“করোনা ভাইরাস, শিশুদের উপর প্রভাব এবং আমাদের করণীয়”

শেয়ার করুণ

বর্তমান সময়ে যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে তাহলো কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস। এমনকি গণমাধ্যমের শিরোনামেও প্রাধান্য বিস্তার করেছে এই ভাইরাসটি। এটি এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস মানুষের মধ্যে আগে কখনো ছড়ায়নি।

এটি শুধুমাত্র বাংলাদেশেই ছড়ায়নি বরং এশিয়া সহ এশিয়ার বাইরেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। যার উৎপত্তি ঘটে চীন থেকে ২০১৯ সালের শেষের দিকে। এই ভাইরাসকে বলা হচ্ছে ছোয়াছে মারাত্মক ব্যাধী। যা মহামারী রুপে ছড়িয়ে পড়ে অচল করে দিয়েছে সারা বিশ্বের, শিক্ষাখাত, শিল্প খাত, উন্নয়ন খাত সহ সকল কর্ম ব্যবস্থা। কোভিড-১৯, নতুন এই রোগটিকে প্রথমদিকে নানা নামে ডাকা হচ্ছিল যেমন- ২০১৯ এনকভ, চায়না ভাইরাস, নতুন ভাইরাস, রহস্য ভাইরাস, করোনা ভাইরাস ইত্যাদি। এ বছরের ফ্রেবুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটির আনুষ্ঠানিক নাম দেয় কোভিড-১৯ যা ‘করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯’ এর সংক্ষিপ্ত রুপ। এই ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারে যে কোন বয়সের মানুষই। সাধারণত যারা বয়স্ক ও আগে থেকে অসুস্থ তাদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস মারাত্মক হতে পারে।

তবে শিশুদের উপর এই ভাইরাসের প্রভাব তুলনামূলক ভাবে একটু কম। কিন্তু পরোক্ষভাবে শিশুদের এই ভাইরাসের প্রভাব রয়েছে। বাংলাদেশে এই ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল এ বছরের মার্চের দিকে। সরকার দেশের মানুষকে সুস্থ রাখার প্রয়াসে প্রথম দিকে লকডাউনের সিদ্ধান্তে উপনীত হন। যার প্রেক্ষীতে শিক্ষা কার্যক্রম একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ দিন যাবৎ বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে দরিদ্র শিশুদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের প্রভাব আরও বেশি। দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারনে তারা মানুষিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। বিশেষ করে শহরের শিশুদের বেশি কষ্টে রয়েছে। কেননা গৃহবন্দীর কারণে তাদের শারীরিক ও মানষিক বিকাশ তরান্বিত হচ্ছে। শিশুবীদরা বলেছেন, “প্রতিটি শিশু মানুষিকভাবে ভেঙে পড়েছে।” ইতোমধ্যেই করোনার “সেকেন্ড ওয়েভ” দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি দাবি করেছেন করোনা সংক্রমনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে শিশুদের হৃদযন্ত্র। ফলে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে শিশুদের।

যা চিকিৎসক ও অভিভাবকদের চিন্তার বিষয়। ২৮ আগষ্ট জামা পেডিয়াট্রিক্স এর ডিজিটাল সংস্করনে প্রকাশিত একটি গবেষনার রিপোর্ট একদল বিজ্ঞানী দাবি করেছেন প্রায় তিন সপ্তাহ পর্যন্ত কোনও উপসর্গ ছাড়াই শিশুর শরীরে ঘাপটি মেরে থাকতে পারে করোনা ভাইরাস। এই গবেষনায় আরও দাবী করা হয়েছে, করোনা শিশুদের তেমন ক্ষতি করতে না পারলেও তাদের নিঃশব্দে সংক্রমিত করে তুলছে। এসব শিশুদের থেকে অন্যরাও সংক্রমিত হচ্ছে।

আজকের শিশু আগামীদিনের ভবিষ্যত নাগরিক। সম্পদশালী জাতি গঠনের পূর্বশর্ত হলো সুস্থ ও সবল শিশু। শিশুদের যোগ্য নাগরিক রুপে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন সুষম শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক বিকাশ সাধন। সর্বস্তরের শিশুদের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ, শিক্ষাদান, ব্যক্তিত্ব গঠন ও সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের মাধ্যমে সম্পদশালী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। আর একারনেই অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো শিশুদের প্রতি নিবিড় পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণ।

লেখক: প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

নিউজটি শেয়ার করুণ