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আছে তার জন্য প্রার্থণা করবেন। আর আমাদের যুবদলের ৪২ তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষ্যে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশ আপনাদের সুখে দুঃখে শরীক হওয়ার চেষ্টা করেছি।

প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জে বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে অপরিহার্য নেতাদের নেতাদের একজন মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। হরতাল, অবরোধ সহ সরকার বিরোধী প্রত্যেক আন্দোলনের কাকডাকা ভোর থেকেই রাজপথ কাঁপাতেন এ নেতা। আর এসব আন্দোলনের কারণে গ্রেপ্তার হয়েছেন বহুবার। প্রত্যেক বছরই একটি বড় সময় কেটেছে কারাগারে। খোদ বিরোধী পক্ষও অকপটে স্বীকার করেন, খোরশেদ আন্দোলন সংগ্রাম ছিলেন।

কিন্তু যে রাজনীতিতে খোরশেদের উত্থান সেই বিএনপির সঙ্গেই কিছুটা বৈরিতা দেখাতে শুরু করেন খোরশেদ। করোনার সময়ে নানাবিধ কর্মকান্ড করে দেশের গন্ডি ছেড়ে যখন আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও আলোচিত খোরশেদ তখন রাজনীতির মোহে আর তিনি আচ্ছন্ন না। স্বপ্ন দেখছেন ব্যক্তি হিসেবেই মানুষের মধ্যে থাকা!

খোরশেদ একটি প্রভাবশালী মহলের ‘পুতুল’ হয়ে রাজনীতি থেকে দূরে থেকে নিজ শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আগানোর চেষ্টা করছিলেন। মহলটির টার্গেট যে কোন মূল্যে আগামীতে বর্তমান মেয়রকে হটিয়ে যে কাউকেই ওই কাংখিত চেয়ারে পদায়িত করতে। সে হিসেবে এক সময়ের তুখোড় রাজনীতিক এখন ‘সামাজিক হিরো’ খোরশেদ হলে পরিকল্পনার ১৬ ধাপের ১০ ভাগই সম্পন্ন হয়ে যায়।

তাছাড়া করোনার সময়ে খোরশেদের মত কাজ যেহেতু কেউ করতে পারেনি সেহেতু সেই কাজের মূল্যায়নকে সামনে এনেই একজন মানবিক মানুষ হিসেবেই ভোট চাইতে হতে পারে তাকে। এ ক্ষেত্রে খোরশেদ নাগরিক প্রার্থী হতে পারেন মনে করছেন অনেকেই।

বিএনপির রাজনীতি থেকেও খোরশেদের প্রাপ্তি কম না। বিগত আন্দোলন সংগ্রামের সময়ে দলের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বার বার তাঁকে ফোন করে উৎসাহ দিয়েছেন। সবশেষ সম্প্রতি যখন খোরশেদের স্ত্রী আফরোজা আক্তার লুনা করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সুদূর লন্ডন থেকে খোঁজ নিয়েছেন তারেক রহমান।

কিন্তু বিষয়টি কখনোই মিডিয়ার সামনে আনেননি খোরশেদ। কারণ তিনি তো হাঁটছেন ব্যক্তি মানবিক খোরশেদ হিসেবে জনসমর্থন আদায়ে, জনগণের হৃদয়ে থাকতে। দল মতের ঊর্ধ্বে একজন খোরশেদ হিসেবে নারায়ণগঞ্জবাসীর হৃদয়ে যে স্থান করে নিয়েছেন সেটাইকে অক্ষুন্ন রাখতেই খোরশেদের এ প্রয়াস আর সে কারণেই এখন আর মুখে আনছেন না তারেক রহমানের নামও।

যদিও খোরশেদকে ইতোমধ্যে যুবদলের ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে। খোরশেদের ঘনিষ্ঠজনদের মতে, বিএনপি বা যুবদলের নাম থাকলে করোনার সময়ে হয়তো বেশীদূর আগাতে পারতেন না খোরশেদ। কিন্তু নাম ব্যবহার করলেও যে একটি মানবিক বিপর্যয়ের সময়ে খোরশেদ অনুজ্জল থাকতেন সেটাও প্রতীয়মান না। বরং দুটি পথেই নিজেকে শক্তিশালী করতে পারতেন এ করোনা হিরো কিংবা করোনা বীর খ্যাত খোরশেদ।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহযোগিতা ও তাদের সান্তনা দেয়ার জন্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আসে। ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে তারা ঘটনাস্থলে আসেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান। বক্তৃতা দেয়ার শেষ পর্যায়ে উপস্থিত বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে বিভিন্ন নেতাদের নাম বলে এক পর্যায়ে মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে এমনিতেই আপনারা সবাই চিনেন। তাকে সারাদেশের মানুষ চিনে। তাকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে না।

নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির পরেই প্রথমবারের মত হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে গণমাধ্যমে আলোচনায় চলে আসেন খোরশেদ। ক্যামিস্ট বন্ধুদের সহযোগিতায় উপকরণ ক্রয় করে ৩০ হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার যখন তৈরির উদ্যোগ নেন তখন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে তাঁর কাছ থেকে কৌশল রপ্ত করতে ভীড় করেন। নিজ কার্যালয়ে বিতরণের পর ওয়ার্ডের সবগুলো এলাকাতে নিজ উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ শুরু হয়।

সেই সাথে খোরশেদ ঘোষণা দেন নারায়ণগঞ্জে করোনা উপসর্গ কিংবা এ রোগে কেউ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে দাফনের ব্যবস্থা করবেন। এরপর থেকেই তিনি একের পর এক লাশের কাফন দাফন সম্পন্ন করে চলছেন। নিজ ধর্মালম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মালম্বীদেরও লাশের সৎকার করে যাচ্ছেন মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। যা নিয়ে দেশের পাশাপাশি বর্হিবিশে^ও আলোচনায় চলে আসে। তাকে নানা উপাধিতে ভূষিত করা হয়। কেউ বলছেন, ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ কেউ বলছেন ‘হিরো অব করোনা’।

মাকসুদল আলম খন্দকার খোরশেদকে নিয়ে স্ট্যাটাস দেন ডাচ রাজনীতিবিদ জোরাম জারন ভ্যান ক্লাভেরেন। তিনি ফ্রিডম পার্টির সদস্য হিসাবে তিনি ২০১০ সালের ১ জুন থেকে ২০১৪ সালের ২১ মার্চ অবধি নেদারল্যান্ডের একজন সংসদ সদস্য ছিলেন।

এই করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জবাসীর হৃদয়ের গভীরে জায়গা করে নিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। করোনাকালিন সময়ে মাকসুদল আলম খন্দকার খোরশেদের অনেক বেশি সক্রিয়তা লক্ষ্য গেছে। করোনা সংক্রমের শুরুতেই তিনি ঘোষণা দেন করোনা রোগে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ কাফন দাফন করবেন। এরপর থেকেই তিনি একের পর এক লাশ কাফন দাফন করে যান যা এখনও বলবৎ রয়েছে। খোরশেদের এই তৎপরতা চোখে পড়ে নাগরিকবাসীদের। সকলেই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে তাকে বিভিন্নভাবে উপাধিতে ভূষিত করেন।

সূত্রঃপ্রেস নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin